একটি ক্লাবেই কাটিয়ে দেওয়া ১৭ বছর। ৫৬৫ ম্যাচ, ১৫৮ গোল। চারটি সিরি আ শিরোপা, দুটি ইউরোপিয়ান কাপ; ইতালির হয়ে ইউরো জয়, বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা- সাফল্যের তালিকাটা যেন শেষ হওয়ার নয়। সেই কিংবদন্তি সান্দ্রো মাজ্জোলা আর নেই। মারা গেছেন ৮৩ বছর বয়সী সাবেক ইতালি ও ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড। শনিবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইন্টার মিলান।
ইতালিয়ান ফুটবলে তো বটেই, ইন্টার মিলানের ইতিহাসে মাজ্জোলার নাম লেখা থাকবে আলাদা মর্যাদায়। ক্লাবটির হয়ে ১৭ বছরের ক্যারিয়ার তার। ইন্টারের জার্সিতে ৫৬৫ ম্যাচে করেছেন ১৫৮ গোল। তার সময়ে ক্লাবটি জিতেছে চারটি সিরি আ ও দুটি ইউরোপিয়ান কাপ।
ইতালির জাতীয় দলের হয়েও উজ্জ্বল ছিলেন মাজ্জোলা। ১৯৬৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন তিনি। দুই বছর পর মেক্সিকো বিশ্বকাপে ফাইনালেও খেলেছেন।
মাজ্জোলার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ইন্টার তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘সান্দ্রো মাজ্জোলা ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। শুধু নেরাজ্জুরিদের ইতিহাসেই নয়, তিনি ছিলেন ইন্টারের ইতিহাস। ছোটবেলায় ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন, আর কখনও ক্লাবটি ছেড়ে যাননি।’
মাজ্জোলার জীবন শুরু থেকেই ছিল নানা নাটকীয়তায় ঘেরা। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। তার বাবা ভ্যালেন্তিনো মাজ্জোলাও ছিলেন ইতালির জাতীয় দলের ফুটবলার। ১৯৪৯ সালের মে মাসে লিসবন থেকে ম্যাচ খেলে ফেরার পথে বিমান দুর্ঘটনায় পুরো তোরিনো দল নিহত হয়। ‘সুপারগা বিমান দুর্ঘটনা’ নামে পরিচিত সেই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারান ভ্যালেন্তিনোও।
এরপর ইন্টারেই বেড়ে ওঠেন মাজ্জোলা। ছোটবেলায় ক্লাবটির মাসকটও ছিলেন তিনি। ১৮ বছর বয়সে পান সিনিয়র দলে অভিষেকের সুযোগ। জুভেন্টাস সমর্থকদের মাঠে ঢুকে পড়ার ঘটনায় আগের একটি ম্যাচে ইন্টারকে দেওয়া ২-০ গোলের জয় বাতিল করে পুনরায় ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। সেই ম্যাচেই ইন্টার তাদের যুব দল নামিয়েছিল।
তখন স্কুলের একটি পরীক্ষা শেষ করে তুরিনে ছুটে গিয়েছিলেন মাজ্জোলা। জুভেন্টাসের বিপক্ষে ৯-১ গোলে হেরে গেলেও ইন্টারের একমাত্র গোলটি এসেছিল তার পা থেকে।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্রুতই ইন্টারের নিয়মিত একাদশের সদস্য হয়ে ওঠেন মাজ্জোলা। ১৯৬৪ সালে ইন্টারকে প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছিলেন এই কিংবদন্তি। পরের মৌসুমেও ইন্টার ইউরোপিয়ান কাপ ধরে রাখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।
১৯৭৭ সালে ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারের ইতি টানেন মাজ্জোলা। এরপর ইন্টারের স্পোর্টিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। পরে একই দায়িত্ব নেন তার বাবার সাবেক ক্লাব তোরিনোতেও।
/এফআইআর/








