দুই বছর ১ লাখ টাকা করে বেতন আকবরদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫৬, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১৩, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন দিন আসেনি। বিশ্বজয় বলে কথা! অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিজয়ী বীরেরা যখন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরছেন, স্বাভাবিকভাবেই গোটা দেশের দৃষ্টি ছিল হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দিকে। কয়েক ধাপে নানা আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হয় বিশ্বকাপ জয়ী যুবাদের। সেখানেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ঘোষণা দেন, বিশ্বজয়ী খেলোয়াড়দের প্রত্যেককে দুই বছর ধরে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে বেতন দেওয়া হবে।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় হয়ে গেল বেশ বড়সড় সংবর্ধনা। যদিও পূর্বঘোষিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আকবর আলীদের ঘটা করে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। তবে সেটি এক সপ্তাহ পিছিয়ে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, ‘এই শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এটা এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাচ্ছে। ওরা বাড়ি যাবে, অনেক ক্লান্ত। ওদের যাওয়ার ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত আছে। বড়দের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সুখস্মৃতি আছে। ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দ সঙ্গী হয়েছে। মেয়েদের ক্রিকেটে এশিয়া কাপ জয়ের ছবিও জ্বলজ্বল করে। তবে বিশ্বমঞ্চ থেকে সাফল্য এসেছে যুবাদের হাত ধরেই। সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় নাজমুল তাই এই অর্জনকে রাখলেন সবার ওপরে, ‘আমরা অনেক ম্যাচ জিতেছি, মেয়েরা এশিয়া কাপ জিতেছে। কিন্তু এর সঙ্গে কোনোকিছুর তুলনা হয় না। বিশ্বকাপ জয় তো বিশ্বকাপ জয়ই। ওরা (অনূর্ধ্ব-১৯ দল) এটা করেছে। এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেই এই সাফল্য।’

তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না বিসিবি প্রধান। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে আরও বড় পরিসরের পরিকল্পনা তার, ‘আমরা এই ক্রিকেটারদের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করবো। এই দুই বছর তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি মাসে তারা ১ লাখ টাকা করে বেতন পাবে। পরে পারফরম্যান্স অনুযায়ী চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে। দুই বছরে কেউ ভালো না করলে তাদের রাখা হবে না।’

বিশ্বকাপের ফেবারিট ভারতকে হারিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে আকবরের দল। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানোর এই উপলক্ষ কিন্তু হঠাৎ আসেনি। নাজমুল বললেন, “আমরা খালেদ মাহমুদকে (গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান) বলেছিলাম, ‘কী লাগবে বলো, আমরা সেটা করবো।’ এভাবে পরিকল্পনা করেই সফল হয়েছি। এটা হঠাৎ করে পাওয়া নয়, পরিকল্পনার ফসল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা অনেক বড় অর্জন। এখানে কোনও সুপারস্টার নেই, পুরোটাই টিমওয়ার্ক।”

বিশ্বকাপ জয়ী এই ক্রিকেটাররাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আগামীর সাকিব-মুশফিক হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে সাফল্য এনে দেওয়ার গুরুদায়িত্বও তাদের কাঁধে। বোর্ড প্রধান তাই বলছেন, ‘সামনের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। ওই কঠিন পথটা পাড়ি দিতে হবে।’

তরুণ তুর্কিরা পারবেন তো?

/কেআর/পিকে/

লাইভ

টপ