ফ্রান্সে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে আরিফুলের প্রস্তুতি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:১৯, জুন ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৭, জুন ০২, ২০২০

আরিফুলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ফ্রান্সে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে চলছে লকডাউন। অবশ্য এই সপ্তাহে সীমিত আকারে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো খুলতে শুরু করলেও খেলাধুলা শুরু করা যাবে কিনা, এ নিয়ে কেউ পরিষ্কার কিছুই বলতে পারছে না। এক্ষেত্রে ভাগ্যবান বলতে হবে বাংলাদেশের সাঁতারু আরিফুল ইসলামকে। ফ্রান্সের রোয়েন শহরে অলিম্পিকের বৃত্তি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। সেখানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হতেই পুলে নেমে পড়ার সুযোগ পেয়ে গেছেন ২১ বছর বয়সী এই সাঁতারু।

আরিফুল ফ্রান্সে চলে যান ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। সেখানে যাওয়ার পর এতদিন টানা অনুশীলনে কোনও ছেদ পড়েনি। কিন্তু করোনার প্রকোপ দেখা দিতেই মার্চের শুরু থেকে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। এই সময়ে অবশ্য প্রয়োজন ছাড়া বাইরেই যাওয়া হয়নি তার। দিন কেটেছে অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে। এখন পরিস্থির উন্নতি হতেই কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন যেন।

তাতো হওয়ারই কথা, যেখানে দুই মাসের বেশি সময় ঘরবন্দি ছিলেন। সেখানে গত ২৭ মে থেকে আবারও পুলে সাঁতারানোর সুযোগ একঘেয়ে জীবনে আবারও বৈচিত্র্য আনতে শুরু করেছে।। যদিও পুরোদমে শুরু করা যায়নি প্রস্তুতি।

তার মতো অলিম্পিকের বৃত্তি নিয়ে সেখানে গেছেন অন্য দেশের সাঁতারুরাও। রাজধানী প্যারিসের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রোয়েন থেকে করোনাকাল নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে  আরিফুল বলেছেন, ‘করোনা প্রকোপ শুরু হতেই এখানকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুশীলন বন্ধ হয়ে যায়। আমরা তখন কিছুটা আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটিয়েছি। তবে এখন করোনার প্রকোপ কমে যেতে আবারও অনুশীলন শুরু করেছি। যদিও আগের মতো পুরোদমে অনুশীলন করতে পারছি না। আগে কয়েক ঘণ্টা অনুশীলন করতে পারলেও এখন এক ঘণ্টার বেশি করতে পারছি না। এছাড়া নিরাপদ দূরত্বে থেকে সব নিয়ম-কানুন মেনে অনুশীলন করতে হচ্ছে।’

পরিস্থিতি উন্নতি হলেও সবাইকে সতর্ক থাকতেই হচ্ছে অনুশীলনে। আরিফুল জানালেন, সব কিছুই হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব মেনে, ‘আগে যেমন পুলে এক লেনে অনেকে সাঁতার কাটতে পারতো। এখন তা হচ্ছে না। এক লেনে একজন করে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া মাঝের লেন ফাঁকা থাকছে। ড্রেসিং রুমেও দূরত্ব মানা হচ্ছে। যাতে সতকর্তার অংশ হিসেবে করোনার হাত থেকে দূরে থাকা যায়।’

নেপালের এসএ গেমসে দুটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্চ জিতেছিলেন আরিফুল। সেই সুবাদেই বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে আগামী বছর টোকিও অলিম্পিকের আগ পর্যন্ত থাকতে পারবেন। এক দিক দিয়ে প্রস্তুতির জন্য সুযোগটা কাজেই দিয়েছে তার। এর ফলে সেখানে উচ্চতর প্রশিক্ষণে থেকে তার টাইমিংও ভালো হচ্ছে। আরিফুলের উপলব্ধি, ‘এখানে অনুশীলন করে আমার টাইমিংয়ের উন্নতি হচ্ছে। আশা করছি টোকিও অলিম্পিকের আগে কোনও প্রতিযোগিতা শুরু হলে সেখানে ভালো ফল করার সুযোগ থাকবে।’

/টিএ/এফআইআর/

লাইভ

টপ