বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনে ‘কর’ বিষয়ক জটিলতার আশঙ্কা

হিটলার এ. হালিম
২০ মে ২০১৬, ১০:০৫আপডেট : ২০ মে ২০১৬, ১৬:৫০

সিম নিবন্ধন বায়োমেট্রিক (আঙুলে ছাপ) পদ্ধতিতে মোবাইলফোনের সিম নিবন্ধন নিয়ে কর সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন টেলিযোগাযোগ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, অতীতে সিম প্রতিস্থাপন নিয়ে সৃষ্ট কর সংক্রান্ত (সিম ট্যাক্স) জটিলতা আবারও নতুন করে ফিরে আসতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবিষ্যতে রি-রেজিস্ট্রেশনের (পুনর্নিবন্ধ) কর ধার্য করতে পারে। 

তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সমস্যা এড়াতে এরই মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। ওই উদ্যোগের ফলে আগামীতে আর  নতুন করে কোনও সংকট তৈরি হবে না।

বিষয়টির  সঙ্গে জড়িত ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি এবার  সচেতন এবং সজাগ রয়েছে বলে জানা গেছে। আগে-ভাগেই অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর-এর অনুমোদন নিয়ে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি হতে যাচ্ছে। ওই নির্দেশনায় বলা হচ্ছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে কোনও ধরনের জটিলতা তৈরি হবে না।

একাধিক মোবাইলফোন অপারেটরের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারা সম্ভাব্য জটিলতা সংক্রান্ত আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। যদিও তারা কেউই নিজেকে উদ্ধৃত করে কথা বলতে রাজি হননি। তারা বলেছেন, আগে থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে অতীতের মতো সমস্যার উদ্ভব হতে পারে।

বিষয়টি জানার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এম রায়হান আখতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে সিম বা রিম পুনর্নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সিম বা রিম ট্যাক্স সম্পর্কিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে নির্দেশনাটি অনুমোদন করা হয়। নির্দেশনাটি বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যবহৃত সিম বা রিম পুনর্নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনও কর প্রযোজ্য হবে না। শুধু নতুন সিম বা রিম সরবরাহ এবং প্রতিস্থাপিত সিম বা রিম সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রচলিত সিম বা রিম ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে। উক্ত করমুক্তভাবে পুনর্নিবন্ধনের আওতায় কেবল কোনও গ্রাহকের পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্যাদি পরিবর্তন করতে হবে। তবে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট সিম বা রিম বা সংযোগটির তথ্যাদির নয়, সিম বা রিম বা সংযোগের তথ্যাদির পরিবর্তন হলে তা প্রতিস্থাপিত সিম বা রিম হিসেবে গণ্য হবে, যার ট্যাক্স প্রযোজ্য।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনও পুনর্নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নতুন বা প্রতিস্থাপিত সিম বা রিম সরকার সম্পৃক্ত থাকলে সেক্ষেত্রেও প্রচলিত সিম বা রিম ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে। এই নির্দেশনাটি উক্ত বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন কার্যক্রম  পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়ার দিন (২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ১৫ নভেম্বর থেকে উক্ত নির্দেশনা জারির (১৫ মে, ২০১৬) তারিখ পর্যন্ত পুনর্নিবন্ধিত, নতুন সিম বা রিমের তালিকা এককালীনভাবে কমিশনে প্রদান করতে হবে। নির্দেশনা জারির পর থেকে মাসিক ভিত্তিতে উক্ত তালিকা কমিশনে পাঠাতে হবে। সিম  

আগে এ ধরনের কোনও নির্দেশনা না থাকায় তৈরি হয় জটিলতা।  তিন বছরের বেশি সময় ধরে দেশের শীর্ষ মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর কাছে সিম প্রতিস্থাপন বাবদ ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি কর দাবি করে আসছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।কিন্তু বরাবরই এ দাবি অযৌক্তিক বলেছে অপারেটররা। বিষয়টির সমাধান করতে এনবিআর, মোবাইল অপারেটর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সমন্বয়ে কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা একাধিকবার বৈঠকও করে। তবে দুই পক্ষের কেউই ছাড় দিতে রাজি হয়নি। এনবিআর তাদের পাওনা দাবি থেকে কোনও ছাড় দিতে রাজি নয়। অন্যদিকে মোবাইল অপারেটররাও সিদ্ধান্তে ছিল অটল। ওইসব জটিলতার অবসান না হলে অপারেটরগুলো ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল তরঙ্গ নিলামে অংশ নেবে না বলে জানায়। বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে সরকারের অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের ক্ষেত্রে শঙ্কা তৈরি হয়।

সর্বশেষ হিসাবে এনবিআর চার মোবাইল অপারেটরের কাছে ৩ হাজার ১০ কোটি টাকার মতো বকেয়া কর দাবি করে। এনবিআর -এর বক্তব্য, মূল কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সিম প্রতিস্থাপনের আগে ও পরে মালিকানা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে এ অর্থ পরিশোধযোগ্য। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ আদেশ মতে সিম সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ট্যারিফ মূল্যের ওপর ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়যোগ্য। তাই মোবাইলফোন অপারেটররা সিম বদলের আড়ালে নতুন কার্ড ইস্যুর বিপরীতে বিদ্যমান ট্যারিফ মূল্য অনুযায়ী সম্পূরক শুল্ক ও মূসক ফাঁকি দিচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে কর বাবদ এ খাতে পাওনা হয়েছে এনবিআর-এর।

প্রসঙ্গত, এনবিআর সিম প্রতিস্থাপনে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে ২০১২ সাল থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা অপারেটরগুলোর কাছে দাবি করে আসছিল। ওই পরিমাণ অর্থ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে ২ হাজার কোটি টাকা আদায়ের নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপনে শিশু খাদ্য: মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিতে ভরপুর! 

/এইচএএইচ/এপিএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী