দেশে সরাসরি পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং বিষয়টিকে একটু ঘুরিয়ে সাইবার নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখিয়ে তা ডটের (ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম)মাধ্যমে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এজন্য তৈরি হচ্ছে একটি প্রকল্প।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে একটি প্রকল্প করেছে। সেই প্রকল্প থেকে পর্নো গ্রাফির ওয়েবসাইটকে সাইবার নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখিয়ে তা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,এটা সরাসরি সাইবার নিরাপত্তাজনিত সমস্যা।
প্রসঙ্গত, মাসদুয়েক আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী বরাবর পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন একজন বাবা। আর ওই চিঠির সূত্র ধরেই পর্নো সাইটগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেয় সরকার। যদিও এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। তবে একজন সচেতন বাবার চিঠি পাওয়ার পরেই এই উদ্যোগে গতি আসে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওই চিঠি পাওয়ার পরে নড়েচড়ে বসে মন্ত্রণালয়। সর্বসম্মতির জন্য একটি বৈঠকও ডাকা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে বৈঠকটি হয়নি। বলা হয়, পরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পার হয়ে গেলেও বৈঠকটি আর হয়নি। সূত্র জানায়, এই সময়ের মধ্যে বিষয়টি চলে যায় ডটে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগে সাফল্য আসবে প্রায় শতভাগ। ডট নতুন, তাই এমন একটি সাফল্য ডটকে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যদিও এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এম রায়হান আখতার জানিয়েছিলেন, বিষয়টি বন্ধের জন্য একটি চিঠি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে এবং আরেকটি চিঠি ডটে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেছিলেন, পর্নো ওয়েবসাইট কারিগরিভাবে শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। ৯০ ভাগ পর্যন্ত বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে। শতভাগ বন্ধের চেষ্টা করাও উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার এ বিষয়ে এম. রায়হান আখতারের কাছে এ বিষয়ের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে বিষয়টি ডটের উদ্যোগেই সম্পন্ন হবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ডট সাইবার সিকিউরিটির একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে এটিকে ফেলে দিলেই কাজটি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের শুরুর দিকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে ৮৪টি পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় পুলিশ সদর দফতর। চিঠিতে ওই ওয়েবসাইটগুলোকে অশ্লীল ও বিকৃত উল্লেখ করে বিটিআরসির মাধ্যমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। সাইটগুলোর তালিকা দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ওই সাইটগুলোতে কিছুদিন ধরে দেশের মানুষের গোপনে ধারণ করা যৌনতার ছবি ও ভিডিও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এর আগে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ধরনের আরও ওয়েবসাইট খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের জন্যও বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জানা যায়, বিটিআরসি উদ্যোগ নিলে দুই সপ্তাহের মতো বন্ধ ছিল পর্নো সাইটগুলো। পরে ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আবারও সক্রিয় হতে থাকে পর্নো সাইটগুলো। তখন বিটিআরসি জানায়, কমিশনের একার পক্ষে সাইটগুলো বন্ধ করা সম্ভব নয়।
/এইচএএইচ/এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
থ্রিজি নয়, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটেই কর্মসংস্থান
হ্যালিও এস২০ মোবাইল পেতে দিতে হবে অগ্রীম বুকিং








