প্রথমবারের মতো গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের শিরোপা জিতেছে মেরিনার্স। আজ শুক্রবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লিগের শেষ খেলায় মেরিনার্স ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় ঊষা ক্রীড়া চক্রকে।
ড্র করলে মেরিনার্স চ্যাম্পিয়ন আর ঊষার জয় ছাড়া পথ নেই এমন সমীকরণে খেলতে নেমে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় মেরিনার্স।
এ জয়ের ফলে ১৬ খেলায় ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে লিগ শেষ করলো মেরিনার্স। ২০০৬ ও ২০১০ সালে রানার্স-আপ হওয়ার পর প্রথম শিরোপা জিতলো তারা।
এদিন খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ঊষা। দ্রুত গতির একটি কাউন্টার অ্যাটাকে মেরিনার্স পোস্টের কাছে চলে আসেন ঊষা অধিনায়ক সারোয়ার হোসেন। আড়াআড়ি পাস দেন হাসান যুবায়ের নিলয়কে কিন্তু পোস্টের কয়েকশ ফিট দূরে থেকে বল স্টিকে ছোঁয়াতে পারেননি নিলয়। এরপরের মিনিটেই নিলয় আবারও পুষ্কর খিসা মিমোর সঙ্গে বল আদান প্রদান করে মেরিনার্স গোলরক্ষক মেহরাব হোসেন কিরণকে একা পেয়ে যান। তবে এবার তিনি নেন একটি অতি দুর্বল হিট, কেনিয়ান মিডফিল্ডার উইলিস বলটি ক্লিয়ার করেন।
খেলার ১৬ মিনিটে অবশ্য নিলয়ই ভাঙেন গোলের খরা। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড আলি শানের জোরালো হিট ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি মামুনুর রহমান চয়ন। পেছনে দাঁড়ানো আশরাফুল আর নিলয়ের বল নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে হেরে যান আশরাফুল। কয়েক পা সামনে গিয়ে জোরালো হিটে মেরিনার্স গোলরক্ষক মেহরাব হোসেন কিরণকে পরাস্ত করেন নিলয়।
এর দুই মিনিট পরে মেরিনার্স দুর্গে দ্বিতীয় ফাটল ধরান পুষ্কর খিসা মিমো, নিলয়ের কোনাকুনি হিট তিনি বক্সের উপরে আয়ত্বে নেন। জায়গা করে নিয়ে নেন একটি রিভার্স হিট।
এরপর থেকেই ক্ষেপে ওঠে মেরিনার্স সমর্থকরা। বিশ মিনিটে হাফলাইন বরাবর মেরিনার্সের মিডফিল্ডার ইশতিয়াককে ফাউল করেন নিলয়। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড মো. তৌফিক ওমানি আম্পায়ারের সঙ্গে বাদানুবাদে লিপ্ত হলে তাকে সবুজ কার্ড দেখানো হয়। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মেরিনার্স সমর্থকরা ভেঙে ফেলেন গ্যালারির বেশ কিছু চেয়ার। উপরে উঠে ভাঙচুর চালায় ভিআইপি গ্যালারিতে। এ সময় সেখানে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক বসা ছিলেন। এ ঘটনায় খেলা ২০ মিনিট বন্ধ ছিল।
খেলা ফের মাঠে গড়াবার পর অবশ্য ব্যাকফুটে চলে যায় ঊষা। মেরিনার্সকে খেলায় ফেরান পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওয়াকাস শরিফ। ২৬ মিনিটে বক্সের ডানপ্রান্ত খেকে রিভার্স হিট বাতাসে উঠিয়ে মেরেছিলেন আরশাদ হোসেন। গোললাইনের ওপর দাঁড়ানো ওয়াকাস শরিফ সোজা স্টিকে বল পোস্টের ভেতরে নিয়ে আাসেন। সঙ্গে সঙ্গেই আম্পায়ার বাঁজান গোলের বাঁশি।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে মেরিনার্সের ইশতিয়াক একটি গোল করলেও পরে ভিডিও রিভিউতে এটি বাতিল হয়। প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিটের খেলা শেষ করতে সময় লাগে পুরোপুরি এক ঘণ্টা!
দ্বিতীয়ার্ধে সতর্ক শুরু করে দুই দলই। বাড়তি কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি কেউই। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণে উঠার কৌশল বেছে নেয়। কিন্তু গোলের সুযোগ বেশি সৃষ্টি হয়নি। এর মাঝে মেরিনার্স টানা দুটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিলেও দুইবার আশরাফুল বল মারেন বাইরে।
আক্রমনের ধারাবাহিকতায় সমতা আনে মেরিনার্স; এবার উৎস নয় গোল দাতা হিসেবে আবির্ভূত হন আরশাদ। ৫০ মিনিটে মো. ইশতিয়াকের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে তিনি ভাঙেন ঊষা ডিফেন্স। ইশতিয়াকের পুশে মাঝ স্টিক দিয়ে বল গোললাইন অতিক্রম করান আরশাদ।
দ্বিতীয়ার্ধে খাপছাড়া ছিল ঊষা বরং জেতার জন্য মরিয়া ছিল মেরিনার্স। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিক পর্যন্ত কোনও পেনাল্টি কর্নার আদায় করতে পারেনি ঊষা। এমনকি মূল অস্ত্র আলিম বেলালকে ব্যবহার করতে পারেনি তারা। মেরিনার্সের কেনিয়ান মিডিফিল্ডার উইলিস ও চেক ডিফেন্ডার টমাস ফুচাসকা গড়ে তোলেন দুর্ভেদ্য এক প্রাচীর।
এরমাঝেই শেষ দিকে দুই মিনিট আগে তৃতীয় গোলটি করেন মেরিনার্সের মোহাম্মদ ইশতিয়াক।
/আরএম/এফআইআর/








