কাগজ থাকার পরও বাধা-মারধরের শিকার হচ্ছেন ই-কমার্সের ডেলিভারিম্যানরা

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১১:০৬, এপ্রিল ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩১, এপ্রিল ০৮, ২০২০

ইকুরিয়ার

সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ই-কমার্স ও কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারিম্যানদের সহযোগিতার নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সোম ও মঙ্গলবার ( ৬ ও ৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ই-কমার্স ও কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারিম্যানদের বাধা দিয়েছেন, কোথাও কোথাও মারধরও করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র থাকার পরও ডেলিভারিম্যানরা বাধার মুখে পড়েছেন। কাগজপত্র দেখানোর পরও অনেক জায়গায় তা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ই-কমার্স, কুরিয়ার সার্ভিস, খাদ্য ও ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ওয়্যার হাউজ, অপারেশন, পরিবহন ও ডেলিভারি প্রদানে সহযোগিতা করতে নির্দেশনা জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জারি করা এই নির্দেশনা দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অবা-১ শাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, বর্ণিত অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ই-কমার্স, কুরিয়ার সার্ভিস, খাদ্য ও ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ওয়্যার হাউজ, অপারেশন, পরিবহন, মালামাল স্টোরেজ ও ডেলিভারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ডেলিভারিম্যান ও যানবাহনকে স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হলো।

মঙ্গলবার রাজধানীর ২ নম্বরে স্টেডিয়ামের কাছে একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মারধর করে ডকুমেন্ট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিন্দাবাদ ডটকমের মোহাম্মদপুর এলাকায় ৪টি ডেলিভারিভ্যান আটকে দিয়ে কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৩টি ভ্যানকে ফিরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

মীনা বাজারের হোম ডেলিভারি

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা আরও অভিযোগ করেছেন, কিকশা ডটকমের ডেলিভারিম্যানকে রাজধানীর আবদুল্লাহপুরে বাধা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা ডেলিভারিম্যানের কাছে থাকা ই-ক্যাবের লোগো ও কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে। রাইড শেয়ার প্রতিষ্ঠান পাঠাও-এর ডেলিভারিম্যানকে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরায় বাধা দেওয়া হয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালডাল ডটকমের এজেন্টকেও মারধর করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ই-কমার্সভিত্তিক কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ই-কুরিয়ারবিডির ডেলিভারিম্যানরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাধার মুখে পড়েছেন বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বিপ্লব ঘোষ রাহুল। তিনি জানান, মঙ্গলবার তাদের ডেলিভারিম্যানরা মিরপুরের ৬ ও ১২ নম্বর সেকশন এবং পুরান ঢাকার একাধিক জায়গায় বাধার মুখে পড়েছেন। এজন্য তাদের পণ্য ডেলিভারিতে দেরি হচ্ছে।

ই-কমার্স উদ্যোক্তারা বলেছেন, জরুরি সেবা ঘোষণা ও অনুমোদন দেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। আমাদের ডেলিভারিম্যানরা হলো রিয়েল হিরো। তারা ঘরবন্দি মানুষের দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু তারাই যদি সেবা দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয় তাহলে ই-কমার্স ডেলিভারি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। এ সেবা ব্যাহত হবে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, প্রথমে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত অনুমোদনের চিঠি ইস্যু করার পরও কেন ই-কমার্স ডেলিভারি বাধার মুখে পড়ছে সে বিষয়টি রহস্যময়। এরই মধ্যে তিনি বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রী ও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন।

তমাল আরও বলেন, ই-কমার্সের কারণে মানুষ ঘরে বসে কেনাকাটা করতে পারছেন। এজন্য মানুষকে বেরও হতে হচ্ছে না। যেসব এলাকা লকডাউন সেখানে আমাদের ডেলিভারিম্যানদেরও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনের খাদ্য কষ্ট হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানে লকডাউন চলছে সেখানেই ই-কমার্স পণ্য ডেলিভারি দিয়ে খাদ্য সংকট দূর করছে। আমাদের ডেলিভারিম্যানরা সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ডেলিভারি করতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছে। এটা প্রত্যাশিত নয়। জরুরি সেবা খাত ঘোষণার পরও ই-কমার্সে হয়রানি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ