বিমা এজেন্টদের কমিশনের বিপরীতে উৎসে কর বাতিলের দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট২৩:১০, এপ্রিল ১৯, ২০১৭

বিআইএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিআইএ সভাপতিবিমা কোম্পানিতে কাজ করা এজেন্টদের কমিশনের বিপরীতে উৎসে কর বাতিল করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। সংগঠনটির সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘কোম্পানির এজেন্টরা কোম্পানির কাছ থেকে যে কমিশন পায়, যা তার আয়। এই আয়ের ওপর ৫ শতাংশ হারে আয়কর দিয়ে থাকেন তারা। এর ওপর আরও ১৫ শতাংশ মূসক দিতে হলে দ্বৈত কর ধার্য করা হবে, যা কাম্য নয়।’
বুধবার (১৯ এপ্রিল) বিআইএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শেখ কবির। সংবাদ সম্মেলনে বিআইএ সহ-সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটুসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ কবির হোসেন সব লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির ডিপোজিট হোল্ডারদের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ ‘গেইন ট্যাক্স’ প্রত্যাহারের দাবি জানান। এছাড়া, বিমা কোম্পানির আয়করের হার ২৫ শতাংশে নামানোসহ ছয় দফা দাবি পেশ করেন তিনি।
সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘২০১৪ সালে এক সার্কুলারে দেশের সব লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ডিপোজিট হোল্ডারদের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ ‘গেইন ট্যাক্স’ আরোপ করা হয়েছিল। এতে দেশের সব লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ডিপোজিট পলিসি হোল্ডারদের সংখ্যা কমে গেছে। ক্ষুদ্র পলিসি হোল্ডারদের মুনাফার ওপর চালু করা ৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্সের এ বিধান উঠিয়ে নেওয়া না হলে দেশে লাইফ ইন্সুরেন্সের ব্যবসা ২০১৪ সালের মতো কমতে থাকবে। এতে কোম্পানিগুলোর পক্ষে টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হবে।’
বিমা কোম্পানির আয়করের হার ২৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে সাধারণ বিমা ও জীবন বিমা কোম্পানির জন্য করপোরেট ট্যাক্স রেট ৪০ শতাংশ। দেশের অর্থনৈতিক অবদানে বিমার ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। এ অবস্থায় বিমা কোম্পানির আয়ের ওপর ৪০ শতাংশ হারে কর নির্ধারণের কোনও যৌক্তিকতা নেই।’
বিআইএ সভাপতি আরও বলেন, ‘আয়কর আইনের সেকশন ৫৩জি অনুযায়ী, বিমা শিল্পে কর্মরত এজেন্টদের ক্ষেত্রে প্রাপ্য কমিশনের পরিমাণের ওপর নির্বিশেষে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করার বিধান রয়েছে। অথচ বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা। ফলে বিমা শিল্পে কর্মরত স্বল্প আয়ের এজেন্টদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের মতো ন্যূনতম করমুক্ত আয় সীমা পর্যন্ত উৎসে কর কর্তন থেকে অব্যাহতির দেওয়া জরুরি।’
/জিএম/টিআর/

লাইভ

টপ