নতুন রাউটার কেনার সময় ওয়াই-ফাই ৬, ৬ই, ৭, ৬ গিগাহার্জ, ডুয়াল-ব্যান্ড বা ট্রাই-ব্যান্ড—এ ধরনের নানা প্রযুক্তিগত শব্দ দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। বেশি ব্যান্ড থাকলেই যে সবার জন্য বেশি গতি বা ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। বাড়িতে কতগুলো ডিভাইস ব্যবহার হচ্ছে, কী ধরনের কাজ করা হচ্ছে এবং মেশ নেটওয়ার্ক প্রয়োজন কি না—এসবের ওপর নির্ভর করে কোন রাউটার আপনার জন্য উপযুক্ত।
সাধারণ ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটারে ২.৪ ও ৫ গিগাহার্জের দুটি ব্যান্ড থাকে। অন্যদিকে, ট্রাই-ব্যান্ড রাউটারে থাকে তৃতীয় একটি ব্যান্ড। নতুন প্রজন্মের ওয়াই-ফাই ৬ই বা ওয়াই-ফাই ৭ ট্রাই-ব্যান্ড রাউটারে এই অতিরিক্ত ব্যান্ডটি হতে পারে ৬ গিগাহার্জের। এতে একাধিক ডিভাইসের নেটওয়ার্ক ট্রাফিক আলাদা ব্যান্ডে ভাগ করে নেওয়া যায়। ফলে ব্যস্ত নেটওয়ার্কে চাপ কমে।
বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে ওয়াই-ফাই ব্যান্ডগুলোকে হাইওয়ের আলাদা লেন হিসেবে ভাবা যায়। প্রতিটি ব্যান্ডের গতি, পরিসর ও ব্যবহারের সুবিধা আলাদা।
২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ড সবচেয়ে বেশি দূরত্বে সিগন্যাল পৌঁছাতে পারে। দেয়াল ভেদ করার ক্ষমতাও তুলনামূলক ভালো। তবে এর গতি সাধারণত কম। একই ফ্রিকোয়েন্সিতে ব্লুটুথ, মাইক্রোওয়েভ ও আশপাশের রাউটারসহ বিভিন্ন ডিভাইস থাকায় এতে হস্তক্ষেপও হতে পারে।
৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড ২.৪ গিগাহার্জের তুলনায় বেশি গতি দিতে পারে এবং সাধারণত নেটওয়ার্কের ভিড়ও কম থাকে। তবে এর কভারেজ তুলনামূলক কম। বিশেষ করে একাধিক দেয়াল পেরোলে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে।
অন্যদিকে, ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ড নতুন প্রজন্মের ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। এতে তুলনামূলক বেশি গতি ও কম নেটওয়ার্ক ভিড় পাওয়া যায়। তবে এর রেঞ্জ ২.৪ ও ৫ গিগাহার্জের চেয়ে কম। পুরোনো অনেক ডিভাইসও ৬ গিগাহার্জ সমর্থন করে না।
কার জন্য কোন রাউটার?
বাড়িতে যদি কয়েকটি স্মার্ট বাল্ব, স্মার্ট টিভি, ফোন ও সাধারণ কিছু ডিভাইস থাকে এবং একই সময়ে এক-দুজন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাহলে ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটারই যথেষ্ট। ডিভাইসগুলোকে ২.৪ ও ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে সঠিকভাবে ভাগ করে ব্যবহার করলে ভালো গতিও পাওয়া সম্ভব।
তবে একই সময়ে পরিবারের পাঁচ-ছয়জন সদস্য নিয়মিত ৪কে ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং, ভিডিও কল বা উচ্চগতির ইন্টারনেটনির্ভর কাজ করলে ট্রাই-ব্যান্ড রাউটার বেশি কার্যকর হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যান্ড থাকায় ডিভাইসগুলোর নেটওয়ার্ক ট্রাফিক ভাগ করে নেওয়া সহজ হয়। ফলে একটি ব্যান্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে।
বিশেষ করে মেশ নেটওয়ার্কে ট্রাই-ব্যান্ড রাউটারের সুবিধা আরও বেশি। এ ধরনের ব্যবস্থায় তৃতীয় ব্যান্ডটি রাউটারের বিভিন্ন নোডের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যাকহোল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে সাধারণ ডিভাইসগুলোর জন্য অন্য ব্যান্ডগুলো তুলনামূলকভাবে কম ব্যস্ত থাকে।
তবে রাউটারে যত আধুনিক প্রযুক্তিই থাকুক, শুধু রাউটার বদলালেই ইন্টারনেটের গতি ইচ্ছেমতো বাড়বে না। আপনার সংযোগের সর্বোচ্চ গতি নির্ভর করবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের (আইএসপি) প্যাকেজের ওপর। রাউটার মূলত আইএসপি থেকে পাওয়া সেই সংযোগকে বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে কার্যকরভাবে বণ্টন করে।
তাই শুধু ডুয়াল-ব্যান্ডের চেয়ে ট্রাই-ব্যান্ড ভালো—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের প্রয়োজন, ডিভাইসের সংখ্যা এবং ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করা উচিত। সাধারণ ব্যবহারের জন্য ডুয়াল-ব্যান্ড যথেষ্ট হলেও বেশি ডিভাইস, ভারী ব্যবহার বা মেশ নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে ট্রাই-ব্যান্ড হতে পারে বেশি উপযোগী।









