কম্পিউটারে অজস্র ছবি, ভিডিও, সফটওয়্যার, গেম ও ডাউনলোড করা ফাইল জমতে জমতে ব্যবহারকারীর অজান্তেই একসময় স্টোরেজ ফুরিয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে অস্থায়ী ফাইল, উইন্ডোজ আপডেটের অতিরিক্ত ডেটা, রিসাইকেল বিনে থাকা অপ্রয়োজনীয় ফাইল এবং বিভিন্ন অ্যাপের ক্যাশ ফাইলও ব্যবহারকারীর আড়ালে কম্পিউটারের স্টোরেজের বড় অংশ দখল করে রাখে। এমন অবস্থায় কোন ধরনের ফাইল বা কোন অ্যাপ কতটা জায়গা দখল করছে, তা নির্দিষ্টভাবে না জেনে ফাইল মুছে ফেলা ঠিক নয়। এতে শুধু প্রয়োজনীয় ডেটাই নয়, ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম ফাইলও। তবে উইন্ডোজের বিল্ট-ইন স্টোরেজ সেটিংস ব্যবহার করে সহজেই জানা যায়, কম্পিউটারের স্টোরেজের কতটা জায়গা কোন ধরনের ফাইলে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ জন্য প্রথমে কিবোর্ডে ‘উইন্ডোজ’ ও ‘আই’ বাটন একসঙ্গে চাপতে হবে। এরপর ‘সেটিংস’ থেকে ‘সিস্টেম’ নির্বাচন করে ‘স্টোরেজ’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে কম্পিউটারের প্রধান ড্রাইভে মোট কত স্টোরেজ ব্যবহার হচ্ছে এবং কোন ধরনের ডেটা কত জায়গা দখল করছে, তার একটি তালিকা দেখা যাবে। ‘ইনস্টলড অ্যাপস’, ‘টেম্পোরারি ফাইলস’, ‘ডকুমেন্টস’, ‘পিকচারস’, ‘ভিডিওস’ ও ‘সিস্টেম অ্যান্ড রিজার্ভড’-এর মতো বিভিন্ন শ্রেণিতে ব্যবহৃত স্টোরেজের পরিমাণ দেখানো হবে। ‘শো মোর ক্যাটাগরিজ’ নির্বাচন করলে আরও বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে।
এর মধ্যে ‘ইনস্টলড অ্যাপস’ নির্বাচন করলে কোন সফটওয়্যার বা গেম কত জায়গা নিচ্ছে, তা দেখা যাবে। তালিকাটি ‘সাইজ’ অনুযায়ী বড় থেকে ছোট করে সাজালে সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করা অ্যাপগুলো সহজে শনাক্ত করা সম্ভব। প্রয়োজন না থাকা কোনো অ্যাপের পাশে থাকা তিন ডট মেনু থেকে ‘আনইনস্টল’ নির্বাচন করে সেটি মুছে ফেলা যাবে। একাধিক ড্রাইভ থাকলে ‘অ্যাডভান্সড স্টোরেজ সেটিংস’ থেকে ‘স্টোরেজ ইউজড অন আদার ড্রাইভস’ নির্বাচন করে অন্য ড্রাইভগুলোর স্টোরেজ ব্যবহারের তথ্যও দেখা যাবে।
স্টোরেজ খালি করার জন্য ‘টেম্পোরারি ফাইলস’ বিভাগটিও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে থাম্বনেইলসহ বিভিন্ন অস্থায়ী ফাইলের তালিকা পাওয়া যায়। ‘ক্লিনআপ সিস্টেম ফাইলস’ নির্বাচন করলে আরও কিছু অপ্রয়োজনীয় ফাইল শনাক্ত করা সম্ভব। তবে ‘ডাউনলোডস’ ও ‘রিসাইকেল বিন’ থেকে ফাইল মুছে ফেলার আগে সতর্ক হতে হবে। কারণ রিসাইকেল বিন খালি করলে সেখানে থাকা ফাইল স্থায়ীভাবে মুছে যেতে পারে।
উইন্ডোজে ‘স্টোরেজ সেন্স’ সুবিধা চালু করেও নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ফাইল সরানো যায়। ‘সেটিংস’ থেকে ‘সিস্টেম’ ও ‘স্টোরেজ’ বিভাগে গিয়ে ‘স্টোরেজ সেন্স’ নির্বাচন করে এটি চালু করা যাবে। এই সুবিধা নির্দিষ্ট সময় পরপর অস্থায়ী ফাইল ও ব্যবহারকারীর নির্ধারিত কিছু অপ্রয়োজনীয় ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরাতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ‘ডাউনলোডস’ ও ‘রিসাইকেল বিন’ পরিষ্কারের সেটিংস পরিবর্তনের আগে কোন ফাইল মুছে যাবে, তা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
উইন্ডোজের স্টোরেজ সেটিংস থেকে কোনো নির্দিষ্ট ফাইল বা ফোল্ডারের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলে বিভিন্ন থার্ড-পার্টি টুল ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব টুল পুরো ড্রাইভ স্ক্যান করে কোন ফোল্ডার বা ফাইল সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করছে, তা আরও বিস্তারিতভাবে দেখাতে পারে। তবে পদ্ধতি ভেদে, সব ক্ষেত্রেই স্টোরেজ খালি করার আগে অচেনা সিস্টেম ফাইল বা ফোল্ডার সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে কোনটি মুছে ফেলা নিরাপদ, তা যাচাই করা জরুরি।
গাড়িতে যাত্রার সময় মাথা ঘোরা-বমিভাব কমাবে অ্যান্ড্রয়েডের ফিচার, চালু করবেন যেভাবে
আইটি ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘লগইন ইনটু ইন্ডাস্ট্রি নেক্সট’