বাবা আব্দুর রশিদ খান দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় রেফারির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘আন্তর্জাতিক আম্পায়ার’ হয়ে উঠা হয়নি। সেই আফসোস এখনও রয়ে আছে। তাই দুঃখ ঘোচাতে ছেলেকে নিয়েই বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। মার্চে ইন্দোনেশিয়াতে এএইচএফ কাপ হকিতে প্রথমবারের মতো বাঁশি বাজাতে যাচ্ছেন তারই বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী খান পিয়াল।
সেখানে পাস মার্ক পেলেই পিয়াল ‘আন্তর্জাতিক আম্পায়ার’ হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবেন। তখন আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফ আইএইচ) আয়োজিত অন্য যে কোনও টুর্নামেন্টেও বাঁশি বাজানোর সুযোগ আসবে।
মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুবাদে প্রতিটি দেশেরই রেফারিদের জন্য আলাদা কোটা থাকে। ওই কোটা অনুসারে ‘এ’ গ্রেডের আম্পায়ার হয়ে কেউ বাঁশি বাজানোর দায়িত্বটা নিতে পারেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের অন্য যে কোনও টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং করার সুযোগ নেই। সেটা করতে হলে নির্ধারিত পাস মার্ক পেয়ে পুরোপুরি আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হতে হবে। তারপরই মিলবে অন্য টুর্নামেন্টে বাঁশি বাজানোর লাইসেন্স। এই নিয়মের আওতাতে এক সময় আব্দুর রশিদ খান বাংলাদেশের অংশগ্রহণকৃত টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং করেছেন।
কিন্তু এফআইএইচের সব নিয়মের বৃত্ত পূরণ করতে না পারায় বেশি দূর যেতে পারেননি। সেই অপূর্ণতা দূর করতে চাইছেন ছেলের মাধ্যমে। বাংলা ট্রিবিউনকে ৪৭ বছর বয়সী সাবেক খেলোয়াড় বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের কোটায় ১২টির মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছি। কিন্তু নানা কারণে এফআইএইচ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হতে পারিনি। ফলে আঞ্চলিক পর্যায়েই থেকে যেতে হয়েছে। তবে নিজে না পারলেও ছেলের মধ্যে বড় স্বপ্ন দেখি। যা পারিনি তা ও হতে পারবে। ওর মধ্যে সেই সম্ভাবনাও আছে। ইন্দোনেশিয়াতে ভালো করলেই আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।’
এখন বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই মোহাম্মদ আলী পিয়াল হকিতে মনোনিবেশ করেছেন। প্রথম বিভাগে খেলার পর আম্পায়ারিংকে বেছে নিয়েছেন। নতুন মিশন নিয়ে তাই ভীষণ রোমাঞ্চিত ২৭ বছর বয়সী আলী পিয়াল, ‘বাবার কারণে হকিতে আসা। ছোট বেলা থেকেই হকির সান্নিধ্যে আছি। বাবার মতো আম্পায়ার হতে চেয়েছি। বাবা আন্তর্জাতিক হকি আম্পায়ার হতে পারেননি। তবে তার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। ইন্দোনেশিয়াতে ভালো করতে পারলেই সেই সুযোগ আসবে। আমি আত্মবিশ্বাসী ভালো কিছুই হবে।’
অবশ্য শুধু ইন্দোনেশিয়াতে ভালো করলেই চলবে না। এফআইএইচের পরের টুর্নামেন্টেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স থাকতে হবে। তারপরই মিলবে বাঁশি বাজানোর স্বীকৃতি। যে স্বীকৃতি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের তিনজন আম্পায়ারের আছে- আব্দুল লতিফ, সেলিম লাকি ও শাহবাজ আহমেদের।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃত আম্পায়ার সেলিম লাকি তাই ভরসা দিচ্ছেন আলীকে, ‘ওর মধ্যে ভালো সম্ভাবনা আছে। ও যদি ইন্দোনেশিয়াতে ভালোভাবে উতরে যেতে পারে, তাহলে দুয়ার খুলে যাবে। এফআইএইচের গুড বুকে থাকবে।’
অগ্রজদের প্রেরণায় পুরোনো ঢাকার আরমানিটোলা থেকে উঠে আসা আলীর লক্ষ্য এখন অনেক দূর। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেই স্বার্থক মনে করবেন নিজেকে!









