বাংলাদেশের নব্বই দশকের অন্যতম কবি শামীম রেজার কবিতা নিয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন ভারতীয় গবেষক অভিষেক মণ্ডল। গবেষণার শিরোনাম, ‘শামীম রেজার কবিতায় নদী-সংস্কৃতির বহুমাত্রিক অভিজ্ঞান’।
ভারতের উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কবি নিখিলেশ রায়ের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নব্বই দশকের কোনও একক কবিকে নিয়ে পিএইচডি গবেষণা এই প্রথম।’ শুধু বাংলাদেশের নয়, বাংলা ভাষার সাম্প্রতিক কবিদের কবিতার ওপর এমন পূর্ণাঙ্গ গবেষণাও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আগে হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
গবেষণার পরীক্ষক ছিলেন ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তপন মণ্ডল এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবি সুমন গুণ।
অধ্যাপক সুমন গুণ বলেন, গবেষণায় শামীম রেজার কবিতার বিশেষ প্রবণতা ও নদীভিত্তিক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার বিশদ বিশ্লেষণ রয়েছে। গবেষক বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সংবেদনশীল আলোচনা উপস্থাপন করেছেন।
আর গবেষক অভিষেক মণ্ডল বলছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের জল, মাটি ও জনজীবনের অভিজ্ঞতা শামীম রেজার কবিতায় স্বতন্ত্র ভাষা ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। নদী তীরবর্তী সমাজ, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির বহুমাত্রিক রূপ তাঁর কবিতাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
কবি শামীম রেজা ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ বরিশালের ঝালকাঠি জেলার বিষখালি নদীর কোলঘেঁষা থানা কাঁঠালিয়ার জয়খালি গ্রামে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘পাথরচিত্রে নদীকথা’ (২০০১), ‘নালন্দা দূর বিশ্বের মেয়ে’ (২০০৪), ‘যখন রাত্তির নাইমা আসে সুবর্ণনগরে’ (২০০৬), ‘ব্রহ্মাণ্ডের ইসকুল’ (২০০৯), ‘হৃদয়লিপি’ (২০১৪) ও ‘দেশহীন মানুষের দেশ’ (২০১৮)।
নিজের কবিতা নিয়ে ভারতীয় গবেষকের গবেষণার বিষয়ে কবি শামীম রেজা বলেন, তার কবিতার ভেতরে নদী ও নদীসভ্যতা বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে উপস্থিত ছিল।
কৈশোর ও তরুণ বয়সে পরিকল্পিত একাধিক নদীকেন্দ্রিক পাণ্ডুলিপির কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো হারিয়ে গেছে। পরে তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘পাথরচিত্রে নদীকথা’-তেও সেই নদীকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা ফিরে আসে।
তিনি আরও বলেন, গবেষক অভিষেক মণ্ডল তার কবিতায় নদীসভ্যতার যে অনুসন্ধান করেছেন, সেখানে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কবিতার উত্তরাধিকার যেমন এসেছে, তেমনি বৈশ্বিক কবিতার সঙ্গেও তুলনামূলক আলোচনা যুক্ত হয়েছে।
কবিতা ছাড়াও শামীম রেজা লিখেছেন, নাটক ‘করোটির কথকথা’, ছোটগল্প 'ঋতুসংহারে জীবনানন্দ', উপন্যাস ‘ভারতবর্ষ’, প্রবন্ধ ‘সময় ও সময়ের চিত্রকল্প’। তিনি ‘যখন রাত্তির নাইমা আসে সুবর্ণনগরে’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রবর্তিত ‘কৃত্তিবাস’ পুরস্কার লাভ করেন ২০০৭ সালে।









