এশিয়ান আর্চারির শুরু থেকে একজন প্রতিযোগী ক্র্যাচে ভর দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। দীর্ঘকায় ইরফান শাহেদ কোরেশী এসেছেন পাকিস্তান থেকে। বয়স ৫০ হয়ে গেলেও তিনিই দেশের সেরা আর্চার, প্রতিযোগিতার বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়ও তিনি।
অনেকটা বসে থাকার ভঙ্গিতে তীর ছোড়া কোরেশীর পারফরম্যান্স ভালো নয়, কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠতে পারেননি। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বদেশের পতাকা তুলে ধরতে পেরেই তিনি গর্বিত।
২০১২ সালে পাকিস্তান আর্চারি ফেডারেশনের জন্মের বহু আগেই তীর-ধনুকের সঙ্গে সখ্য কোরেশীর। ২০ বছর ধরে খেলছেন তিনি। পাকিস্তান দলের কোচের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। এই প্রথম কোনও এশিয়ান প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কোরেশীর কাছে অভিজ্ঞতা অর্জনই মুখ্য। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বললেন, ‘আমরা আর্চারিতে নতুন, চেষ্টা করছি উন্নতি করার। এটাই প্রথম বড় টুর্নামেন্ট আমাদের। আমরা বাংলাদেশের মতো এগিয়ে যেতে চাই, হয়তো একটু সময় লাগবে। বাংলাদেশ আর্চারিতে উন্নতি করছে, কারণ এদেশে আর্চারিতে উৎসাহী মানুষ আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের তেমন কোনও উৎসাহী লোক নেই, ফেডারেশনের কাছ থেকেও কোনও সাহায্য পাই না।’
পাকিস্তানে প্রায় ২০০ আর্চার থাকলেও তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই তাদের জন্য। তবে সব সমস্যা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন কোরেশীর চোখে, ‘আমরা কয়েকজন কোচ-খেলোয়াড় মিলে চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতি বছর জাতীয় আসর হচ্ছে। আমাদের দেশে অনেক প্রতিভাবান আর্চার আছে, কিন্তু ভালো কোচিং এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে এগোতে পারছি না। ঢাকার মতো আরও আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিলে আমরা এগোতে পারবো।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘লেভেল টু’ কোচিং করা কোরেশী আরও বললেন, ‘আমাদের দেশে ক্রিকেট-হকির মতো জনপ্রিয় নয় আর্চারি। আমরা খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছি। এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এশিয়ান আর্চারিতে অংশ নিচ্ছি। ভবিষ্যতে ইসলামিক সলিডারিটি আর্চারি ঢাকায় হলে নিশ্চয়ই আবার আসবো।’
আর্চারি নিবিড় মনঃসংযোগের খেলা। আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তান এখন ক্ষত-বিক্ষত। অনুশীলনে সমস্যা হয় কিনা জানতে চাইলে কোরেশী দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘আমাদের আর্চারি ক্লাব আছে, সেখানে প্র্যাকটিসের সুযোগ আছে। বোমা হামলা নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। আমরা নির্বিঘ্নে প্র্যাকটিস করতে পারি।’








