হঠাৎ জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে একপ্রকার ‘বিস্ফোরণ’ ঘটিয়েছেন দেশসেরা আর্চার রোমান সানা। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সবার মনে নাড়া দিয়েছে তার এমন বিদায়। সতীর্থসহ অন্য খেলোয়াড়রা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে নানান মন্তব্য করে রোমানকে সমর্থন করে যাচ্ছেন জহির রায়হান-মাবিয়া আক্তার সীমান্তরা।
কিছুদিন আগে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটার দৌড়ে রুপা জিতে আসার জহির নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরতে কার্পণ্য করেননি। রোমানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘ভাই আপনার থেকে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ। আপনি বীরের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনার মতো সবার প্রতিবাদ করা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশকে আপনার আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে ভাই। মান অভিমান ভুলে ক্রীড়াঙ্গনে থাকুন ভাই।’
এরপরই হতাশ হয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘ভাই সবার তো একই অবস্থা। ক্রিকেট ছাড়া তো কোনও খেলার ভবিষ্যৎ নেই বললেই চলে।’
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক মিডফিল্ডার রাশেদুল ইসলাম তো রোমানের মাসিক বেতন শুনে যারপরনাই হতাশ, ‘রোমানের মতো একজন অ্যাথলেট সব মিলিয়ে মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন পান। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।’
২০১৯ সালে কাঠমান্ডু এসএ গেমসে সোনাজয়ী কারাতেকা হোমায়রা অন্তরা আক্ষেপের সুরে লিখেছেন, ‘ক্রিকেট ছাড়া সব খেলাতে এমন দশা। খেলোয়াড়রা কী পদক আনবে সেটা নিয়ে লেখালেখি হয়। তবে লেখালেখি করা উচিত খেলোয়াড়দের জন্য কী কী পরিকল্পনা করেছে ফেডারেশন ও মন্ত্রীসহ অন্যরা।’
ভারতের আসাম ও কাঠমান্ডুতে টানা সোনা জেতা মাবিয়া নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, ‘শুধু রোমান ভাই ছাড়া এমন অনেক খেলোয়াড়ই আছে যাদের মাসিক আয় শুনলে আপনারা লজ্জা পাবেন। সঙ্গে আমরা যারা খেলোয়াড়রা আছি, তারাও খুবই হতাশ হই।’
সদ্য চোট সেরে আবারও ক্যাম্পে যোগ দেওয়া জাতীয় কাবাডি দলের সাবেক অধিনায়ক মাসুদ করিম সরাসরি লিখেছেন, ‘সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও। আমি সাধুবাদ জানাই। সবাই জানুক একজন দেশসেরা ক্রীড়াবিদ কীভাবে কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছে। তাছাড়া খেলাধুলার বাইরে কিছু করতে হলে আগেই শুরু করতে হবে। কেননা সাবেক অনেক দেশসেরা ক্রীড়াবিদ অর্থের অভাবে চিকিৎসাসহ কষ্টকর দিনাতিপাত করছে এমন নিউজ প্রায় দেখা যায়।’








