শেষ দিন দুই সেশনেই প্রথম ঘণ্টায় দাপট দেখাল শ্রীলঙ্কার বোলাররা। যেখানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন রঙ্গনা হেরাথ। তার স্পিনে মাত্র ১৯৭ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ২৫৯ রানের জয়ও নিশ্চিত করেছে লঙ্কানরা। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে থাকল তারা।
৬৭/০- চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের এ স্কোরবোর্ড দারুণ আশা জাগিয়েছিল। অন্তত হার এড়িয়ে ড্রর সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মনে। কিন্তু শেষ দিনের বেহাল দশা সেই আশা ভেঙে দেয়।
শনিবার প্রথম ঘণ্টায় ৩৭ রানে পাঁচ উইকেট হারালে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের লড়াইয়ে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টায় আরেকটি বিপর্যয়, ৩৯ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারায় সফরকারীরা। দু’শ না পেরোতেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
বিনা উইকেটে ৬৭ রানে শনিবারের খেলা শুরু করেছিল সফরকারীরা। ৫৩ রানে অপরাজিত নামা সৌম্য সরকার শুধুমাত্র একটি বলই খেলেছেন, সেটাতেই হয়েছেন আউট। আসেলা গুনারত্নের পেস বুঝতে না পেরে বোল্ড হন এ ওপেনার।
উইকেট যে স্পিন সহায়ক হয়ে উঠেছে তার প্রমাণ রাখতে টানা দুই ওভারে মুমিনুল হক ও তামিম ইকবালকে ক্রিজ ছাড়া করেন দিলরুয়ান পেরেরা। মাত্র ৫ রানে মুমিনুল এলবিডব্লিউ এবং ১৯ রানে গুনারত্নেকে ক্যাচ দেন তামিম।
এর পর অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের স্পিন জাদু। তার সপ্তম ওভারে সাকিব ৮ রানে ক্যাচ তুলে দেন দিমুথ করুনারত্নের হাতে। ওই ওভারে নেমেই মাহমুদউল্লাহ দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউর শিকার, রানের খাতা খোলা হয়নি তার। ১০৪ রানের মধ্যে ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের।
এ ধাক্কা বেশ ভালোভাবে সামাল দেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। দুইজনে লাঞ্চে যাওয়ার আগে পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়েন অর্ধশতাধিক রানের জুটিতে। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের দ্বিতীয় বলেই তাদের ৫৪ রানের জুটিটি ভাঙেন লাকশান সান্দাকান। উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকওয়েলার গ্লাভসে ৩৪ রানে ধরা পড়েন মুশফিক।
তিন ওভার বিরতি দিয়ে হেরাথের শিকার হন লিটন। ৩৫ রানে উপুল থারাঙ্গাকে ক্যাচ দেন তিনি। আর এ উইকেটটি নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বাঁহাতি স্পিনারের মর্যাদা পান হেরাথ। ৩৬৩তম উইকেটটি নিয়ে শীর্ষ বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টরিকে টপকে যান তিনি।
এখানেই শেষ নয়। প্রতিপক্ষ এ অধিনায়কের ঘূর্ণি বলে কুপোকাত হয়েছে বাংলাদেশের টেল এন্ডাররা। হেরাথের পরপর দুই ওভারে তাসকিন আহমেদ (৫) ও রানের খাতা না খুলেই বিদায় নেন মুস্তাফিজুর রহমান। ক্যারিয়ারের ২৯তম বার এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব গড়েন তিনি।
মিরাজকে ২৮ রানে লাহিরু কুমারার ক্যাচ বানিয়ে শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত করেন হেরাথ। ২০.২ ওভারে ৫ মেডেনসহ ৫৯ রান দিয়ে তিনি নেন ৬ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা- ৪৯৪ ও ২৭৪/৬ ডিক্লেয়ার
বাংলাদেশ- ৩১২ ও ৬০.২ ওভারে ১৯৭ (সৌম্য ৫৩, মুশফিক ৩৪, লিটন ৩৫; হেরাথ ৬/৫৯, দিলরুয়ান ২/৬৬)
ফল- শ্রীলঙ্কা ২৫৯ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা- কুশল মেন্ডিস
সিরিজ- দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ তে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা।
/এফএইচএম/








