ভয় দেখিয়ে জঙ্গি নিরোধ সম্ভব না: নূর খান

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৫:১১, জুলাই ২৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৪, জুলাই ২৪, ২০১৬

সম্প্রতি র‌্যাবের তৈরি নিখোঁজ তালিকা হুট করে প্রকাশ করার সমালোচনা করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান। তিনি মনে করেন, কোনও রকম খোঁজ খবর না নিয়ে কেবল জিডির ভিত্তিতে এধরনের তালিকা গণমাধ্যমে পাঠানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজনও যদি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয় তাহলে সেটার দায় তাদের নিতে হবে। নিখোঁজ তালিকা হাজির, তালিকার অসামঞ্জস্য ও সাম্প্রতিক জঙ্গি প্রতিরোধ আন্দোলন নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।

নূর খান

তিনি মনে করেন, যে জিনিসটা করা দরকার ছিল, এই জিডির সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে তার ভিত্তিতে তারা কাদের সন্দেহ তালিকায় রাখছেন, সেটার একটা তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা। নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন কিন্তু দিব্যি বাড়িতে অবস্থান করছেন এমন সংবাদগুলো কারোর জন্যই স্বস্তিকর নয়।

অনুসন্ধান না করে প্রকাশ করলো কেন এমন প্রশ্নে নূর খান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভাল করেই জানে, এই তালিকার অনেকেই বাড়ি থেকে রাগ করে, প্রেম করে, অর্থনৈতিক কারণে পালিয়েছেন। আবার কেউ জঙ্গিপনা করতে আগ্রহী হলেও পালিয়ে থাকতে পারে। আমার জানা মতে, নিখোঁজ জিডিগুলো ধরে ধরে অনুসন্ধান করার কাজটি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ করেছিল।কিন্তু হঠাৎ করেই র‌্যাব তালিকা প্রকাশ করে ফেললো।

নূর খান মনে করেন, কাজ শেষ না হতেই এ ধরনের তালিকা প্রকাশ করায় যাদের নাম এসেছে, তারা সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন।তাদের দিকে প্রতিবেশীদের সন্দেহের চোখ পড়ছে। বিনা কারণে একজন ব্যক্তিও যদি অসম্মানিত হন, সেটা কাম্য নয়।

নিখোঁজদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে ফিরে এসেছেন, তারা এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সব প্রশ্নে মুখোমুখি হচ্ছেন, যার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত নন। এতে করে ফিরে আসা মানুষগুলো ও তাদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন ও ভীত হয়ে পড়ছেন। মনে রাখা জরুরি, ভয় সঞ্চার করে জঙ্গি নিরোধ সম্ভব না। সেটা জঙ্গিদের কাজেরই সমার্থক হয়ে যায়।

হুট করে এতো নিখোঁজের তালিকা। প্রায় প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে স্থানীয় থানায় জিডি হয়েছে।এতোদিনেও তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হয়নি কেন প্রশ্নে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন,বিষয়গুলোতে যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিলো না, তাতো আমরা বরাবরই বলার চেষ্টা করছিলাম। আমরা আগে গুমের বিষয়ে যখন কথা বলেছি, তখনও তাতে সরকারের কোনও মনোযোগ ছিল না। এখন পুরো বিষয়টাকে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরির অবস্থায় নিয়ে গেছে। নিখোঁজের তালিকা প্রকাশের পর এখন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলে ফেলেছেন, এতোদিন গুমের দাবি করেছেন, তারা কোথায় গেছে এখন দেখেন।

কিন্তু আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক যেসমস্ত গুমের কথা বলেছি, এখনও পর্যন্ত সেই গুমের কোনও লোক আমরা পাইনি, যাকে জঙ্গি কানেকশনে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে দুটো একেবারেই ভিন্ন ইস্যু।এখন এটাকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমরা যাদের নাম উচ্চারণ করেছি আগে তাদের কেউই জঙ্গি কানেকশনে গ্রেফতার বা নিহত হয়েছেন এমন না।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রধানতম কারণ হিসেবে পারিবারিক বন্ধনের অভাবকে উল্লেখ করা হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মী হিসেবে তিনি তাই মনে করেন কিনা প্রশ্নে নূর খান বলেন, পারিবারিক বন্ধন বলতে যেটা বুঝায় সেটাতো নেই। ত্রিশ বছর আগে যা ছিল তাতো নেই। আমাদের মতো অর্থনীতির দেশে চাইলেই আমরা ওই বন্ধন রাতারাতি ঠিক করতে পারবো না।ওইটা দিয়ে এটাকে প্রতিরোধ করা যাবে আমার মনে হয় না। অনেকগুলো ইণ্ডিকেটরের এটি একটি হতে পারে। কিন্তু কেবল ওইটাকে প্রধান হিসেবে দেখে এগিয়ে গেলেই আপনি নিরাপদ হয়ে যাবেন তা নয়।সেক্ষেত্রে এ মুহূর্তে করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দরকার মানুষকে সচেতন করা। আর এই মুহূর্তে জনগণকে সম্পৃক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ভীষণ জরুরি।কারণ রাজনৈতিক দলের ঐক্যের মধ্য দিয়ে জনগণের ঐক্য হয়। ভুলে গেলে চলবে না আমরা একটি যুদ্ধের মধ্যে আছি। এটি মোকাবিলা করতে হলে রাষ্ট্রকে সচেতন হতে হবে। এখানে রাষ্ট্র বলতে সবাই। শুধু খালেদা জিয়া কিংবা শেখ হাসিনা নয়।

 এপিএইচ/

আরও পড়ুন:

‘বিবস্ত্র চ্যানেল’ বন্ধের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

আগের খুতবা বাতিল করে নতুন খুতবা তৈরির সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

পদদলিত করলেন, পেটালেন, ১০ হাজার টাকাও নিলেন (ভিডিও)

লাইভ

টপ