একাদশে থাকবেন না- কোচের কাছ থেকে এই খবর পাওয়ার পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার অনুপস্থিতিতেই ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। তাতে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। তবে সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেসের চোখে এসবের পরও পর্তুগালের ফুটবলে রোনালদোর জায়গা অপরিবর্তিত। তার ভাষায়, রোনালদোই দেশটির ফুটবলের ‘সবচেয়ে বড় প্রতীক’।
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড রোনালদো পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন- দুটিই জাতীয় দলের রেকর্ড। তার নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুবার নেশন্স লিগ জিতেছে। তবে জাতীয় দলের হয়ে তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
শনিবার পর্তুগালের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্রুনো বলেছেন, ‘আমার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। আমি তাকে যা বলেছি, এখানেও সেটিই বলছি। যাই ঘটুক না কেন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কখনও আমাদের জাতীয় দল, আমাদের ফুটবল এবং আমাদের দেশে ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক হওয়া থেকে বাদ পড়বে না। পর্তুগালে তো বটেই, সারা বিশ্বে তিনি যা করেছেন, তার জন্যই এই জায়গা তার।’
তিনি আরও বলেছেন‘সর্বকালের সেরাদের মধ্যে তার জন্য শুধু জায়গাই সংরক্ষিত নয়, সব পর্তুগিজ মানুষের হৃদয়েও তার আলাদা জায়গা রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন বিষয়গুলোকে ভাগাভাগি করা বন্ধ করি।’
এসময় ব্রুনো স্মরণ করিয়ে দেন,‘জাতীয় দলের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। এটি একটি দল এবং এমনই থাকবে। বাইরে থেকে যত শব্দই আসুক না কেন।’
রোনালদোকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে ব্রুনো আরও বলেন, ‘আমরা এই বিতর্কের বাইরে আছি। তবে আমি চাই, দেশ যেন বিভক্ত না হয়, পক্ষ বেছে না নেয় এবং সব পক্ষকে সম্মান করে। ক্রিস আমাদের জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় আইকন এবং তিনি সবার সম্মান পাওয়ার যোগ্য। কে তাকে বেশি পছন্দ করেন বা কম পছন্দ করেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
২০১৯ সালে প্রথমবার নেশন্স লিগ জিতেছিল পর্তুগাল। ২০২৫ সালের ফাইনালে স্পেনকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে তারা বর্তমানে এই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ২-২ গোলে শেষ হয়েছিল, যেখানে পর্তুগালের হয়ে একটি গোল করেছিলেন রোনালদো।
চলতি বছরের বিশ্বকাপে শেষ ষোলো পর্যন্ত গিয়েছিল পর্তুগাল। সেখানে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা। ম্যাচে রোনালদো খারাপ খেললেও তাকে খুব কম বদলি করায় তখনকার কোচ রবার্তো মার্টিনেজ সমালোচিত হয়েছিলেন।
নেশন্স লিগের অভিযানের আগে মার্টিনেজের স্থলাভিষিক্ত হন হোর্হে জেসুস। সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে আগে রোনালদোর কোচ ছিলেন তিনি।
পর্তুগাল নেশন্স লিগ শুরু করে ঘরের মাঠে ওয়েলসকে ১–০ গোলে হারিয়ে। ওই ম্যাচে ৬৭ মিনিট খেলেছিলেন রোনালদো। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে ২–১ গোলের অ্যাওয়ে জয়ে তাকে মাঠে নামানো হয়নি। এরপরই ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান তিনি।
তিন ম্যাচ শেষে ‘এ-৪’ গ্রুপে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পর্তুগাল। রবিবার পোর্তোয় নরওয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে তারা।
আগামী মাসে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে পর্তুগাল। ১৪ নভেম্বর ঘরের মাঠে ডেনমার্কের বিপক্ষে খেলার পর ১৭ নভেম্বর ওয়েলসের মাঠে খেলবে তারা।
গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে পারলে মার্চে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। এরপর জুনে অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল।
পর্তুগালের কোচ জেসুসও রোনালদোকে ‘পর্তুগালের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে রবিবারের ম্যাচের পর তাকে নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সময় আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৭২ বছর বয়সী জেসুস বলেন, ‘আমি এখন দল এবং প্রতিপক্ষ নরওয়েকে নিয়ে মনোযোগ দিতে চাই। তারা ইউরোপের সেরা পাঁচ দলের একটি। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের সমস্যা।’