ফিফা উইন্ডো, এশিয়ান কাপ ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শতভাগ শারীরিক ফিটনেস নিশ্চিত করা গেলে যেকোনো বড় প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডুলি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য বড় পরীক্ষা। এই টুর্নামেন্টে আমরা নিশ্চিতভাবেই আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামবো। তবে আন্ডারডগ হওয়ারও একটা ইতিবাচক দিক আছে; সেরা প্রমাণ করার চাপ থাকবে প্রতিপক্ষের ওপর। আর আমাদের লক্ষ্য থাকবে মাঠে নিজেদের উজাড় করে তাদের সামলানো। খেলোয়াড়রা যদি শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট থাকে, তবে যে কাউকেই চমকে দেওয়া সম্ভব।’
এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এশিয়ান টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনও কাগজে-কলমে চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান ডুলি। কিরগিজস্তান সফরের একটি সুযোগ থাকলেও এশিয়ান কাপে খেলার বিষয়টি বাফুফের অগ্রাধিকার ও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়া নিশ্চিত না হলে বিকল্প হিসেবে দেশের মাটিতে নিজেদের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনাও রয়েছে ফেডারেশনের। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া কিরগিজস্তান বা লেবাননের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হয়ে শোচনীয় হারের ঝুঁকি নিতে চান না কোচ। তার মতে, এমন ফল দলের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ঘরোয়া লিগের অনিশ্চয়তা ও খেলোয়াড়দের ফিটনেসের ঘাটতিকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন ডুলি। তার মতে, ‘২১ সেপ্টেম্বর থেকে ফিফা উইন্ডো শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে চার সপ্তাহের প্রাক-মৌসুম ফিটনেস ট্রেনিং এবং ৫-৬টি ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকলে লড়াই করা ভীষণ কঠিন। পেশাদার ফুটবলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতিটি জটিল হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতির সঙ্গেই আমাদের মানিয়ে নিতে হচ্ছে।’
গত ১৮ বছর ধরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ ঘোচাতে এশিয়ান কাপের মতো উচ্চমানের প্রতিযোগিতা দলের জন্য বড় প্রস্তুতিমূলক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জাতীয় দলের জার্মান কোচ। ক্যাম্পে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ নিশ্চিত করতে ফিফা উইন্ডোর নির্দিষ্ট নিয়মের বাইরে গিয়ে ক্লাবগুলোকে অন্তত ৭ দিনের বেশি সময় ফুটবলারদের জাতীয় দলে ছাড়ার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।








