নতুন বছরে প্রথম আন্তর্জাতিক বক্সিং টুর্নামেন্ট। তাই বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে দর্শকের ভিড় ছিল দেখার মতোই। পার্কের মাঝে শনিবার রাতে পেশাদার বক্সিংয়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ‘পাথ টু গ্লোরি- হাসল ইন ঢাকা স্কয়ারের’ দারুণ এক ইভেন্ট হয়ে গেলো।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের সুরো কৃষ্ণ চাকমা ও ভারতীয় সন্দীপ কুমারের লড়াই। তাতে ৮ রাউন্ডের লাইটওয়েট ক্যাটাগরিতে সুরো হারিয়েছেন ভারতের শক্তিশালী বক্সারকে। লড়াই শেষ হতেই জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে নেন বাংলাদেশি বক্সার। মঞ্চে উঠে তাকে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশের প্রো বক্সিং ফাউন্ডেশনের সভাপতি আদনান হারুন।
শনিবারের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে উচ্ছ্বসিত রাঙামাটির এই বক্সার, ‘এই ম্যাচ জেতার কারণে আমার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ রইলো। প্রতিযোগিতার জন্য অনেক অনুশীলন করেছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ বক্সার যে এত কঠিন হবে, এত প্রস্তুতি নিয়ে আসবে সেটা জানা ছিল না। ভেবেছিলাম আহামরি বক্সার। কিন্তু সে কঠিন প্রতিপক্ষ।’
পেশাদার টুর্নামেন্টে অল্প সময়ের মধ্যে লড়াই করাও অনেক কঠিন, বললেন ২৯ বছর বয়সী বক্সার, ‘১৫ দিন আগেই লড়াই করে আবারও রিংয়ে নামা সহজ কাজ না। কমপক্ষে ২-৩ মাস বিশ্রাম নিতে হয় পেশাদার বক্সিংয়ে। কিন্তু সেই সুযোগ পাইনি। শুধু ভালো সুযোগের জন্য এই লড়াইয়ে নেমেছি আমি।’
যে কোনও খেলায় ভারতীয় প্রতিপক্ষকে হারানো বড় বিষয়। বক্সিংয়ের রিংয়ে সুরো তাই এই জয়ে খুশি, ‘শুধু ভারতীয় না, যে কোনও বক্সারকে হারানোতেই আনন্দ রয়েছে। নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য সব সময়ই গর্বের।’
৮ রাউন্ডে জেতার কারণে এবার ১০ রাউন্ডের লড়াইয়ে নামতে পারবেন সুরো, ‘খেতাবের লড়াইয়ের জন্য লড়তে পারবো এবার। সামনেই ডব্লিউবিসি (ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিল) চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। যে লড়াইয়ে খেলেছেন মোহাম্মদ আলী, মাইক টাইসনের মতো বক্সাররা। এবার আমি সেই প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবো। এটা শুধু আমার জন্য না, পুরো বাংলাদেশের জন্যই ইতিহাস হবে। বিশাল অর্জন অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।’
এর আগে ওয়েলটার ওয়েট ক্যাটাগরিতে খেলেন বাংলাদেশের আল আমিন ও মোকসেদুল রানা। এই ক্যাটাগরিতে সহজেই জিতেছেন আল আমিন। তবে ৬ রাউন্ডের খেলায় ফেদারওয়েট ক্যাটাগরিতে মালয়েশিয়ার ডাইলোনিয়েল ম্যাকডিলোনের সঙ্গে ড্র করেন বাংলাদেশের রিসাতুল মাহমুদ সাজিন।








