এখনও নিজের সঙ্গেই ‘যুদ্ধ’ করছেন রোমান সানা। টোকিও অলিম্পিকে মাত্র এক পয়েন্টের কারণে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। যা তাকে এখনও পোড়াচ্ছে! অথচ যেতে চেয়েছিলেন অনেক দূর। সবার প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে চেষ্টা কম করেননি। কিন্তু রিকার্ভ এককে দ্বিতীয় রাউন্ডে কানাডার ক্রিসপিন ডুয়েনাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও হারতে হয়েছে। সেই হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে লক্ষ্যটা করেছেন আরও বড়। ২০২৮ অলিম্পিকে জিততে চাইছেন সোনা।
টোকিওতে ব্যর্থ হলেও বিশ্রাম পাচ্ছেন না বাংলাদেশের আর্চারির এই পোস্টার বয়। আগামী মাসে আমেরিকাতে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আছেন টঙ্গীর আবাসিক ক্যাম্পে। সেখান থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে ২০২৮ অলিম্পিকের লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন, ‘দেখুন, এবার টোকিও অলিম্পিকে আরও অনেক দূর যেতে চেয়েছিলাম। অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু সেটি হলো না। বলতে পারেন, নিজের ব্যর্থতায় ছিটকে যেতে হয়েছে। তবে এখান থেকেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি সেটমার্ক ঠিক করেছি। অন্তত আগামী ৮ বছর পর সোনার পদক জয়ের জন্য নিজেকে শাণিত করবো।’
রোমান শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবছেন না। আশাবাদী সতীর্থদের নিয়েও। বাংলাদেশ থেকে আগামী ৮ বছরে যে কেউ পদক জেতার মতো অবস্থানে থাকবেন বলে বিশ্বাস রোমান সানার। সেটি কীভাবে সম্ভব তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই আর্চার, ‘এই ক’বছরে নিজেদের ভালোভাবে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। দেশ ও দেশের বাইরে প্রচুর প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবো। অনেক অভিজ্ঞতা হবে, আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। ৮ বছর পর অন্তত এমন এক জায়গায় পৌঁছাতে পারবো, তখন পদক জেতার কথাটা ভালোভাবে বলতো পারবো। শুধু আমি নই, অন্যরাও উঠে আসছে। যে কেউ তখন পদক জেতার মতো অবস্থানে থাকতে পারবে।’
এর আগে ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক আছে। সেখানেও আশা কম দেখছেন না রোমান। চাইছেন চার বছর পর সব ঠিকঠাক থাকলে সেখানেও ভালো কিছু করতে। রোমানের কথায়, ‘আমরা সবাই একটু একটু করে ভালো করছি। এভাবে ঠিকভাবে চললে আমরা এগিয়ে যাবোই। প্যারিস অলিম্পিক হতে পারে আমাদের বড় পরীক্ষা। সেখানেও ইতিবাচক কিছু হওয়া অসম্ভব কিছু না।’
সেই লক্ষ্যে অর্জনে রোমানদের ভরসা জোগাচ্ছেন জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। টোকিও অলিম্পিকে রোমানের ভুল-ত্রুটি নিয়ে কাজ করেছেন। কোথায় কোথায় ভুল ছিল, সেগুলো দেখিয়েও দিয়েছেন। তাই আত্মবিশ্বাসটা আরও বেশি দেখা যাচ্ছে রোমানের কথায়, ‘কোচ আমাদের সহায়তা করে থাকেন। এখন আমরা আর্চারিতে ভালো অবস্থানে আছি। আগামী দুটি অলিম্পিকের আগে নিশ্চয়ই আরও ভালোভাবে নিজেদের প্রস্তুতি নিতে পারবো। বেশি বেশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তখন সবাই আরও অভিজ্ঞ হবো। তাই সেই সময় পদক জেতার কথা বলতেই পারি।’
মার্টিন ফ্রেডরিসক প্রায় তিন বছর ধরে বাংলাদেশ আর্চারির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তাই শিষ্যদের সম্পর্কে তার জানা-শোনাটা বেশ ভালো। তিনি তো বলেই দিয়েছেন, ‘রোমান হলো দেশের সেরা আর্চার। অন্যরাও ভালো করছে। আগামীতে ঠিকমতো পরিচর্যা পেলে পদক জেতা অসম্ভব কিছু নয়।’









