১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এসেছিলেন প্রয়াত বক্সিং কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলী।তখন নিজের নামানুসারে উদ্বোধন করেছিলেন মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়াম। একসময়ের ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানের কাছে বর্তমানে নানা ক্রীড়া স্থাপনা বিদ্যমান করলেও ঐসময়ে ছিল ব্যতিক্রম। আর সেই স্থাপনার পাশেই আজ বিরাজ করছে এক শোকাবহ পরিবেশ। সেই আলীর মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তার সঙ্গে সেই সময় বক্সিং রিংয়ে লড়াই করা একমাত্র বাংলাদেশি মুষ্টিযোদ্ধা মো. গিয়াসুদ্দিন।
যদিও প্রথমে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে লড়ার কথা ছিল আবদুল হালিমের। যাকে বলা হতো ‘বাংলার মোহাম্মদ আলী।’
কিন্ত তখন মোহাম্মদ আলী বলেছিলেন সত্যিকারের লড়াই করার মতো মানসিকতা তার নেই। শুধু ‘ফান বক্সিং’ করবেন। আর তখনই বক্সিং ফেডারেশন বাসাবোর ছেলে ১২ বছরের কিশোর গিয়াসুদ্দিনকে লড়াইয়ের জন্য নির্বাচিত করে।
মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে স্মৃতি বিজড়িত গিয়াসুদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে লড়বো। তবে আমি দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে রিংয়ে নেমে পড়েছিলাম।’
রিংয়ে মূলত মজাই করেন মোহাম্মদ আলী। ঐসময়ের স্মৃতির ঝাঁপি খুলে গিয়াসুদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি দেখেছিলাম তার বাম গালে একটা কাটা দাগ, তিনি আমাকে মুখে মারতে বারণ করেছিলেন। যদিও দীর্ঘদেহী মোহাম্মদ আলীর মুখে মারার মতো দীর্ঘ হাত আমার ছিল না। আমি তার বুকে-পেটে মারার চেষ্টা করেছিলাম। তার বিদ্যুৎ বেগের মুভমেন্ট আমাকে আজও শিহরিত করে। পরে তিনি নক আউটের ভান করেন; দেখান তিনি আর লড়তে পারছেন না। আমার জীবনের এটি সবচেয়ে বড় স্মৃতি এবং মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে আমি যে সামান্য সময় কাটিয়েছি সেটি আমি কখনও ভুলতে পারবো না। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
/আরএম/এফআইআর/








