সকাল থেকে বাংলাদেশের জন্য দেয়াল গড়ে তুলছিলেন শ্রীলঙ্কার ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে। প্রথম সেশন থেকে দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশি বোলারদের অস্বস্তিতে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে সাকিব আল হাসান তাকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে বড় বাধা টপকে গেল সফরকারীরা।
ব্যক্তিগত ১২৬ রানে আউট হন করুনারত্নে। ২৪৪ বলে সাজানো তার ১০ চার ও এক ছয়ের ইনিংস। এ ওপেনার সাজঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে সপ্তম উইকেটের পতন হয় শ্রীলঙ্কার। ৮২ ওভারে ৭ উইকেটে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২১৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কানরা এগিয়ে ৯০ রানে।
প্রথম সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল মাত্র ১ উইকেট, যেটা স্বস্তির ছিল না। তবে দ্বিতীয় সেশন শেষে মুশফিকদের চোখেমুখে আশার আলো। বলা যায় ওই সময়ের পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কাকে বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানের পেস ও সাকিব আল হাসানের স্পিনে দুপুরের সেশনে ৫ উইকেট পায় সফরকারীরা।
প্রথম সেশনে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ড ছিল ১৩৭/১। এর পর মুস্তাফিজ তিন ও সাকিব দুটি উইকেট নিলে দ্বিতীয় সেশন শেষ হয় ১৯৯/৬।
প্রথম সেশনকে গুরুত্ব দিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান আগের দিন বলেছিলেন, যা করার সকালের সেশনে করতে হবে। বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিলে ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে বিশ্বাস ছিল এ অলরাউন্ডারের। কিন্তু সাকিবের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে দ্বিতীয় সেশন শেষে স্বস্তি ফিরেছে খেলোয়াড়দের মনে।
লাঞ্চে যাওয়ার আগে শ্রীলঙ্কার মাত্র একটি উইকেট পায় সফরকারীরা। দিনের শুরুটা হয়েছিল মুশফিকদের উদযাপন দিয়ে। দলীয় ৫৪ রানে বিনা উইকেটে শনিবার চতুর্থ দিন খেলতে নেমে মাত্র তিনটি রান যোগ করতে পারে উপুল থারাঙ্গা ও করুনারত্নের জুটি। দিনের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। মেহেদী হাসান মিরাজ তার প্রথম বলে উপুল থারাঙ্গাকে (২৬) বোল্ড করেন। ৫৭ রানে লঙ্কানদের প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। তবে করুনারত্নে শক্ত হাতে প্রতিরোধ গড়েন কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে।
ওই জুটিতে ভর করে প্রথম সেশনে লিড নেয় লঙ্কানরা। ৯২ বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চাশ ছোঁন করুনারত্নে। অবশ্য হাফসেঞ্চুরিতে সীমাবদ্ধ থাকেননি এ ওপেনার, সেটাকে পঞ্চম সেঞ্চুরিতে রূপ দেন। এর আগে দ্বিতীয় উইকেটে মেন্ডিসের সঙ্গে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। ১ উইকেটে ১৩৭ রানে শ্রীলঙ্কা সকালের সেশন শেষ করে ৮ রানের লিড নিয়ে। অস্বস্তি ঘিরে ধরেছিল বাংলাদেশের ক্যাম্পে।
কিন্তু লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ব্রেকথ্রু। উইকেট হারান মেন্ডিস। লঙ্কান এ ব্যাটসম্যানের আউটটি হয়েছে সূক্ষ্মভাবে। কট আউটের আবেদন একটু দেরিতেই আম্পায়ারের কাছে করেন মুস্তাফিজ। শুরুতে না করে দেন আম্পায়ার। তবে বাংলাদেশ রিভিউ নিলে দেখা যায় ব্যাটে কিঞ্চিৎ লেগে বল অধিনায়কের গ্লাভসে জমা হয়েছে। রিভিউয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ৩৬ রানে বিদায় নেন মেন্ডিস।
নিজের আরও দুই ওভার পর মুস্তাফিজ পান তার দ্বিতীয় উইকেট। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান দিনেশ চান্ডিমালকে ৫ রানে মুশফিকের ক্যাচ বানান তিনি। কিছুক্ষণ পর আসেলা গুনারত্নেকে (৭) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাকিব। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মুস্তাফিজের আরেকটি তোপ। লঙ্কান ব্যাটসম্যান ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে রানের খাতা খুলতে দেননি তিনি। পঞ্চম ব্যাটসম্যান হয়ে মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়েন ডি সিলভা।
বাংলাদেশের অধিনায়কের হাতে ক্যাচ দেন নিরোশান ডিকওয়েলা। উইকেটটি শিকার করেন সাকিব। এর পর করুনারত্নেকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান তিনি।
/এফএইচএম/








