শনিবার নেশন্স লিগে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত গোলের পর রদ্রি হার্নান্দেজ ও মিকেল মেরিনোর গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাতে ৪১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নজির গড়েছে লা রোহারা। তবে ৪১ ম্যাচের এই অবিশ্বাস্য যাত্রার চেয়েও সামনে আছে আরও বিস্ময়কর কিছু রেকর্ড। এটি অবশ্য আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নয়।
এই ৪১ ম্যাচে স্পেনের জয় ৩১টি, ড্র ১০টি। এই সময়ের মধ্যে রয়েছে গত জুলাইয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল জয়ের ঐতিহাসিক ম্যাচটিও।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে আগের সর্বোচ্চ ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি ছিল ইতালির। রবার্তো মানচিনির অধীনে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই রেকর্ড গড়েছিল ইতালি। স্পেন সেটি ছাড়িয়ে গেছে আরও চার ম্যাচ আগে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকা এবং ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি ব্রাজিলের ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত থাকার কীর্তিটিও এখন স্পেনের পেছনে।
তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই ৪১ ম্যাচই সর্বোচ্চ নয়। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল দল। ২০০৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা টানা ৫১ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালেও টানা ৪৪ ম্যাচ হারেনি যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েরা।
ক্লাব ফুটবলকে হিসাবের মধ্যে আনলে অপরাজিত থাকার সংখ্যাটা আরও বিস্ময়কর। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রেকর্ডগুলোর একটি এসি মিলানের। তাদের কিংবদন্তি ‘ইনভিন্সিবল’ দল ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে সিরি আ’য় টানা ৫৮ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে এটি অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা।
তবে মহাদেশীয় রেকর্ডটি স্টেয়াউয়া বুখারেস্টের দখলে। রোমানিয়ার ক্লাবটি ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে লিগে টানা ১০৪ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। অবিশ্বাস্য সেই যাত্রা স্থায়ী হয়েছিল তিন বছরেরও বেশি সময়।
বিশ্ব ফুটবলে অবশ্য সেই রেকর্ডও এখন পেছনে পড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ঘরোয়া লিগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছিল আইভরি কোস্টের ক্লাব এএসইসি মিমোসাসের। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে তারা টানা ১০৮ ম্যাচ অপরাজিত ছিল।
সেই রেকর্ডও এখন ছাড়িয়ে গেছে মালয়েশিয়ার জোহর দারুল তাজিম (জেডিটি)। যারা চলমান ঘরোয়া ফুটবলে অপরাজিত রয়েছে ১১৭ ম্যাচে।