বাংলাদেশের নারী ফুটবলে নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা। প্রথমবারের মতো এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজশাহী স্টার্স। গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে চলছে দলের প্রস্তুতি। এই ঐতিহাসিক অভিযানে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমারও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনও ক্লাবের হয়ে নয়, এএফসির এই টুর্নামেন্টে তিনি খেলবেন মিয়ানমারের আয়ইয়াওয়াদি এফসির হয়ে।
রাঙামাটি থেকে উঠে আসা এই ফরোয়ার্ড আগে থেকেই মিয়ানমারের নারী লিগে আয়ইয়াওয়াদি এফসির হয়ে খেলছেন। ফলে রাজশাহী স্টার্সের হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি তার।
এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে ঋতুপর্ণা বলেছেন, ‘আমি আগে থেকে মিয়ানমারের ক্লাবের হয়ে চুক্তিবদ্ধ স্থানীয় লিগ খেলার জন্য। এরপর এএফসির লিগেও খেলবো। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রাজশাহীর হয়ে খেলা হয়নি।’
মিয়ানমার লিগে আয়ইয়াওয়াদি এফসির হয়ে ইতোমধ্যে প্রথম পর্ব শেষ করেছেন ঋতুপর্ণা। ৯ ম্যাচে করেছেন দুটি গোল, পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্টও রয়েছে। দলে রয়েছেন জাপানি কোচ। ফিলিপাইনের বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একাদশে নিজের জায়গা তৈরি করে খেলেছেন তিনি।
মিয়ানমারের লিগে খেলে দারুণ খুশি বাংলাদেশের এই পোস্টার গার্ল। সেখানকার ফুটবলের পেশাদার কাঠামো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের চেয়ে মিয়ানমারের লিগ হাজার গুণ ভালো। এখানকার সব ক্লাব পেশাদার। ১০ দলের মধ্যে অধিকাংশতে বিদেশি খেলোয়াড় রয়েছে। সবার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হচ্ছে। সবকিছু পেশাদার দৃষ্টিতে দেখা হয়। আমি এখানে এসে অনেক কিছু শিখতে পারছি।'
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে খেলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন ঋতুপর্ণা। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মিয়ানমারের ক্লাবটিতে আরও বিদেশি খেলোয়াড় যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিয়ে ঋতু জানালেন, ‘এএফসির লিগের জন্য জাপান ও অন্য দেশ থেকে আরও বিদেশি আসছে, আমিও খেলবো। সেরকম কথাই হয়েছে। আশা করছি ভালো কিছু হবে। তবে দেশের ক্লাবের হয়ে খেলতে পারলে ভালো হতো, ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারতাম। তাদের জন্য শুভকামনা।’









