কোহলির হাত ফস্কে রাহুলের সেঞ্চুরিতেই পাঞ্জাবের জয়

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:২৮, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৩, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

এবারের আইপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি রাহুলের ব্যাটে              -ছবি: টুইটাররয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলি দু’দুবার ক্যাচ ফেলেছেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ইলেভেন অধিনায়ক কেএল রাহুলের। আর সেই সুযোগে এবারের আইপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি করে রাহুল পাঞ্জাবকে নিয়ে তোলেন ২০৬ রানের পাহাড় চূড়ায়। পাহাড়ে উঠতে গিয়ে আছাড় খেয়ে পড়েছে কোহলির বেঙ্গালুরু। মাত্র ১০৯ রানে অলআউট হয়ে হেরেছে ৯৭ রানে।

সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ও আইপিএলের অন্যতম কণ্ঠস্বর ডিন জোন্সের আকস্মিক মৃত্যুর দিনটিতে আইপিএলের ম্যাচটি মোটেই রোমাঞ্চ ছড়ায়নি। খেলোয়াড়েরা হাতে কালো ব্যান্ড পরে খেলতে নামেন দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পাঞ্জাব-বেঙ্গালুরু ম্যাচটিও শোকের সমান্তরালে রোমাঞ্চহীন এক তরফা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপহার দিল বৃহস্পতিবার।

তবে গত ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিট্যালসের কাছে সুপার ওভারে হৃদয়বিদারক হারের পর পাঞ্জাবের এই জয়ে নিরপেক্ষ দর্শকেরাও খুশি হয়েছেন। যদিও এটা শুধু উপহার ছিল না। প্রতিজ্ঞা বলুন বা পরিকল্পনা-সবকিছুতেই এদিন বেঙ্গালুরুকে টপকে গেছে পাঞ্জাব। তাদের দুজন লেগস্পিনার দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। সফলতম মরুগান অশ্বিন ২১ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবি ডি ভিলিয়ার্সের উইকেটটি, কারণ আগের ম্যাচেই ফিফটি পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাটা দেখাচ্ছিলেন। ১৮ বলে ২৮ রান করেন ডি ভিলিয়ার্স। চার রানের মধ্যে ওপেনার দেবদূত পাড়িক্কাল, জস ফিলিপ্পে ও কোহলি ফিরে যাওয়ার পর ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারতেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তাকে ফিরিয়েছেন আরেক লেগস্পিনার, এ বছর ভারতের হয়ে অনূ্‌র্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা রবি বিষ্ণোই। ফিঞ্চ বোল্ড হয়েছেন ২১ বলে ২০ রান করে।

ফিঞ্চ- ডি ভিলিয়ার্সের পরের জুটিতে ওয়াশিংটন সুন্দর ও শিভম দুবে যা একটু রান করেছেন তা আসলে মৃত্যুর আগে ছটফটানি। ওরা যেতেই অশ্বিন ও বিষ্ণোই মিলে পাঞ্জাবের ইনিংস ১৭ ওভারে মুড়ে দিয়েছেন।

তবে ২০৬ রানের পাহাড়ের দিকে যেতে চাওয়া বেঙ্গালুরুর ডানা ২.৪ ওভারের মধ্যেই ভেঙে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বাঁহাতি পেসার শেলডন কটরেল ও মোহাম্মদ শামি। কটরেল ইনিংসের চতু্র্থ বলেই ফেরান আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ফিফটি করা পাড়িক্কালকে। ওয়ান ডাউনে নামা ফিলিপ্পেকে এলবিডব্লিউ করেন শামি দ্বিতীয় ওভারেই। কোহলিকে মিডঅনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন কটরেল। ৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেঙ্গালুরু তখন রীতিমতো কাঁপছে। তিন ওভারে ১৭ রান দিয়ে কটরেলের উইকেট ওই দুটিই, সমান ওভারে ১৪ রান খরচায় শামির উইকেটও ওই একটি। ওদের আর বোলিংয়ে আসার প্রয়োজনই পড়েনি, তিনটি করে উইকেট নিয়ে কাজ শেষ করে দিয়েছেন অশ্বিন ও বিষ্ণোই। ও হ্যাঁ, মাঝখানে এসে অফস্পিনে দুবের উইকেটটি নিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

উল্টোদিকে বেঙ্গালুরুর বোলিংয়ে সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল বোলার ডেল স্টেইন এদিনও ব্যর্থ, আসলে সবচেয়ে ব্যর্থ, চার ওভারে ৫৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। উমেশ যাদব চার ওভারে ৩৫ রান দিনে উইকেটশূন্য, ৩৭ রান দিয়ে নবদীপ সাইনিও তাই। যুজবেন্দ্র চাহাল চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। দুই ওভারে মাত্র ১৩ রান দিলেও অফস্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরকে আর কেন বোলিং দেননি কোহলি সে একটা প্রশ্ন।

তবে দুই দুইবার এক ব্যাটসম্যানের ক্যাচ ফেললে বোলারদের হতাশই হতে হয়। ৮৪ রানে স্টেইনের বলে লং অনে ক্যাচ ফেলার পর ৮৯ রানে মিডঅনে সাইনির বলে আবার রাহুলের ক্যাচ ফেলেন কোহলি। তাতেই রাহুলের অপরাজিত ১৩২ রানের ইনিংস। যা সাজিয়েছেন ৬৯ বল খেলে, ১৪ চার ও সাত ছক্কায়। রাহুল ছাড়া ব্যাট হাতে দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস মায়াঙ্ক আগরওয়ালের ২৬।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুটি সেঞ্চুরির মালিক রাহুল ৩৬ বলে প্রথম ফিফটির পর দ্বিতীয় ফিফটিটি করতে বল খেলেছেন ২৬টি। ১৬ ওভার শেষে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৩২। প্রথমবার ক্যাচ পড়ার পর রাহুল ১৩ বলে করেছেন ৪৮ রান, দ্বিতীয়বার  ৯ বলে তুলেছেন ৪২ রান।  আর পাঞ্জাব ৩ ওভারে তুলেছে ৬০ রান যার ৪৯ এসেছে শেষ দুই ওভারে।

ম্যাচটি কোহলির হাতের তালু দিয়েই ফেলে দিয়েছে বেঙ্গালুরু। যেখানে অবিসংবাদিত সেরার নাম কেএল রাহুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাঞ্জাব: ২০ ওভারে ২০৬/৩ ( রাহুল ১৩২*, আগরওয়াল ২৬, দুবে ২/৩২, চাহাল ১/২৫) ও বেঙ্গালুরু: ১৭ ওভারে ১০৯ ( সুন্দর ৩০, ডি ভিলিয়ার্স ২৮, মুরুগান অশ্বিন ৩/২১,  বিষ্ণোই ৩/৩২)

 

 

/পিকে/

লাইভ

টপ