ধরিত্রী সুরক্ষায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ 

ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০০আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০০

বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ এবং সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় মানবজাতির সম্মিলিত দায়বদ্ধতার একটি বড় স্মারক দিবস। প্রতি বছর ২৮ জুলাই পালিত এই বিশেষ দিনটি কেবল উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বার্তা দেয়। বর্তমান আধুনিক বিশ্বে শিল্পায়ন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অতিরিক্ত সম্পদ আহরণের ফলে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। নদী, নালা, বন এবং বায়ুমণ্ডলের দূষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে—যা সরাসরি মানুষের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব রেখে যেতে প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আজ সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই মৌলিক সত্যটি উপলব্ধি করাই এই দিবসের মূল ভাবধারা।

প্রকৃতি সংরক্ষণের এই বৈশ্বিক ভাবনার পেছনে রয়েছে বেশ দীর্ঘ ইতিহাস। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষার সচেতনতা বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ‘জাতিসংঘ মানব পরিবেশ সম্মেলনের’ মাধ্যমে। এই সম্মেলন বৈশ্বিক পরিবেশনীতি প্রণয়নে একটি যুগান্তকারী মোড় এনে দেয় এবং পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা গঠনের পথ সুগম করে। এরপর ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো ২৮ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্বজুড়ে পালন করার ধারা শুরু হয়। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এসে জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং জীববৈচিত্র্যের দ্রুত হ্রাসের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সামনে আসলে বিশ্বব্যাপী পরিবেশকর্মী ও সংস্থাগুলো এই দিনটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), বিশেষ করে লক্ষ্য ১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম), লক্ষ্য ১৪ (জলজ জীবন) এবং লক্ষ্য ১৫ (স্থলজ জীবন)-এর সাথে প্রকৃতি সংরক্ষণ আন্দোলন গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব কেবল ধারণাগত নয়, বরং তা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানে সুস্পষ্ট। ইন্টারন্যাশনালি স্বীকৃত পরিবেশ বিষয়ক প্রতিবেদন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ‘দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস ফরেস্টস ২০২৪’ অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৪২০ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে। গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ -এর ২০২৫ সালের উপাত্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলেই ২০২৫ সালে প্রায় ৪.৩ মিলিয়ন হেক্টর প্রাথমিক বন ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিল (ডব্লিউডব্লিউএফ) -এর ‘লিপিং প্ল্যানেট রিপোর্ট ২০২৪’ বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করেছে যে ১৯৭০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণীর গড় সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গ্লোবাল কার্বন প্রজেক্ট-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বায়ুমণ্ডলে বার্ষিক কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ প্রায় ৩৭.৪ বিলিয়ন মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব উষ্ণায়নকে দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। এসব পরিসংখ্যান বিশ্ববাসীকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—প্রকৃতি সংরক্ষণে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয় ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ১৯৯২ সালের রিও আর্থ সামিট থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং ২০২২ সালে গৃহীত ‘কুনমিং-মনট্রিয়াল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আগামী দশকগুলোকে ‘ইকোসিস্টেম রিস্টোরেশন’ বা বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দশক হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিভিন্ন অনুদান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল, মহাসাগর এবং সংকটাপন্ন বনাঞ্চল রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বহু দেশ এখন তাদের ভূমির অন্তত ৩০ শতাংশ এলাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে (৩০X৩০ টার্গেট) একযোগে কাজ শুরু করেছে, যাতে বিরল প্রজাতিগুলোর বংশবৃদ্ধি নিরাপদে ঘটতে পারে।

বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিক ও জলবায়ুগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। বিপুল জনসংখ্যা ও সীমিত ভূখণ্ডের এই দেশে জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় মানুষের জীবনজীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ বন বিভাগের ‘জাতীয় বন জরিপ ও মূল্যায়ন ২০১৯-২০২০’ অনুযায়ী, দেশের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১৪.১ শতাংশ এলাকায় বৃক্ষ আচ্ছাদন বিদ্যমান, যা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার আদর্শ পরিমাণের (২৫ শতাংশ) চেয়ে অনেক কম। অনিয়ন্ত্রিত জমি দখল, প্লাস্টিক দূষণ, রামপাল ও অন্যান্য শিল্প কারখানার নিকটবর্তী অবস্থান এবং অপরিকল্পিত পর্যটনের কারণে উপকূলীয় এলাকা ও পাহাড়ি বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে মিঠা পানির সংকট এবং নদীগুলোর নাব্য হ্রাস পাওয়ার ফলে সুপেয় পানি ও সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তদুপরি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি দিন দিন স্পষ্ট রূপ নিচ্ছে।

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের প্রাণকেন্দ্র ও বৈশ্বিক সম্পদ হলো ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবন—বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। তবে অতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দরবন একাধিক পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন। অতিরিক্ত লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বনের ভেতর দিয়ে বেআইনিভাবে নৌযান চলাচল এবং অবৈধভাবে বিষ দিয়ে মাছ শিকার সুন্দরবনের জলজ বাস্তুতন্ত্রকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দরবনে ঘন ঘন দাবানল ও প্রজনন মৌসুমে অননুমোদিত মানব প্রবেশ এখানকার প্রজাতিগুলোর প্রজনন চক্র ব্যাহত করছে। এসব সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ বন বিভাগ সম্প্রতি জুন, জুলাই এবং আগস্ট— এই তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও দর্শনার্থীসহ সকল প্রকার মানব প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে, যাতে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন ও প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম ঘটতে পারে। একই সাথে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সরকার বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ‘জাতীয় ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন’ গঠন করেছে, যা সুন্দরবন ও দেশের অন্যান্য বনাঞ্চলের পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

বাংলাদেশে পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অনেক বন্যপ্রাণী ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে এবং বহু প্রজাতি সংকটের মুখে। উদাহরণস্বরূপ, অতীতে বাংলাদেশে ডোরকা কাছিম, গোলাপি হাঁস, ডোরাকাটা হায়েনা এবং গণ্ডারের অস্তিত্ব থাকলেও উপযুক্ত আবাসের অভাবে এগুলো দেশ থেকে স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)-এর সর্বশেষ মূল্যায়নে রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সুন্দরবন ব্যাঘ্র জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫ টিতে (যা ২০১৫ সালের জরিপে ছিল ১০৬টি)। যদিও এটি ইতিবাচক বৃদ্ধি প্রকাশ করে, তবে চোরাশিকার এবং আবাস সংকটের কারণে এরা এখনও মারাত্মক ঝুঁকিতে। অন্যদিকে, ‘এশীয় হাতি’কে আইইউসিএন বাংলাদেশে ‘মহাবিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএন-এর যৌথ সমীক্ষা (২০২০-২০২৪) অনুযায়ী, দেশে স্থায়ী বুনো হাতির সংখ্যা আনুমানিক ২০০ থেকে ২২৫টির মতো। বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন উজাড় এবং হাতির প্রথাগত চলাচলের পথ (করিডর) দখল করে মানব বসতি বা অবকাঠামো নির্মাণের কারণে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে, যার ফলে প্রতি বছর বেশ কিছু হাতি ও মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও প্রভাব বিস্তারকারী সংগঠন হলো আইইউসিএন। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণে বৈজ্ঞানিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে। আইইউসিএন-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ‘আইইউসিএন রেড লিস্ট অব থ্রেটেন্ড স্পিসিজ’,  যা বিশ্বব্যাপী উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি মূল্যায়নকারী সবচেয়ে প্রামাণ্য তথ্যভাণ্ডার। এই রেড লিস্টে প্রজাতিগুলোকে নয়টি ভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—যার মধ্যে ‘বিলুপ্ত’, ‘বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত’, ‘মহাবিপন্ন’, ‘বিপন্ন’ এবং ‘সংকটাপন্ন’ অন্যতম। আইইউসিএন-এর তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজারটিরও বেশি প্রজাতির ওপর গবেষণা চালিয়ে ৪৪ হাজারের বেশি প্রজাতিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিপূর্ণ বা হুমকির মুখে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পৃথিবীর মোট জীববৈচিত্র্যের এক বিরাট অংশের বিপদ নির্দেশ করে।

প্রকৃতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে একক কোনও পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; বরং এর জন্য বৈশ্বিক এবং একক—দুই পর্যায় থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিশ্বজনীনভাবে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জলবায়ু তহবিলের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রাকৃতিক অভিযোজনে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব অপরিসীম। দৈনন্দিন জীবনে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা, সম্পদ ব্যবহারে অপচয় কমানো, শক্তি ও পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি, বন্যপ্রাণীর চামড়া, দাঁত বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে তৈরি জিনিসপত্র কেনা থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় সচেষ্ট হওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশগত সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি না পেলে প্রকৃতি রক্ষা অসম্ভব। সম্ভাবনার বিষয় হলো, দেশের বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং দেশব্যাপী বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার একটি ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

সর্বোপরি, প্রকৃতি কেবল মানুষের উপযোগিতা মেটানোর মাধ্যম নয়; এটি আমাদের অস্তিত্বের মৌলিক আধার। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে মানব সভ্যতার টিকে থাকা এক অসম্ভব কল্পনা। বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা এশীয় হাতির মতো অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, টেকসই নীতি গ্রহণ এবং সামগ্রিক পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার মাধ্যমেই কেবল আমরা একটি সুরক্ষিত ও ভারসাম্যপূর্ণ পৃথিবী বিনির্মাণ করতে পারি। ধরিত্রীকে সমৃদ্ধ ও সুষম রাখার এই লড়াইয়ে আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপই হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।

লেখক: অধ্যাপক, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ

/এমওএফ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
পর্যটন অর্থনীতি বদলে দিতে পারে বাংলাদেশ
যে নামেই ডাকেন না কেন… 
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার পরীক্ষা
সর্বশেষ খবর
বিজয়-রজনীকান্তের পর এবার কি রাজনীতিতে পা রাখছেন ধানুশ?
বিজয়-রজনীকান্তের পর এবার কি রাজনীতিতে পা রাখছেন ধানুশ?
হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ
হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ
জরায়ুর অন্তিম জ্যোৎস্না
জরায়ুর অন্তিম জ্যোৎস্না
স্মার্টফোনের ডিসপ্লে নিয়ে বিভ্রান্ত? জেনে নিন কোন ডিসপ্লে আপনার জন্য সেরা
স্মার্টফোনের ডিসপ্লে নিয়ে বিভ্রান্ত? জেনে নিন কোন ডিসপ্লে আপনার জন্য সেরা
সর্বাধিক পঠিত
রাজধানীতে বাস-সিএনজির সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেলো কেন
রাজধানীতে বাস-সিএনজির সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেলো কেন
এক মিনিটেই মিলবে ৫ লাখ টাকা, চার দিনে ২ কোটি
এক মিনিটেই মিলবে ৫ লাখ টাকা, চার দিনে ২ কোটি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়লো
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়লো
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা
বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি
বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি