মৌলভীবাজারে পুলিশ পাহারায় থাকা দুই ‘জঙ্গি বাড়ি’ হস্তান্তর

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি০৫:৪৪, আগস্ট ১২, ২০১৭

বড়হাটের জঙ্গি আস্তানামৌলভীবাজারের পৌর এলাকার বড়হাট ও নাসিরপুরের ‘জঙ্গি বাড়ি’ দুইটি কেয়ারটেকারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার (৯ আগস্ট) বাড়ি দুইটি কেয়ারটেকার জুয়েলের কাছে হন্তান্তর করেন মৌলভীবাজার সিআইডির ওসি আব্দুছ ছালেক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাড়ি দুইটির মালিক লন্ডন প্রবাসী সাইফুর রহমান। এতদিন বাড়ি দুইটিতে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। মোতায়েন ছিল পুলিশ। গত ১৫ জুলাই সিআইডির একটি বিশেষ টিম বড়হাট ও নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানার বাড়ি দুইটি পরিদর্শন করে চূড়ান্ত আলামত সংগ্রহ করে।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ্জালাল বলেন, মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়ি দুইটি মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।

নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানানাসিরপুরে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ ও বড়হাটে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুই শিশুসহ নিহত হয় মোট ১০ জন। এর মধ্যে নাসিরপুরে নিহত পুরো একটি পরিবারের ৭ জন ও বড়হাটে নিহত একজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকি দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় পাওয়া আট জনের স্বজনরা লাশ গ্রহণ অনীহা প্রকাশ করলে বেওয়ারিশ দুই লাশের সঙ্গে পৌর এলাকায় পৃথক সময়ে ১০ জনের লাশ কবরস্থ করে মৌলভীবাজার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

গত ২৯ মার্চ মঙ্গলবার রাত থেকে বড়হাট ও নাসিরপুর দুইটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রেখেছিল পুলিশ ও র‌্যাব।  পৃথক দুইটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় আশপাশের দুই কিলোমিটার জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। নাসিরপুরে  ‘অপারেশন হিটব্যাক’ পরিচালনা করা হয়। অপারেশন হিটব্যাক চলাকালে আত্মঘাতি বোম বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই আস্তানায় দুই শিশুসহ একই পরিবারের সাত জন নিহত হয়। নাসিরপুর অপারেশন হিটব্যাক চলাকলে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখে পুলিশ ও র‌্যাব।  পরের দিন ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় বড়হাটের জঙ্গি আস্তানা রেকি করার পর রাতে অভিযানে নামে সোয়াট টিম। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’। এতে নিহত হয় নারীসহ তিন জঙ্গি।

বড়হাট ও নাসিরপুর এলাকার বাড়ি দুইটির মালিক লন্ডন প্রবাসী সাইফুর রহমান। তিনি লন্ডনে ট্যাক্সি চালক। তার বাবা থেকে পাওয়া সম্পত্তির বর্তমান মালিক তিনিই। টিনশেডের বাড়িটি প্রায় তিন একর জায়গার ওপর নির্মিত। বড়হাটের বাড়িটি ডুপ্লেক্স। তিনি প্রবাসী হওয়ায় বাড়ি দুইটি দেখাশোনার দায়িত্ব দেন নিকট আত্মীয় জুয়েলকে। তিনি ওই দুই বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ছিলেন। সাইফুল সর্বশেষ দেশে আসেন বছর খানেক আগে। বাড়ি দুইটি ভাড়া দেন জুয়েল।

/এনআই/

আরও পড়ুন:

দুই জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিক একই ব্যক্তি

মৌলভীবাজারের আস্তানা থেকে গ্রেনেড ছুড়ছে জঙ্গিরা

‘১২ জনের মতো জঙ্গি রয়েছে মৌলভীবাজারের দুই আস্তানায়’

 

দুই আস্তানায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা

এবার মৌলভীবাজারে দুটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ

বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় পৌঁছেছে সোয়াট

লাইভ

টপ