ম্যাচের শুরুতে লাল কার্ড, এরপর দুই গোলের ধাক্কা—সব মিলিয়ে আল-নাসরের রাতটা যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচই হয়ে উঠল অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। তবে জয়ের রাতেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
সৌদি প্রো লিগে মঙ্গলবার আল-ইত্তিফাকের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে আল-নাসর। অথচ ম্যাচের বড় একটা সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে হয়েছে তাদের।
ম্যাচের মাত্র ১২ মিনিটেই বিপদে পড়ে আল-নাসর। গোলরক্ষক বেন্তো বক্সের বাইরে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আল-ইত্তিফাকের মুসা দেম্বেলেকে ফাউল করেন। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান তাকে।
১০ জনের আল-নাসর এরপরও প্রথমার্ধে আরও বড় ধাক্কা খায়। ৩১ মিনিটে ওন্দ্রেই দুদার গোলে এগিয়ে যায় আল-ইত্তিফাক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আলভারো মেদরান ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
নিজের দলকে এমন অবস্থায় দেখে স্বাভাবিকভাবেই রোনালদো হতাশ ছিলেন। পর্তুগালের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের পর মৌসুমে প্রথমবার আল-নাসরের একাদশে ফিরেছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। কিন্তু বিরতির বাঁশি বাজার পর টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার ক্ষুব্ধ অভিব্যক্তি।
ড্রেসিংরুমের দিকে যাওয়ার সময় রোনালদোকে রাগান্বিত ভঙ্গিতে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে খুলে ফেলেন অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও।
এরপর আসে আরও চমক। বিরতির সময় রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নতুন কোচ অ্যাঞ্জে পোস্টেকোগ্লু। সিদ্ধান্তটি ছিল বেশ সাহসী, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি বদলে যায় আল-নাসর। ৭৪ মিনিটে সাদিও মানে একটি গোল শোধ করেন। মাত্র তিন মিনিট পর আবদুলেলাহ আল-আমরি গোল করে সমতায় ফেরান আল-নাসরকে। তখনও নাটকের শেষ হয়নি।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও ত্রাতা হয়ে ওঠেন মানে। একক প্রচেষ্টায় গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। ২-০ থেকে ৩-২ অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে জয় নিশ্চিত করে আল-নাসর।
কিন্তু ম্যাচ শেষের দৃশ্যেও রোনালদোকে ঘিরে ছিল কৌতূহল। সতীর্থরা সমর্থকদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিলেও রোনালদোকে সেই উদযাপনে দেখা যায়নি।








