ক্রিসমাসের মতো বক্সিং ডে’তেও সরকারি ছুটি থাকে বলে ক্রিকেট বা জনপ্রিয় খেলার আয়োজনগুলোও বিপুল দর্শক উপস্থিতির কারণে বিশেষ লাভজনক হয় বলে স্পন্সররা এর আয়োজনে উৎসাহী হয়। ক্রিকেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসব দেশে উপচে পড়ে বিয়ার বিকিকিনির ব্যবসা।
অপেক্ষার পালা শেষ। সোমবার ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। এদেশীয়দের অপেক্ষার বক্সিং ডে ক্রিকেট ম্যাচ। ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড এসব ক্রিকেটপ্রেমী দেশগুলোয় ক্রিসমাসের দিন বক্সিং-ডে উপলক্ষে কোনও একটি বিদেশি দলের বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়। বার্ষিক ক্রিকেট সূচিও তারা সেভাবেই সাজায়। বাংলাদেশ এ মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষ এক মর্যাদার দেশ। কারণ বাংলাদেশ দল তাদের দেশে বক্সিং ডে ম্যাচ খেলতে এসেছে। এ উপলক্ষে নিউজিল্যান্ডের নানাপ্রান্ত থেকে অভ্যন্তরীণ পর্যটকরা ক্রাইস্টচার্চ আসতে শুরু করেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এসেছেন, আসছেন ক্রাইস্টচার্চে। এজন্যে স্থানীয় হোটেলগুলোয় এক রকম ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই অবস্থা।
এই ফাঁকে বক্সিং ডে’র ইতিহাস নিয়ে একটু বলে নেই। বক্সিং ডে মানে এখানে দেশজুড়ে বক্সিং খেলার প্রতিযোগিতা নয়। এর ইতিহাসটি দাস যুগের। দাস যুগে ক্রিসমাসের পর দিন মনিবরা দাসদের বক্সে করে উপহার দিত। সেখান থেকে বক্সিং ডে নামটির উৎপত্তি। এখন আর দাস যুগ নেই। বক্সিং ডে এখন খ্রিস্টান প্রধান এসব দেশগুলোর বড় বিজনেস ইভেন্ট। বড় বড় কোম্পানি, সুপার মার্কেটে এদিন তাদের নানা পণ্যের মূল্য হ্রাস ঘোষণা করা হয়। বিশেষ করে ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর মূল্য হ্রাসের জন্যে বিশেষ অপেক্ষার দিন এই বক্সিং ডে সেল। ক্রিসমাসের মতো বক্সিং ডে’তেও সরকারি ছুটি থাকে বলে ক্রিকেট বা জনপ্রিয় খেলার আয়োজনগুলোও বিপুল দর্শক উপস্থিতির কারণে বিশেষ লাভজনক হয় বলে স্পন্সররা এর আয়োজনে উৎসাহী হয়। ক্রিকেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসব দেশে উপচে পড়ে বিয়ার বিকিকিনির ব্যবসা। এই বক্সিং ডে’তেও গ্যালন গ্যালন বিয়ার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে হেগলি ওভালের অস্থায়ী দোকানগুলোয়। সোমবার ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে তেমন একটি বক্সিং ডে ম্যাচে আয়োজক কিউই দলের প্রতিপক্ষ অতিথি বাংলাদেশ।
এই বক্সিং ডে ম্যাচ উপলক্ষে পুরো ক্রাইস্টচার্চ জুড়ে চলছে নানা প্রস্তুতি। এখানকার হেগলি ওভালের যেখানে খেলা হবে সেটার ধারণ ক্ষমতা মাত্র ১৮ হাজার। এর বেশিরভাগ টিকেট এরমাঝে বিক্রি হয়েছে। মাঠের এক পাশে শুধু গ্যালারি। তাই বেশিরভাগ দর্শককে ওভালের চারপাশের মাটিতে ঘাসের গালিচার ওপর বসতে হবে। গ্রাউন্ডের এসব টিকেটের দামও প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতিটি ৪২ ডলার। প্রবাসী বাংলাদেশি শাহীন, হাফিজুর, বেনজির জানান তিন মাস আগে তারা অনলাইনে টিকেট কিনেছেন। দেশের খেলা, কোনোভাবে যেন খেলা দেখা মিস হয়ে না যায় এজন্যে তারা কোনও ঝুঁকিতে যেতে চাননি। খেলা উপলক্ষে দেশ থেকে তারা স্বদেশী দলের জার্সি-বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা আনিয়েছেন। কারণ কোনও বাংলাদেশি দোকান নেই ক্রাইস্টচার্চে। বাংলাদেশি জার্সি-পতাকাও এখানে কেনার কোনও সুযোগ নেই।
এসব ওভালের মতো মাঠে খেলার সময় বৃষ্টির মধ্যে দর্শকদের জেরবার অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অবশ্য সোমবার বৃষ্টি নেই। কিন্তু আকাশ থাকবে মেঘলা। রোববার ক্রিসমাসের দিনটিতে সারাদিন আকাশ মেঘলা ছিল। একবারও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সোমবার এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকলেও সাগরপাড়ের দেশটিতে আকাশ বদলাতে কতক্ষণ! কিন্তু বৃষ্টি হোক না হোক ক্রিকেটপ্রেমীদের উৎসব প্রস্তুতির কমতি নেই। এসবের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অপেক্ষায় আছেন স্বপ্নের বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটারদের চোখের সামনে দেখার। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ শুরু হবে আর কয়েক ঘণ্টা পর।
/এফএইচএম/








