কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও চিনবেন কীভাবে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক 
২১ জুলাই ২০২৬, ২০:০১আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ২০:০১

একসময় ছবি বা ভিডিওকে কোনও ঘটনার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে ধরা হতো। চোখে দেখা দৃশ্যকে সত্য বলে মেনে নেওয়াই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ সেই বিশ্বাসের জায়গায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এখন এমন প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এমন বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও কিংবা কণ্ঠস্বর তৈরি করা সম্ভব, যা আসল না কৃত্রিম—তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফলে দৃশ্যমান প্রমাণের ওপর অন্ধ আস্থা রাখার সময় শেষ হয়ে আসছে।

এআই প্রযুক্তি শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদনসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তবে একই সঙ্গে এর অপব্যবহারও বাড়ছে। ভুয়া ছবি, সাজানো ভিডিও, নকল কণ্ঠস্বর এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে কোনও ছবি বা ভিডিও দেখার পর শুধু চোখের ওপর নির্ভর না করে এর উৎস, প্রেক্ষাপট এবং সত্যতা যাচাই করার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।

অস্বাভাবিক মুখের অভিব্যক্তি ও নড়াচড়া লক্ষ্য করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও অনেক উন্নত হলেও এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কথা বলার সময় ঠোঁটের নড়াচড়া শব্দের সঙ্গে পুরোপুরি না মেলা, চোখের পলক অস্বাভাবিক হওয়া, মুখের ভঙ্গি হঠাৎ বদলে যাওয়া কিংবা মাথার নড়াচড়া অস্বাভাবিক মনে হলে সতর্ক হওয়া উচিত।

বিশেষ করে ভিডিওটি যদি খুব কাছ থেকে ধারণ করা বলে মনে হয়, তাহলে এসব বিষয় আরও সহজে ধরা পড়তে পারে।

হাত, আঙুল ও ছোট ছোট বিস্তারিত অংশ দেখুন

প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবিতে অনেক সময় হাত, আঙুল, কান, দাঁত বা চশমার মতো সূক্ষ্ম অংশে ভুল দেখা যায়।

কখনও আঙুলের সংখ্যা বেশি বা কম হতে পারে, কখনও হাতের গঠন অস্বাভাবিক দেখা যায়। আবার গয়না, চশমা কিংবা পোশাকের অংশও বিকৃত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

একটি ছবি যাচাই করার সময় শুধু মুখ নয়, পুরো ছবিটি মনোযোগ দিয়ে দেখাই ভালো।

আলো ও ছায়া স্বাভাবিক কি না, খেয়াল করুন

একটি বাস্তব ছবিতে আলো যেদিক থেকে আসে, ছায়াও সাধারণত সেই নিয়ম মেনেই পড়ে।

কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবিতে অনেক সময় দেখা যায়, আলো একদিকে থাকলেও ছায়া অন্যদিকে পড়েছে। আবার মুখে আলো থাকলেও আশপাশের বস্তুতে তার কোনও প্রভাব নেই।

এ ধরনের অসামঞ্জস্য ভুয়া ছবি শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।

উৎস যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না

একটি ছবি বা ভিডিও যতই বাস্তব মনে হোক, সেটি কোথা থেকে এসেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

যদি কোনও বড় ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সাধারণত একাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম সেটি প্রকাশ করে।

কিন্তু একটি ছবি যদি শুধু একটি অপরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা অজানা অ্যাকাউন্টে দেখা যায়, তাহলে সেটি যাচাই না করে শেয়ার করা উচিত নয়।

অতিরিক্ত আবেগ তৈরি করে এমন বিষয়বস্তুতে সতর্ক থাকুন

ভুয়া ছবি বা ভিডিও তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের আবেগকে প্রভাবিত করা।

অত্যন্ত চমকপ্রদ, অবিশ্বাস্য বা উত্তেজনাপূর্ণ কোনও দৃশ্য দেখলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস না করে কিছুক্ষণ সময় নিয়ে যাচাই করা ভালো।

প্রতারণামূলক বিষয়বস্তুর বড় একটি অংশ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়েই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

যাচাইয়ের জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নিন

বর্তমানে এমন কিছু নির্ভরযোগ্য অনলাইন সেবা রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে একটি ছবি আগে কোথাও প্রকাশিত হয়েছে কি না, সেটি খুঁজে দেখা যায়।

এ ছাড়া বিভিন্ন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানও আলোচিত ছবি ও ভিডিও নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধান প্রকাশ করে।

গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল কোনও বিষয় দেখলে এসব নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজকে সহজ করার পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

তাই এখন শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার জানলেই হবে না, প্রযুক্তি থেকে আসা তথ্য যাচাই করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ছবি বা ভিডিও দেখেই তা সত্য ধরে নেওয়ার পরিবর্তে উৎস, আলো-ছায়া, মুখের অভিব্যক্তি এবং অন্যান্য সূক্ষ্ম বিষয় পর্যবেক্ষণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ডিজিটাল যুগে সচেতন ব্যবহারকারী হওয়াই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। কারণ একটি যাচাই না করা ছবি বা ভিডিও শুধু একজন মানুষকে নয়, কখনো কখনো পুরো সমাজকেও বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই দেখার আগে নয়, বিশ্বাস করার আগে যাচাই করুন।

/জেএ/এমএএল/
সম্পর্কিত
সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফাঁস ঠেকাতে যা করবেন
অফিসিয়াল রিলিজের আগেই কি পিসিতে চলবে জিটিএ ৬?
চ্যাটজিপিটি-জেমিনাইকে কি চীনের ‘কিমি কে৩’ টক্কর দিতে পারবে?
সর্বশেষ খবর
হয়তো শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগপত্র লিখতে জানেন না: মহুয়া মৈত্রের কটাক্ষ
হয়তো শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগপত্র লিখতে জানেন না: মহুয়া মৈত্রের কটাক্ষ
মিছিল করে পুলিশের মামলায় কারাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৭ নেতাকর্মী
মিছিল করে পুলিশের মামলায় কারাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৭ নেতাকর্মী
৭ লাখ কৃষকের ৬০৪ কোটি টাকা কৃষিঋণ মওকুফ
৭ লাখ কৃষকের ৬০৪ কোটি টাকা কৃষিঋণ মওকুফ
গুজবে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ট্যাংকি ভর্তি করার হিড়িক, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি
গুজবে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ট্যাংকি ভর্তি করার হিড়িক, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি
সর্বাধিক পঠিত
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত