বন্ধুদের ফোন করা, পিজা অর্ডার দেওয়া আর পিসিতে রুনস্কেপ খুলে বসা—এই দৃশ্য অনেকের কাছেই যেন সরাসরি ফিরিয়ে নিয়ে যায় ডায়াল-আপ ইন্টারনেট, এমএসএন মেসেঞ্জার আর ন্যাপস্টারের দিনে।
কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো— ২০২৫ সালে রুনস্কেপ মোটেও কেবল স্মৃতির খেলায় পরিণত হয়নি। বরং আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি মানুষ আবারও এই গেমে ফিরেছেন।
২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেম রুনস্কেপ ২০২৫ সালে নতুন করে জনপ্রিয়তার জোয়ার দেখেছে। গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জ্যাজেক্স জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে তাদের পেইড মেম্বারের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে ‘১০ লাখেরও বেশি’ হয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েক মিলিয়ন খেলোয়াড় বিনা মূল্যে গেমটি খেলছেন।
২০২৫ সালে রুনস্কেপ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকও স্পর্শ করে। একসঙ্গে ২ লাখ ৪০ হাজার খেলোয়াড় গেমে লগইন করেন— যা গেমটির ২৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তুলনামূলকভাবে বলা যায়, এই মুহূর্তে জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্ম স্টিমে মাত্র তিনটি গেমে এর চেয়ে বেশি সক্রিয় খেলোয়াড় রয়েছে।
বর্তমানে রুনস্কেপ মূলত দুই সংস্করণে বিভক্ত—
রুনস্কেপ (আরএস৩): আধুনিক গ্রাফিক্স ও ফিচারসমৃদ্ধ সংস্করণ
ওল্ড স্কুল রুনস্কেপ: ২০০৭ সালের গেমপ্লের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নস্টালজিক সংস্করণ
বিশেষ করে ওল্ড স্কুল রুনস্কেপ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জ্যাজেক্সের সিইও জন বেলামি দাবি করেছেন, এটি এখন “বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এমএমও গেম”— যা দুই দশক পুরোনো একটি গেমের জন্য বেশ বিস্ময়কর।
গেম ডিজাইনার মলি মেসনের মতে, রুনস্কেপের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য—যাকে তারা বলেন ‘রুনস্কেপিনেস’।
তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা কঠিন, তবে এর মধ্যে ব্রিটিশ রসিকতা, মন্টি পাইথনের ধাঁচের হাস্যরস আর কমিউনিটি-কেন্দ্রিক ভাবনা রয়েছে।’
আধুনিক গেমিং দুনিয়ায় প্রায় অচিন্তনীয় একটি সিদ্ধান্ত নেয় জ্যাজেক্স। খেলোয়াড়দের ভোটের মাধ্যমে গেম থেকে অনেক ইন-গেম মাইক্রোট্রানজ্যাকশন তুলে দেওয়া হয়— যা সাধারণত গেম কোম্পানির বড় আয়ের উৎস।
খেলোয়াড়রা বিপুলভাবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেন। যদিও এতে আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে, জন বেলামি বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছরের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বিশ্বাস, এটা গেমের জন্য সঠিক।
ইউআই উন্নয়ন, কমব্যাট সিস্টেম সহজ করা, প্রতিদিন লগইন করতে বাধ্য করার মতো চাপ কমানো। এমন অনেক আপডেট এসেছে, যা খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরে চাইছিলেন।
টুইচ স্ট্রিমার মেগান, যার অনুসারী ২০ হাজারের বেশি, তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই সরব কমিউনিটি। আমরা কী চাই, কী চাই না—সব বলি। আর তারা আমাদের কথা শোনে। এ কারণেই রুনস্কেপ এখনও সফল।’
রুনস্কেপ শুধু একটি গেম নয়— অনেকের জীবনের অংশ। বহু খেলোয়াড় এই গেমের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন।
ইউটিউবার রায়ান, যিনি ‘দ্য আর এস গাই’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে রুনস্কেপের মাধ্যমেই পেয়েছি। এটা এখানে খুব স্বাভাবিক ঘটনা।’
মলি মেসন বলেন, ‘আমরা বলি—আপনি কখনও রুনস্কেপ ছাড়েন না, শুধু বিরতি নেন। গেমটা সবসময় আপনার জন্য থাকবে, আপনার চরিত্রও থাকবে।’
দুই দশকের বেশি সময় ধরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই গেমই হয়তো প্রমাণ করছে—ভালো কমিউনিটি, খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান আর নস্টালজিয়ার শক্তি থাকলে, একটি গেম কখনও পুরোনো হয় না।
সূত্র: বিবিসি








