লন্ডনবাসীর মতোই বড় হয়েছেন ইমরানুর। শৈশবে প্রচলিত সব খেলাধুলায় মেতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন অ্যাথলেটিকসে। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেই ইমরানুরই এখন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব। শুধু কী তাই? এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হয়ে ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন। দেশকে করেছেন গর্বিত। সেই দ্রুততম মানবের অনেক দিনের ইচ্ছা সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালদের সান্নিধ্যে আসার। লন্ডনবাসী হওয়ায় এবার সেই সুযোগ এসেছে ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে।
সবাই জানে সেখানে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে গেছে। ইমরানুর তাই সাকিব-তামিমদের এক ঝলক দেখার সুযোগটি আর হাতছাড়া করবেন কেন? শেফিল্ড থেকে এসে প্রথম ওয়ানডের আগে তাদের সঙ্গে দেখা করে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন এই ২৯ বছর বয়সী অ্যাথলেট।
নিজে ক্রীড়াঙ্গনের অন্য ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধি হলেও ভালো করেই জানেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। আর সেই ক্রিকেট তারকাদের সঙ্গেই তার দেখা করার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব হয়েছে। এর জন্য বেশি সময় পাননি যদিও। সাকিবদের অনুশীলনের ফাঁকে যতদূর সম্ভব আলাপচারিতা সেরেছেন। তুলেছেন সেলফি।
শেফিল্ড থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাংলা ট্রিবিউনকে ইমরানুর সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন এভাবে, ‘সাকিব আল হাসান-তামিমদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। কথা হয়েছে। আসলে সবাই খেলা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তাই বেশিক্ষণ কথা বলা সম্ভব হয়নি। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে জানি খেলার মধ্যে থাকলে অন্য কাজ করা কঠিন। মনোযোগ ধরে রাখতে হয়।’
ব্যস্ততার মাঝেও ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে বেশ সখ্য গড়ে উঠেছে ইমরানুরের। অনুশীলনের মাঝেও ওয়ানডে অধিনায়ক তাকে কিছুটা সময় দিয়েছেন। ইমরানুর বলেছেন, ‘তামিম ইকবাল আমার পারফরম্যান্স সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। সামনে আমার কোন কোন ইভেন্ট আছে তাও জেনে নিয়েছেন। আসলে তিনি সহজেই মিশে গিয়েছিলেন। আমাকে শুভকামনা জানিয়েছেন। আমিও তার মাধ্যমে ক্রিকেট দলের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছি।’
সবার সঙ্গে কথা বলে ভালো অনুপ্রেরণাও পেয়েছেন ইমরানুর। যা সামনের দিকের খেলাতে কাজে লাগবে বলে মনে করেন তিনি, ‘আমি সবসময় আমাদের ক্রীড়াবিদদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে থাকি। ক্রিকেটারদের কাছ থেকে তো অবশ্যই। দেশের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। আমরা সবাই দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনার জন্য খেলে থাকি। মেডেল ও ট্রফি আনাটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
শেফিল্ডে চাকরির পাশাপাশি অ্যাথলেটিকসে মনোযোগ দিয়ে থাকেন ইমরানুর। সামনে তার ব্যস্ত সময়। এশিয়ান গেমসসহ রয়েছে অন্য ইভেন্ট। আপাতত সেদিকেই চোখ তার, ‘আমার সামনে কিছু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট রয়েছে। ইউরোপে টুর্নামেন্ট ছাড়াও রয়েছে এশিয়ান গেমস ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’









