গাভাস্কারের ৩৫ সেঞ্চুরি ও ‘৩৫ হৃদয়’

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪৩, জুলাই ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫০, জুলাই ১০, ২০২০

সুনীল গাভাস্কারটেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের ক্লাব যার হাতে প্রতিষ্ঠিত সেই সুনীল মনোহর গাভাস্কারের আজ জন্মদিন। ভারতের সাবেক ওপেনার ও অধিনায়ক পড়লেন ৭১ বছরে।

আরেকটি জন্মদিনে নিজে আর কী উপহার নেবেন, তিনিই অভিনব ও মানবিক উপহার দিলেন ৩৫টি শিশুকে। এই শিশুগুলো ভুগছে হৃৎযন্ত্রের জটিলতায়। গাভাস্কার তাদের হার্ট-সার্জারির জন্য অর্থ সাহায্য করলেন এবং এদের অস্ত্রোপচার হবে মুম্বাইয়ের শ্রী সত্য সাই সঞ্জীবনী হাসপাতালে। গত বছরও হৃৎযন্ত্রে অস্ত্রোপচারে পৃষ্ঠপোষণা করে ৩৫ শিশুর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছেন গাভাস্কার।

সংখ্যা হিসেবে ৩৫ কেন বেছে নিলেন তিনি! এটি তো অন্য যেকোনও সংখ্যা হতে পারতো। আসলে ৩৪ টেস্ট সেঞ্চুরি ও একটি ওয়ানডে সেঞ্চুরি মিলিয়ে যে ৩৫টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছেন ক্যারিয়ারে, সেটিকেই প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। গাভাস্কার ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘একজন মানুষের সাহায্যের হাত তো অনেকদিকেই যেতে পারে, তার মধ্যে শিশুরাই একটু বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। তারা যেকোনও পরিবারের আনন্দের উপলক্ষ্য এবং তারাই পরিবারে জ্বালিয়ে দেয় আশার আলো।’

শিশুদের জন্য কাজ করতে কীভাবে উদ্ধুদ্ধ হলেন সেটিও জানিয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনিং ব্যাটসম্যান, ‘দু:খজনকভাবে হৃৎপিন্ডের জন্মগত সমস্যাটা ভারতে খুব বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগই দরিদ্র পরিবার, অনেকেই বাঁচতে পারে না। দেশে চিকিৎসেবাও অপ্রতুল। আমি যে সংস্থার সঙ্গে কাজ করি, সেই হার্ট টু হার্ট ফাউন্ডেশন সাই সঞ্জীবনী হাসপাতালে অজস্র শিশুকে বিনি পয়সায় জীবন উপহার দিচ্ছে।’

১২৫ টেস্টে ১০,১২২ রান করেছেন গাভস্কার ৩৪টি সেঞ্চুরিসহ। ১০৮টি ওয়ানডে থেকে একটি সেঞ্চুরিসহ রান ৩,০৯৩। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার রান ২৫,৩৮৪। ভারতের আরেক দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস এই ক্রিকেট তারকার ক্যারিয়ার থেকে পাঁচটি বিষয় বের করেছে তার জন্মদিনে-

১। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩ টেস্ট সেঞ্চুরি: তার সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল ক্রিকেট বিশ্বের ‘সম্রাট’। তারা জিতে নিয়েছিল ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম দুটি বিশ্বকাপ। অ্যান্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার, মাইকেল হোল্ডিং ও ম্যালকম মার্শালদের মতো ফাস্ট বোলাররা তখন ২২ গজে আগুন ঝরান। তাদের বিপক্ষেই ‘লিটল মাস্টার’ ১৩ সেঞ্চুরি করেন টেস্টে, যা যেকোনও একটি দলের বিপক্ষে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ। সবমিলিয়ে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৯টি সেঞ্চুরি করেছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান।

২। অভিষেক সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান:  ১৯৭১ সালে তার অভিষেক টেস্ট সিরিজে গাভাস্কার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭৭৪ রান করেন চার টেস্টে। এখনও পর্যন্ত এটি অভিষেক সিরিজে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড।

৩। লর্ডসে এমসিসির ম্যাচে ১৮৮:  আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে লর্ডসে কোনও সেঞ্চুরি নেই গাভাস্কারের। এটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর লাগতে পারে। কিন্তু এমসিসির দ্বিশতবার্ষিকী ম্যাচে তিনি ১৮৮ করেন অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে। মুম্বাই ও ভারত সতীর্থ রবি শাস্ত্রীর হাতে কট অ্যান্ড বোল্ড না হলে হয়তো ডাবল সেঞ্চুরিই পেতেন।

৪। টেস্টে প্রথম ১০ হাজার রানের মালিক: ১৯৮৭ সালের ৭ মার্চ টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রান করে ইতিহাস গড়েন। এই মাইলফলকে পৌঁছান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে, নিজের ১২৪তম টেস্টে। ম্যাচটি অবশ্য ড্র হয়েছিল।

৫। খেলার মধ্যেই চুলকর্তন: ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজের প্রথম টেস্ট ছিল সেটি ম্যানচেস্টারে। প্রচণ্ড বাতাস বইছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডে। তার চুল উড়ে এসে ঢেকে দিচ্ছিল দৃষ্টি। আম্পায়ার ডিকি বার্ডকে অনুরোধ করলেন সামনের চুলগুলো কেটে দিতে। যে কাঁচি দিয়ে আম্পায়াররা বিকৃত বলের সিমের সুতো কাটেন, সেটি দিয়েই বার্ড চুল কেটে দিলেন গাভাস্কারের। ১০১ রান করেছিলেন ভারতীয় ওপেনার, তারপরও হারতে হয়েছিল ভারতকে।  

 

/পিকে/

লাইভ

টপ