একসময় আবাহনী-মোহামেডানের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে বাঁশি হাতে মাঠে তার উপস্থিতি ছিল অপরিহার্য। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে রেফারি হিসেবে দাপটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, গড়ে তুলেছেন বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। বাংলাদেশের ফুটবলের সেই পরিচিত মুখ কিংবদন্তি রেফারি মনসুর আজাদ এখন দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েক দিন আগে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। পরে তার স্ত্রী ও ছেলে ওয়ায়েস তাকে খুলনায় নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
গতকাল খুলনার মিয়া পাড়ায় মনসুর আজাদের বাড়িতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা দেখে ব্যথিত হয়েছেন দীর্ঘদিনের পরিচিত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাকে এই অবস্থায় দেখে কষ্ট পেয়েছেন একসময়ের সহকর্মী তৈয়ব হাসানও। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আজাদ ভাই ভালো নেই। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নাজুক অবস্থায় আছেন। বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। অথচ এই মানুষটি একসময় মাঠে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে বাঁশি হাতে দৌড়ে বেড়াতেন। পরবর্তীতে রেফারিং নিয়েও তার কাজের কমতি ছিল না। তাঁকে এই অবস্থায় দেখে খারাপ লাগছে।’
ফুটবলের সঙ্গে মনসুর আজাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দুরন্ত, খেলাধুলার প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। খেলোয়াড় হিসেবে খুলনা ও ঢাকায় ফুটবল খেলেছেন। গোলরক্ষক হিসেবেও মাঠে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পরে ফুটবল মাঠের বিচারক হিসেবে বেছে নেন রেফারিংকে। সেখানেই গড়ে ওঠে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।
একসময় আবাহনী-মোহামেডানের লড়াইয়ে মনসুর আজাদের বিকল্প ভাবা কঠিন ছিল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার জন্য তাকে বিমানে করে উড়িয়ে আনার ঘটনাও ছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। বাংলাদেশের ফুটবল রেফারিংয়ের মানোন্নয়নেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
১৯৮৭ সাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করার ও ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিরা আজও স্মরণ করেন তার আন্তরিকতা, অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতার কথা। রেফারিংয়ের বাইরেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রসারে অবদান রেখেছেন মনসুর আজাদ।
খুলনা জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে ছিল তার নিবিড় সম্পৃক্ততা। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও বাফুফের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সময়, শ্রম, অর্থ, মেধা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে কাজ করেছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য।
মনসুর আজাদের সুস্থতা কামনায় গতকাল দোয়ার আয়োজন করে সোনালী অতীত ক্লাব, খুলনা। সেখানে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।