সেকশনস

ফুলবাড়ী ও কামালপুর মুক্ত দিবস আজ

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৩৩

মুক্ত দিবস

৪ ডিসেম্বর দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা ও জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত ও স্বাধীন হয়। এ কারণে ৪ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী ও কামালপুর মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়। আমাদের দিনাজপুর ও জামালপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর−

ফুলবাড়ী: ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপণ লড়াই করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে হটিয়ে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

২৬ মার্চ দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞের খবরে ফুলবাড়ীর বাঙালিদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওই দিন সকালে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে ফুলবাড়ী শহরে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল হয়। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে রেলস্টেশন থেকে কাঁটাবাড়ী বিহারিপট্টি হয়ে বাজারে ফেরার পথে বিহারিপট্টি থেকে মিছিল লক্ষ্য করে কে বা কারা গুলি বর্ষণ করলে সংঘাত সৃষ্টি হয়। এর ফলে বিহারিদের বাড়িতে শুরু হয় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ। এপ্রিলের ২ তারিখ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ফুলবাড়ী আক্রমণ করে নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর থেকে শুরু হয় বাঙালিদের ওপর দখলদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার, হত্যা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা।

দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরবর্তীতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুলবাড়ীকে হানাদার মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী যৌথভাবে বেতদিঘি, কাজিহাল, এলুয়াড়ী, জলপাইতলী, পানিকাটা, রুদ্রানী, আমড়া ও রানীনগর এলাকার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পাক বাহিনীকে চতুর্মুখী আক্রমণ করে। মিত্রবাহিনীর হাতে নিশ্চিত পরাজয় জেনে পাক হানাদার বাহিনী ফুলবাড়ী শহরে প্রবেশ ঠেকাতে বিকাল সাড়ে ৩টায় ছোট যমুনার ওপর লোহার ব্রিজটির পূর্বাংশ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়। ব্রিজ ধ্বংসের কারণে মিত্রবাহিনী ফুলবাড়ী শহরে প্রবেশ করতে বিলম্ব হওয়ার সুযোগে অবাঙালিরা বিশেষ ট্রেনে করে ফুলবাড়ী থেকে সৈয়দপুর চলে যায়। ট্রেনটি ধ্বংসের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা কয়েকটি মর্টারশেল নিক্ষেপ করলেও তা ব্যর্থ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের ওই সময় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ২০ নম্বর ব্রিজটি উড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু নানা কারণে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। তবে ৪ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী ত্যাগ করে চলে যায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। এ কারণে ৪ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডিপুটি কমান্ডার এছার উদ্দিন বলেন, ‘এপ্রিলের ২ তারিখে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ফুলবাড়ী আক্রমণ শুরু করে পুরো ফুলবাড়ীকে নিয়ন্ত্রণ করে নেয়। হানাদাররা দীর্ঘদিন অত্যাচার নির্যাতন করে। পরে সর্বশেষ ডিসেম্বরের ৪ তারিখ ফুলবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে হানাদার বাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়। কিন্তু যুদ্ধে টিকতে না পেরে এবং পরাজয় নিশ্চিত জেনে হানাদার বাহিনী ফুলবাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়।

কামালপুর: ৪ ডিসেম্বর জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্ত হয় কামালপুর। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় ঘেঁষা জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর যুদ্ধের শুরুতেই হানাদার বাহিনী গড়ে তোলে শক্তিশালী ঘাঁটি। মুক্তিযুদ্ধে ১১নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের উপর্যুপরি আক্রমণে একাত্তরের এদিনে হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে শত্রুমুক্ত হয় ধানুয়া কামালপুর।

মুক্তিযুদ্ধে ১১নং সেক্টরের ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই সেক্টরের সদর দফতর ছিল জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জ থানায়। আর সীমান্তের এপারেই ধানুয়া কামালপুর ছিল হানাদার বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটি দখল করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কামালপুর বিজয়ের লক্ষ্যে একাত্তরের ১১ নভেম্বর হানাদার সেনাদের শক্তিশালী ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করে মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে হানাদার বাহিনীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ২৩ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হানাদার বাহিনীর গ্যারিসন অফিসার আহসান মালিকের নেতৃত্বে ১৬২ জন সৈন্যের একটি দল যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসর্মপণ করতে বাধ্য হয়। শত্রুমুক্ত হয় ধানুয়া কামালপুর।

/জেবি/এমএমজে/

সম্পর্কিত

ভুট্টাক্ষেতে গৃহবধূর মরদেহ, স্বামী আটক

ভুট্টাক্ষেতে গৃহবধূর মরদেহ, স্বামী আটক

সেপটিক ট্যাংকিতে পড়ে মা-ছেলেসহ নিহত ৩

সেপটিক ট্যাংকিতে পড়ে মা-ছেলেসহ নিহত ৩

প্রেমের বিয়ে, শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে পালালেন বর

প্রেমের বিয়ে, শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে পালালেন বর

গাইবান্ধায় মাদক মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

গাইবান্ধায় মাদক মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

বেরোবিতে হল ও ভবন নির্মাণে অনিয়ম, উপাচার্যকে দায়ী করে প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনবেরোবিতে হল ও ভবন নির্মাণে অনিয়ম, উপাচার্যকে দায়ী করে প্রতিবেদন

মরুভূমির ত্বীনের চাষ হচ্ছে নবাবগঞ্জে

মরুভূমির ত্বীনের চাষ হচ্ছে নবাবগঞ্জে

শিশু সূচি হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

শিশু সূচি হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

গাছে ঝুলছিল কিশোরীর লাশ

গাছে ঝুলছিল কিশোরীর লাশ

রংপুর বিভাগে ৩ লাখ ছাড়িয়েছে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা

রংপুর বিভাগে ৩ লাখ ছাড়িয়েছে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা

সর্বশেষ

আসামির নাম জামাল, গ্রেফতার হলেন কামাল!

আসামির নাম জামাল, গ্রেফতার হলেন কামাল!

অভয়াশ্রমে মাছ শিকারের অভিযোগ: ১৮ জেলের জেল-জরিমানা

অভয়াশ্রমে মাছ শিকারের অভিযোগ: ১৮ জেলের জেল-জরিমানা

প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র!

প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র!

র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক কারবারি নিহত

র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক কারবারি নিহত

এইচ টি ইমাম আর নেই

এইচ টি ইমাম আর নেই

পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গা নারীসহ গ্রেফতার ২

পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গা নারীসহ গ্রেফতার ২

১৮ মার্চ তাদের ‘কন্ট্রাক্ট’

১৮ মার্চ তাদের ‘কন্ট্রাক্ট’

‘বন্ধ’ হলেও দিব্যি আছেন তারা

‘বন্ধ’ হলেও দিব্যি আছেন তারা

অনুরাগ-তাপসীর বাসায় আয়কর বিভাগের হানা

অনুরাগ-তাপসীর বাসায় আয়কর বিভাগের হানা

লক্ষ্মীপুরের পোড়াগাছায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অনুমোদন

লক্ষ্মীপুরের পোড়াগাছায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অনুমোদন

সড়কে নবনির্বাচিত মেয়রের স্ত্রী-ছেলেসহ নিহত ৩

সড়কে নবনির্বাচিত মেয়রের স্ত্রী-ছেলেসহ নিহত ৩

আজ ঢাকা আসছেন জয়শঙ্কর

আজ ঢাকা আসছেন জয়শঙ্কর

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ভুট্টাক্ষেতে গৃহবধূর মরদেহ, স্বামী আটক

ভুট্টাক্ষেতে গৃহবধূর মরদেহ, স্বামী আটক

সেপটিক ট্যাংকিতে পড়ে মা-ছেলেসহ নিহত ৩

সেপটিক ট্যাংকিতে পড়ে মা-ছেলেসহ নিহত ৩

প্রেমের বিয়ে, শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে পালালেন বর

প্রেমের বিয়ে, শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে পালালেন বর

গাইবান্ধায় মাদক মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

গাইবান্ধায় মাদক মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

বেরোবিতে হল ও ভবন নির্মাণে অনিয়ম, উপাচার্যকে দায়ী করে প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনবেরোবিতে হল ও ভবন নির্মাণে অনিয়ম, উপাচার্যকে দায়ী করে প্রতিবেদন

মরুভূমির ত্বীনের চাষ হচ্ছে নবাবগঞ্জে

মরুভূমির ত্বীনের চাষ হচ্ছে নবাবগঞ্জে

শিশু সূচি হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

শিশু সূচি হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

গাছে ঝুলছিল কিশোরীর লাশ

গাছে ঝুলছিল কিশোরীর লাশ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.