২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন চম্পাকা রামানায়েক। খুব কাছে থেকে দেখেছেন মাশরাফি-রুবেল-শফিউলদেরকে। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় শিষ্য ছিলেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটার মাশরাফি মর্তুজা। আর ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’এর সঙ্গে দেখা করতে মুখিয়ে সাবেক বোলিং কোচ।
আগামী দুই একদিনের মধ্যে মাশরাফি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। আর এবার সাবেক শিষ্যের বিরুদ্ধেই বোলিং নিয়ে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে রামানায়েককে। তবে সেই রণকৌশল তো মাঠে। কিন্তু মাঠের বাইরে তো দুইজনের সম্পর্ক এখনও অটুট আছে। তাই তো বাংলাদেশের অধিনায়কের দেখা পেতে মুখিয়ে আছেন শ্রীলঙ্কার বর্তমান বোলিং কোচ, ‘আমি তাকে (মাশরাফি) পছন্দ করি। তাকে দেখতে চাই। সে আমার খুব ভালো বন্ধু। একই সঙ্গে ভালো নেতা ও মানুষও।’
মাশরাফির হার না মানা মানসিকতার প্রশংসাও করেছেন তিনি, ‘এতোগুলো অস্ত্রোপচারের পরও সে খেলে যাচ্ছে। যদিও সে শুধু ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্ট খেলছে। আশা করি আরও কয়েক বছর সে খেলবে। মাশরাফিই আমার দেখা বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটার। আমি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য মুখিয়ে আছি।’
ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রগতিও মুগ্ধ করছে রামানায়েককে, ‘বাংলাদেশ দারুণভাবে এগিয়েছে। এটা দেখে ভালো লাগে। এক’শ টেস্ট খেলা সোজা কথা নয়। ২০০৮ বা ২০১০ সালের দিকে আমি যেমন দেখেছিলাম, এই দল তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি করেছে। খেলোয়াড়রা অনেক ভালো করছে। তাদের ভবিষ্যৎ অবশ্যই খুব ভালো।’
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য আরও কিছুদিন ধৈর্য্য ধরবে হবে মনে করেন রামানায়েক। তার মতে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞ হয়ে উঠলেই সাফল্য পাওয়া সম্ভব, ‘অভিজ্ঞতা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এখন দেশের বাইরে জিততে হবে। এটা সহজ কোনও ব্যাপার নয়। উপমহাদেশের সব দলই দেশের বাইরে সংগ্রাম করে। বাংলাদেশ আস্তে আস্তে পারবে। তাদেরকে ধৈর্য্য ধরতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘একবার তারা আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেলে এবং ‘আমরা জিততে পারি’- এমন বিশ্বাস পেলে তারা আরও ভালো করবে। জিততে থাকবে। ওই মনোভাবটা অর্জন করতে হবে। তাহলেই সফলতা মিলবে।’
রুবেল ও মাশরাফির বোলিংয়ে মুগ্ধ এ শ্রীলঙ্কান, ‘ওরা আমাকে আনন্দ দেয়। তারা ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করছে। টেস্ট ক্রিকেটে তাদের উন্নতিটা চোখে পড়ছে।’
বাংলাদেশের বর্তমান বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। তার তত্ত্বাবধানেই কোচিংয়ে তাসকিন-মুস্তাফিজরা হয়ে উঠছে আরও ধারালো। ওয়ালশকে নিয়ে বাংলাদেশের সাবেক কোচের মন্তব্য, ‘উনি তো কিংবদন্তি। তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে দারুণভাবে সাহায্য করবে। আমি সেই উন্নতিটা দেখতেই পাচ্ছি।’
বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণের প্রংশসা করে রামানায়েক বলেছেন, ‘রুবেলের গতি আছে। সে যদিও টেস্টে নিয়মিত নয়। তবে ওয়নডে বা টি-টোয়েন্টিতে খেলছে। তার গতিটা এখনও চোখে পড়ে। এ ছাড়া তাসকিন আছে। তার গতিও দারুণ। মাশরফিও আছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বাংলাদেশের পেস বোলাররা ভালো করবে। এ জন্য ধৈর্য্য ধরতে হবে।’
/আরআই/এফএইচএম/








