শততম টেস্টের আগে নতুন এক মাহমুদউল্লাহর দেখা মিলল কলম্বোতে। যেন মৃত্যুপুরিতে দাঁড়িয়ে আছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার! বিমর্ষ একেবারে গ্রাস করেছে তাকে।
সবসময় হাস্যোজ্জ্বল মাহমুদউল্লাহকে যেন চেনাই যাচ্ছে না। সোমবার প্রথম কয়েক ঘণ্টার অনুশীলনে যতক্ষণ মাঠে ছিলেন বিমর্ষ হয়েই কাটিয়েছেন সময়টুকু। যে ক্রিকেটকে তিনি উপভোগ করে এখানে এসেছিলেন, আজ যেন ওটাকে বড় অচেনা লাগছে!
এদিন দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের ফুটবল খেলা দেখছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তখনই বোঝা যাচ্ছিল তার মনের অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে। মানসিক অবস্থাটা ভালো থাকে কী করে? শততম টেস্টের স্কোয়াডে থাকলেও ম্যাচের একদিন আগে জানিয়ে দেওয়া হয়- একাদশে থাকছেন না মাহমুদউল্লাহ। যদিও দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ ও বিসিবি সভাপতি ওয়ানডে দলে মাহমুদউল্লাহর থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ জানালেন, ‘নির্বাচক প্যানেল যদি বিশ্বাস করে মাহমুদউল্লাহকে দলে রাখতে হবে, তাহলে অবশ্যই সে আবার শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসবে।’ তবে কেনই বা মাহমুদউল্লাহ ফিরে যাচ্ছেন দেশে। ম্যানেজারের দাবি সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে ড্রেসিংরুমে অস্বস্তিতে থাকবেন বলেই দেশে ফিরে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। এটা নাকি তার ব্যক্তিগত মতামত। যদিও এ ব্যাপারে মাহমুদউল্লাহর কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যদিও খালেদ মাহমুদের মুখ থেকেই জানা গেছে মাহমুদউল্লাহর বিষয়টি কীভাবে নিয়েছেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্যই এটি কঠিন সিদ্ধান্ত। খেলতে না পারাটা কষ্টের। রিয়াদ হয়তো কষ্ট পেয়েছে। আমি মনে করি সে অনেক পরিণত। মন খারাপ থাকলেও সে বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আশা করি সে আবার ভালোভাবে ফিরে আসবে।’
সোমবার টাইগারদের অনুশীলনের মধ্য থেকে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ দল তখনও নেটে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মুশফিক, তামিম, সাকিব সবাই নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করছিলেন। সেখানে মাহমুদউল্লাহ সাদা মাইক্রোতে। গন্তব্য হোটেল তাজ সমুদ্র। সেখান থেকেই মঙ্গলবার সকালে দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে উঠার কথা তার। এনিয়ে খালেদ মাহমুদ সর্বশেষ তথ্য জানান, ‘টিকেট পাওয়া সাপেক্ষে কাল নয়তো পরশু ঢাকায় যাবে মাহমুদউল্লাহ। ঢাকা থেকে নতুন কোন তথ্য সে পায়নি। ওয়ানডে দলে সুযোগ পেলে অবশ্যই আবার শ্রীলঙ্কায় আসবে সে।’
টেস্টে সম্প্রতি ব্যাট হাসছে না মাহমুদউল্লাহর। গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ৬টি। সবগুলোতেই নিয়মিত মুখ ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সেখানে শেষ ১২ ইনিংসে মাহমুদউল্লাহর ইনিংসগুলো ছিল এরকম ৩৮, ১৭, ১৩, ৪৭, ২৬, ৫, ১৯, ৩৮, ২৮, ৬৪, ৮, ০। ১২ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ৬৪। সবমিলিয়ে তাই কলম্বোতে শততম টেস্টে কাটা পড়েছেন তিনি।
এদিকে ওয়ানডেতে মাহমুদউল্লাহর পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো নয়। ২০১৫ সালের মতো ধারাবাহিক হতে পারেননি তিনি। সর্বশেষ ৯টি ইনিংস খেলে মাহমুদউল্লহর সংগ্রহ ৬২, ২৫, ৩২, ২৫, ৭৫, ৬, ০, ১, ৩। টেস্টের চেয়ে একটু বেশি। মোটামুটি পারফরম্যান্স হয়তো মাহমুদউল্লাহকে ওয়ানডেতে ফিরিয়ে আনলেও আনতে পারে। শততম টেস্ট শেষে হয়তো বোঝা যাবে শ্রীলঙ্কায় ফের ফিরছেন কিনা মাহমুদউল্লাহ!
/আরআই/এফএইচএম/








