‘করোনা ট্রেসার’ অ্যাপ তৈরিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম: মালিহা কাদির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:১৩, জুন ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৮, জুন ০৭, ২০২০

মালিহা কাদিরকোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে সারাদেশের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘করোনা ট্রেসার বিডি’ অ্যাপ চালু হয়েছে। গত ৪ জুন উদ্বোধনের পর এখন পর্যন্ত ২ লাখেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপে যুক্ত হয়েছে। আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ‘করোনা ট্রেসার বিডি’ বানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেক স্টার্টআপ ‘সহজ লিমিটেড’। বাংলাদেশে এই প্রথম দ্রুত সময়ে এ ধরনের অ্যাপ নির্মাণ করা হলো। কম সময়ের সময়ের মধ্যে অ্যাপটি বানানো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন সহজ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা কাদির।
মালিহা কাদির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অ্যাপের ইন্টারফেস দেখে বোঝা যাবে না এর পেছনে কত রকমের কাজ হচ্ছে। আমাদের মাথায় রাখতে হয়েছে যে, ১৬ কোটি মানুষ এই অ্যাপে যুক্ত হবে। তাদের সবার তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সময়ে সহায়তা প্রদানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি আমরা।’
শুধু এই অ্যাপটিই নয়, মালিহা কাদির নানা উদ্যোগের কারণে খ্যাতি অর্জন করেছেন।  ২০১৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ঘোষিত ১০০ জন ইয়াং গ্লোবাল লিডারের (ওয়াইজিএল) তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন মালিহা।

‘করোনা ট্রেসার বিডি’ অ্যাপটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর, আইইডিসিআর, এটুআই, এসডিএমজিএ।  করোনার এ দুর্যোগের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিয়ত অনলাইনে মিটিং করে কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে সহজের টিমকে।

মালিহা কাদির

অ্যাপটি তৈরিতে চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মালিহা কাদির বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদের স্বাস্থ্য অধিদফতর, আইইডিসিআর, এটুআই, এসডিএমজিএ’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিটিং করতে হয়েছে। করোনার কারণে ফিজিক্যালি মিটিং করা সম্ভব নয়, তাই অনলাইনে জুমে মিটিং করাই ছিল একমাত্র ভরসা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও বিভিন্ন সময়ে মিটিংয়ে এসে আমাদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারি দফতরের সঙ্গে অনলাইনে মিটিং করা, কাজ শেষ করতে পারাটাই চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাদের টিম রাত-দিন কাজ করে দ্রুত সময়ে শেষ করতে সক্ষম হয়েছে।

‘করোনা ট্রেসার বিডি’  অ্যাপ  কিভাবে কাজ করবে সে  সম্পর্কে মালিহা কাদির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি  ইনস্টল করা যাবে। সেখানে প্রবেশ করলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর চাইবে, তবে এটি বাধ্যতামূলক না। তবে ফোন নাম্বার দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ফোনের ব্লুটুথ এবং ডিভাইসের লোকেশন অন করতে হবে। অ্যাপটি বাংলা বা ইংরেজি দুটি ভাষায় ব্যবহার করা যাবে।

জানা গেছে, অ্যাপটি ব্লুটুথ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুজন ব্যবহারকারীর কাছাকাছি থাকার সময় এবং তাদের অবস্থান সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করে রাখবে। যখনই অন্য কোনও অ্যাপ ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে আসবে তখনই অ্যাপ দুটি নিজেদের মধ্যে ‘ডিজিটাল হ্যান্ডশেক’ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সুরক্ষিতভাবে আদান-প্রদান করবে।

মালিহা কাদির

সহজ-এর প্রতিষ্ঠাতার দাবি এমন বড় ধরনের অ্যাপ বাংলাদেশে আগে কেউ তৈরি করেনি। মালিহা কাদির বলেন,  ‘লাখ লাখ মানুষ সংযুক্ত থাকবে, ব্লুটুথের মাধ্যমে সিগন্যাল এক্সচেঞ্জ করবে, সেক্ষেত্রে এটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা আমাদের সক্ষমতা দেখাতে পেরেছি। দুর্যোগের মুহূর্তে দেশের পাশে থাকতে নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছি।’ করোনা ট্রেসার বিডি অ্যাপটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গুগল প্লেস্টোর থেকে ‘করোনা ট্রেসার বিডি’ অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে অথবা সরাসরি স্মার্টফোন থেকে https://play.google.com/store/apps/details?id=com.shohoz.tracer লিংকে ক্লিক করে এই অ্যাপ ডাউনলোডের সুযোগ রয়েছে।

/সিএ/এমআর/

লাইভ

টপ