এই বাজেট ঋণনির্ভর: আমীর খসরু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৩৩, জুন ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪১, জুন ১৩, ২০১৯





আমীর-খসরুবর্তমান সরকারকে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র অনির্বাচিত সরকার বলে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এই সরকারের বাজেট দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই। এটি একটি ঋণনির্ভর বাজেট।’ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকালে রাজধানীর হোটেল সারিনায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই বাজেটে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নষ্ট হয়ে গেছে।’

আমীর খসরু বলেন, ‘ধনী ও সুবিধাভোগী শ্রেণির কথা চিন্তা করেই এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হবে না। প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নতুনভাবে ঋণ ও করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, এ বাজেটেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেটের কারণে অর্থনীতি পুরোপুরি ঋণনির্ভর হয়ে পড়বে বলে দাবি করে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে।’ তিনি বলেন, ‘যে বাজেট আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে, যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশে চলছে, এটা একটি শ্রেণির সুযোগ-সুবিধার জন্য মাত্র।। জনগণকে বাইরে রেখে যেমন নির্বাচন করেছে, তেমনি অর্থনীতিতেও জনগণকে বাইরে রেখেই বাজেট দিয়েছে।’

আমীর খসরু বলেন, ‘সুশাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থীরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট। ঋননির্ভর অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, সার্ভের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার বাংলাদেশে। প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’ যেভাবে জনগণ একাদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি এই বাজেটও গ্রহণ করবে না বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির দলীয় দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, সংসদে বাজেট অধিবেশনের পর দলীয় এমপিরা কথা বলতে পারেন সংবাদমাধ্যমে। এছাড়া, দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুক্রবার (১৪ জুন) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা দলীয় প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদন দেওয়া হলেও সে বৈঠকেও আধঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান অর্থমন্ত্রী। দুপুর ১টা ২১ মিনিটে বৈঠকে যোগ দেন তিনি। এবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তাফা কামালের এটিই প্রথমবারের মতো বাজেট পেশ। এটি দেশের ৪৮তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম বাজেট। বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পক্ষ থেকে সংসদে বাজেট বক্তৃতা পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারা ও উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি। আর চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়।

আরও পড়ুন...
অর্থ ব্যয় হবে যেভাবে

দিস ইজ নিউ ট্র্যাডিশন: মুহিত

অর্থ আসবে যেসব খাত থেকে

বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন ভ্যাটমুক্ত

সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ জনপ্রশাসনে, কম শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিসে

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আ.লীগের আনন্দ মিছিল

জিডিপির আকার ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা

ডাক ও টেলিযোগাযোগে বরাদ্দ সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে এই বাজেট অসম্পূর্ণ: সিপিডি

মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বাড়বে ২ হাজার টাকা

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে

সুনীল অর্থনীতিতে জিডিপি বাড়বে ২ শতাংশ

প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ ৩২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা

 

/এসটিএস/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ