এবার কি ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ডে সাঁতারের টাইমিং দেখা যাবে? জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারের সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নে যথারীতি উত্তর ‘না’।
মিরপুর সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেক ৩৬তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতা। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ বাংলা ব্যাংক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ডের প্রসঙ্গে অসহায়ের সুরে কথা বলেছেন সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা বদরুল সাইফ, ‘আমরা টেকনিক্যাল বিষয় ভালো বুঝি না। কিন্তু বিভিন্ন সময় ট্রায়াল দিয়েও আমরা সঠিক সময় পাই না। বাধ্য হয়ে প্রতিটি গেমস চালাচ্ছি হ্যান্ড টাইমিংয়ে। স্কোরবোর্ডটি আমরা বুঝে নেইনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে। ওই সময় যে প্রশাসক ছিলেন, উনি বুঝে নিয়েছিলেন। কিন্তু সাঁতার ফেডারেশন সেটা নানান কারণে বুঝে নেয়নি। এখন পর্যন্ত ওই স্কোরবোর্ডে একটি গেমও করতে পারিনি।’
২০১৯ সালে মিরপুর সুইমিং পুলে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছিল এই স্কোরবোর্ড। সেবার সেরা সাঁতারুর খোঁজে প্রতিযোগিতার জন্য মিরপুর সুইমিং পুল সংস্কারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পুরানো স্কোরবোর্ড সরিয়ে বসানো হয় ডাকট্রোনিকস কোম্পানির স্কোরবোর্ড। কিন্তু স্কোরবোর্ডটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। আর এমন ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্কোরবোর্ড কেনায় ২০২২ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছিল। এই সুইমিং পুলের স্কোরবোর্ড নিয়ে কোনও দুর্নীতি হয়েছে কিনা? সংবাদ সম্মেলনে তাই এমন প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু এই প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেটা বলতে পারব না। তবে জিনিসটা যে আমরা ঠিকমতো বুঝে পাইনি এবং ওটা আমাদের কাজে আসেনি সেটা তো দৃশ্যমান।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির কাছে অভিযোগ করেছি। কমিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বলেছে। কিন্তু কিছু হয়নি। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি।’
আবারও নতুন সাঁতারুর খোঁজে কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক, ‘আমাদের নতুন সভাপতি এসেছেন। তার মাধ্যমে আমরা বৃহত্তর আকারে একটি ট্যালেন্ট হান্ট করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আগামী বছরের প্রথম নাগাদ এটি শুরু হবে। এটা আমরা দীর্ঘমেয়াদী করার চেষ্টা করছি। ১৫ বছরের পরিকল্পনার মধ্যে যেতে চাই আমরা।’
এবারের বয়সভিত্তিক সাঁতারে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, জেলা, সুইমিং ক্লাব, বিকেএসপি ও আনসারসহ ৬৫টি দলের ৫৫০ জন সাঁতারু অংশ নেবেন।
পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও ত্রুটিপূর্ণ স্কোরবোর্ডটি সরানো হয়নি। সুইমিং পুলের মাথায় অযাচিতভাবে শোভা পাচ্ছে এটি। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই স্কোরবোর্ড থেকে তাহলে লাভ কী?








