অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রথম এবং প্রধান দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা।’
কিন্তু একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তখনই প্রকৃত অর্থে মানবিক হয়ে ওঠে— যখন তা কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা সামষ্টিক অর্থনীতির শুষ্ক পরিসংখ্যানের গোলকধাঁধায় আটকে না থেকে— সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের যাপিত জীবনের অতি সাধারণ অথচ অপরিহার্য সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে পারে।
রাষ্ট্র সংস্কারের এই মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আমাদের গভীরভাবে তলিয়ে দেখতে হবে, রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রান্তিক নাগরিকটি তৃষ্ণার এক গ্লাস নিরাপদ সুপেয় জল পাচ্ছে কিনা, কিংবা দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা একজন নারী জনসমক্ষে কতটা মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শারীরিক সুস্থতার নিশ্চয়তা নিয়ে চলাচল করতে পারছেন।
সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থার কথা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই অনুচ্ছেদটি সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য না থাকায় দীর্ঘকাল ধরে পানি ও স্যানিটেশনের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
এই পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দিয়ে একে আইনি ও সাংবিধানিক অধিকারের সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে দেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সুয়ো-মোটো রুল নং ০৯/২০২০-এর এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায়। আদালত অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, ‘নিরাপদ পানি প্রাপ্তির অধিকার’ হলো সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষিত ‘জীবনধারণের অধিকার’ -এর একটি অবিচ্ছেদ্য ও অলঙ্ঘনীয় অংশ।
পানি ছাড়া যেমন জীবন বাঁচে না, তেমনই নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা ছাড়া জীবনের অধিকার পূর্ণতা পায় না। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত সরকারকে সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ নির্দেশনা দিয়েছে যে, প্রাথমিক ধাপে দেশের প্রধান প্রধান গণজমায়েতের স্থানসমূহ যেমন- রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাট, বিমানবন্দর, কাঁচাবাজার, গ্রামীণ হাটবাজার, শপিং মল, সরকারি হাসপাতাল, সকল পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল, পানি-সংকটপূর্ণ এলাকা, দুর্গম পার্বত্য জনপদ এবং দেশের সকল আদালত ও বার অ্যাসোসিয়েশনে বিনামূল্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটের তৃতীয়ও ষষ্ঠ অধ্যায়ে মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল ও খাতভিত্তিক অগ্রাধিকারে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ এবং যথাযথ স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগকে জোরদার করার কথা বলা হলেও, এই আদালতের রায়ের সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন বাজেট দলিলে আরও স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন, যাতে আইনি বাধ্যবাধকতা প্রশাসনিক সদিচ্ছায় রূপান্তরিত হয়।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ক্ষমতা গ্রহণের পর ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপ্রিকল্পনায় সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে জেন্ডার বাজেট ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন বরাদ্দের যে অনন্য সমন্বয় দেখা গেছে, তা আধুনিক রাষ্ট্রভাবনার এক চমৎকার উদাহরণ।
বিশেষ করে, উন্নয়ন বাজেটের জেন্ডার ও শিক্ষা সংক্রান্ত অংশটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় স্যানিটারি প্যাডের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপর অভূতপূর্ব জোর দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্কুল-কলেজে ছাত্রীদের ধরে রাখতে এবং পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যচর্চায় একটি যুগান্তকারী নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে— দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি শিল্প হাবে স্বয়ংক্রিয় হেলথ অ্যান্ড হাইজিন ভেন্ডিং মেশিন (স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ ও তা পরিবেশবান্ধব উপায়ে ধ্বংস করার সুবিধাসহ) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ এবং বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘ল্যানসেট’-এর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মাসিকের দিনগুলোতে উপযুক্ত স্যানিটেশন এবং সাশ্রয়ী প্যাডের অভাবে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ ছাত্রী প্রতি মাসে কয়েকদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে— যা কালক্রমে তাদের শিক্ষাজীবন থেকে চিরতরে ছিটকে পড়ার বা বাল্যবিয়ের শিকার হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর পাশাপাশি জেন্ডার সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক স্পেসে নারীদের জন্য পৃথক ওয়াশরুম ও টয়লেট সুবিধা এবং গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, করপোরেট অফিস ও আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপদ ‘ব্রেস্টফিডিং কর্নার’ স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ তাদের নিজ নিজ অবকাঠামোগত বাজেট থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কার অর্থায়ন করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব আজ বাংলাদেশের মানচিত্রজুড়ে দৃশ্যমান। আমরা বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতা, সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং উপকূলীয় এলাকায় মারাত্মক লবণাক্ততার অনুপ্রবেশের মতো একের পর এক ক্যাসকেডিং বা শৃঙ্খলিত ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি। এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার আমাদের উপকূলীয়, হাওর এবং পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা।
খাবার পানির তীব্র সংকটের কারণে উপকূলের নারীদের প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হেঁটে তীব্র রোদে বা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এই অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং দীর্ঘক্ষণ দূরবর্তী উৎস থেকে পানি আনার ক্লান্তি ছাড়াও, লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে নারীদের জরায়ুর রোগ, প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা এবং নানা ধরনের চর্মরোগ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তাই এই অঞ্চলের মানুষের জন্য ‘জলবায়ু-সহনশীল WASH’ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আজ জীবন-মরণের প্রশ্ন।
এবারের বাজেটে পরিবেশ-সহনশীল বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ার যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিফলন হিসেবে বর্তমান সরকার নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে বনায়ন, নদীগুলো নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করার কথা বলেছে। একইসঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে, জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
এছাড়া, শিল্প বর্জ্য ও পরিবেশ দূর্ষণ রোধে দেশে ইটিপি প্রযোজ্য ৩,২৬০টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ইতিমধ্যে ২,৭০০টিতে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং ৮২০টিতে অনলাইন মনিটরিংয়ের জন্য আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘সার্কুলার ফিউচার মড’ল'-এর আওতায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জৈব সার তৈরি এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
হাইজিন শিল্পে শুল্ক ছাড় দিয়ে স্থানীয়ভাবে ‘বায়ো-হাইজিন মেশিনারি’ উৎপাদনে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং দেশীয় হাইজিন পণ্যের বিকাশ ঘটাতে রেগ্রুলেটরি ডিউটি ও সম্পূরক ভ্যাট প্রত্যাহার করে বিশেষ রাজস্ব ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা স্যানিটারি পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সাহায্য করবে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে আরও বেশি জনবান্ধব, কার্যকর এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকে শতভাগ যুগোপযোগী করতে আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট, বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী পদক্ষেপের প্রস্তাব করতে পারি, যা সরকারের ভাবমূর্তি, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে:
স্থানীয় সরকার বিভাগের বাজেট কোড ‘৪১১১৩০৯’ (স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ)-এর অধীনে দেশের সব রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাট, গ্রামীণ হাটবাজার, আদালত প্রাঙ্গণ এবং উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় সুপেয় পানির বুথ ও আধুনিক পাবলিক টয়লেট স্থাপনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘থোক বরাদ্দ’ বা বিশেষ তহবিল নির্দেশ করা দরকার। এতে আদালতের রায়ের প্রতি সরকারের অনন্য সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত হবে এবং নাগরিকদের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা প্রমাণিত হবে।
পাবলিক টয়লেট, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ফিকাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট (মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা) ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন পুরোপুরি নির্ভর করে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ওপর। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত করে এই বীর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য বিমা, আধুনিক সুরক্ষাসামগ্রী (যেমন- গ্লাভস, বুট, মাস্ক) এবং পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। এটি করা গেলে তা হবে এই বাজেটের ‘মানবিক’ ও ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ দর্শনের সবচেয়ে বড় এবং সার্থক বিজ্ঞাপন।
সরকারের একার পক্ষে সব অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি করা কঠিন। বাজেট নির্দেশনায় যদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগী এনজিওগুলোর অংশীদারত্বের আনুষ্ঠানিক সুযোগ রাখা হয়, তবে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এনজিওগুলো মাঠপর্যায়ে পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপকূলীয় ও বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য ‘জলবায়ু-সহনশীল ওয়াশ মডেল’ উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নে ব্যয় করা উচিত। কারণ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাব দূর হলে ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েড এবং নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব কমে যায়, যা প্রকারান্তরে সরকারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমায়। এই অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সত্যকে মাথায় রেখে বাজেট সংশোধন ও বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে তা সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ও টেকসই করবে।
বাজেট ২০২৬-২৭ নিঃসন্দেহে একটি নতুন, বৈষম্যহীন, সাম্যবাদী ও মানবিক বাংলাদেশের রঙিন স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে। ‘পিরিয়ড হাইজিন’ বা ‘পাবলিক টয়লেট’-এর মতো একসময়ের প্রান্তিক ও লোকলজ্জার আড়ালে ঢাকা থাকা কিন্তু মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ মৌলিক বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রীয় বাজেটের মূলধারার আলোচনায় নিয়ে এসে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তাদের প্রগতিশীল ও আধুনিক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তবে যেকোনো ভালো পরিকল্পনার সার্থকতা নির্ভর করে তার সঠিক বাস্তবায়নের ওপর।
বাজেট পাসের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে, উচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক নির্দেশনাকে যথাযথ সম্মান জানিয়ে এবং দেশের আপামর মেহনতি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করে সুপেয় পানি ও জলবায়ু-সহনশীল ওয়াশ খাতে এই সুনির্দিষ্ট পরিমার্জন ও বরাদ্দগুলো যুক্ত করা হলে, তা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে না, বরং বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করবে যে—গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জেগে ওঠা নতুন বাংলাদেশের নতুন সরকার সত্যিই জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ আজ পরম আগ্রহ ও গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে একটি প্রকৃত অর্থেই সর্বজনীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেটের চূড়ান্ত ও বাস্তব রূপ দেখার জন্য, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের তৃষ্ণার জল আর নারীর আত্মমর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে বিনম্র শ্রদ্ধায়।
লেখক: উন্নয়নকর্মী









