নতুন ক্লাব মৌসুম শুরু হয়েছে মাত্র কদিন হলো। অথচ এরই মধ্যে সামনে চলে এসেছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি। ক্লাব ফুটবলের জমজমাট লড়াই যখন ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে, তখনই জাতীয় দলের ম্যাচের জন্য আবার থামতে হচ্ছে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোকে।
মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ম্যাচের কারণে ক্লাব ফুটবলে বিরতি সমর্থকদের কাছে বিষয়টি নতুন নয়। তবে এবার আসন্ন পুরুষদের আন্তর্জাতিক সূচিতে থাকছে বড় ধরনের পরিবর্তন। এবারের বিরতি হবে একটু লম্বা। যা আগের তুলনায় এক সপ্তাহ বেশি!
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, প্রিমিয়ার লিগ কিংবা লা লিগার মতো শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় অভ্যস্ত সমর্থকদের কাছে বিষয়টি প্রথমে বেশ দুশ্চিন্তার মনে হতে পারে। তবে পরিস্থিতি যতটা ভয়াবহ মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। কারণ এই বিরতিই প্রথম, যা ফিফার পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আগের সূচিতে মৌসুমের প্রথমার্ধে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে তিনটি আলাদা আন্তর্জাতিক বিরতি থাকতো। প্রতিটি বিরতি ছিল দুই ম্যাচের। এরপর মার্চে থাকতো আরেকটি বিরতি। পুরুষ ও নারী দুই পর্যায়ের ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলের সূচিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচের কারণে সৃষ্ট বিরতি কমাতে ২০২৩ সালে ফিফা সর্বসম্মতভাবে ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনে। ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকেই সেই পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১৬ দিনের আন্তর্জাতিক বিরতি থাকবে। প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম ও ষষ্ঠ ম্যাচউইকের মাঝখানে পড়বে এই বিরতি। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় দলগুলো চারটি পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
এর ফলে মৌসুমের প্রথমার্ধে আন্তর্জাতিক বিরতির সংখ্যা তিনটি থেকে কমে হবে দুটি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ক্লাব ফুটবলের মোট স্থগিত সময়ও ছয় সপ্তাহ থেকে কমে পাঁচ সপ্তাহে নেমে আসবে।
সব মিলে এখন থেকে ঘরোয়া ক্লাব মৌসুম চলাকালে আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য থাকবে মাত্র তিনটি বিরতি। ২০২৬-২৭ মৌসুমে সেগুলো হলো—
২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর—প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম ও ষষ্ঠ ম্যাচউইকের মাঝখানে।
৯ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর—দশম ও একাদশ ম্যাচউইকের মাঝখানে।
২২ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ—৩০তম ও ৩১তম ম্যাচউইকের মাঝখানে।
ফিফার নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মৌসুমের চতুর্থ ও পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিরতি পড়বে জুন ও জুলাইয়ে। অর্থাৎ ক্লাব মৌসুম শেষ হওয়ার পরই হবে সেগুলো। এতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হবে। কারণ বছরের ওই সময়ে বিশ্বের বেশিরভাগ লিগের খেলা থাকে না।
উদাহরণ হিসেবে আগামী গ্রীষ্মে কনকাকাফ গোল্ড কাপ, আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর একটি ব্যতিক্রম হলো এএফসি এশিয়ান কাপ। আগামী বছর সৌদি আরবে ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হবে এই টুর্নামেন্ট।
আন্তর্জাতিক সূচিতে ফিফার এই পরিবর্তন ঘরোয়া ক্লাব মৌসুমে বিঘ্ন কমাতে ভূমিকা রাখবে ঠিকই, তবে ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারের কাছে এই পরিবর্তনও যথেষ্ট নয়।
২০২১ সালে সাবেক আর্সেনাল কোচ জানিয়েছিলেন, পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিরতির বর্তমান ব্যবস্থা আরও বড়ভাবে পরিবর্তন করা উচিত। তবে ম্যাচের সংখ্যা কমানো নয়, বরং একই সংখ্যক আন্তর্জাতিক ম্যাচ কমসংখ্যক বিরতিতে আয়োজন করার পক্ষে ছিলেন তিনি।
ওয়েঙ্গারের প্রস্তাব ছিল, অক্টোবর ও মার্চে দুটি দীর্ঘ বিরতি রাখা যেতে পারে। এমনকি বছরে শুধু অক্টোবরেই এক মাসের একটি বিরতি রাখার কথাও বলেছিলেন তিনি। তার যুক্তি ছিল, এতে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ কমবে এবং আধুনিক ফুটবলের ‘বিশৃঙ্খলা’ ও ম্যাচের ঘনত্বও কমানো সম্ভব হবে।
তবে এরও ঝুঁকি রয়েছে। কোনো খেলোয়াড় যদি সেই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির সময় চোটে পড়েন, তাহলে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ নাও পেতে পারেন। এমনকি পরবর্তী সুযোগের জন্য তাকে হয়তো পুরো বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ফিফার সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতি একীভূত করার সিদ্ধান্ত অবশ্য সেই সমর্থকদের জন্য স্বস্তির হতে পারে, যারা মৌসুম শুরুর প্রথম কয়েক মাসেই বারবার ক্লাব ফুটবল থেমে যাওয়ায় বিরক্ত। এখন তিনটি ছোট বিরতির বদলে দুটি বিরতি থাকছে মৌসুমের প্রথমার্ধে।
তবে উল্টো দিকটাও আছে। প্রিয় দলকে টানা তিন সপ্তাহ মাঠে না দেখতে পাওয়ার বিষয়টি সমর্থকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। ফলে ফিফার নতুন আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে ক্লাব ফুটবলের দর্শকদেরও কিছুটা সময় লাগবে।









