X
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

যুক্তরাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকে মুসলিমদের অবদান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:৪২

US Muslim যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আদৌ কি কোন অবদান রেখেছে মুসলিমরা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যদি দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা প্রত্যাশী রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মুসলিমবিরোধী মন্তব্যকে আশ্রয় করা হয়, তবে হত্যাকারী আর মূল্যবোধ বিনষ্টকারী ছাড়া মুসলিমদের কোন পরিচয় পাওয়া যায় না। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিক স্টুয়ার্ট জেফ্রিস বলছেন অন্য কথা। মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প যখন তুমুল সমালোচনার মুখে রয়েছেন, তখনই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত মুসলমানদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন স্টুয়ার্ট। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মুসলমানদের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অবদানের কথা তুলে ধরেন স্টুয়ার্ট। গার্ডিয়ানের সহ-সম্পাদক স্টুয়ার্টের লেখা ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মুসলমানরা যা করেছেন তা তার লেখায় পুরোপুরি হাজির করা সম্ভব না হলেও যতটুকু হাজির করা হয়েছে তা ট্রাম্পের অবদানের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

যুক্তরাষ্ট্র সৃষ্টিতে ভূমিকা

স্ট্রসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই পাশে আছে মুসলিমরা। মহাদেশীয় সেনাবাহিনীর কমান্ড অব চিফ এবং পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটনের অধীনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছিলেন সেখানেও রয়েছে মুসলিমদের নাম। ১৭৭৫ সাল থেকে ১৭৮৩ সাল পর্যন্ত সময়ে ভার্জিনিয়া লাইনের জন্য লড়াই করেছেন বাম্পেত মোহাম্মদ। ওয়াশিংটনের অধীনে কাজ করেছেন ইউসূফ বেন আলী যিনি একজন উত্তর-আফ্রিকান আরব। কেউ কেউ দাবি করেন, বাংকার হিলের লড়াইয়ে ব্রিটিশ মেজর জেনারেল জন পিটকেয়ার্নের ওপর গুলি চালিয়ে তাকে হত্যাকারী ব্যক্তি পিটার বাকমিনস্টারও একজন মুসলিম আমেরিকান। কেউ কেউ আবার বলে থাকেন, বাকমিনস্টার পরে তার ডাকনামটি পরিবর্তন করে সালেম কিংবা সালাম রেখেছিলেন,আরবি ভাষায় যার অর্থ শান্তি। তবে যাই হোক না কেন, প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের কিন্তু নিজের সেনাবাহিনীতে মুসলিমদের অন্তর্ভূক্ত রাখার ব্যাপারে কোন সমস্যা ছিল না। আর তার মধ্য দিয়ে এ বার্তাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, মার্কিন দেশপ্রেমিক হতে নির্দিষ্ট ধর্ম কিংবা জাতিগোষ্ঠীর হতে হয় না।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রাচীন সেই মার্কিন নীতির মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করেন স্টুয়ার্ট।

যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথম স্বীকৃতি মুসলিম দেশের

১৭৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে যে দেশটি প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল সেটি একটি মুসলিম দেশ। সেসময় প্রথম স্বীকৃতি দানকারী মরক্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি ও বন্ধুত্বের একটি চুক্তিও সই হয়েছিল যা এখনও বলবৎ আছে।

ট্রাম্প টাওয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের শহর গড়ার কারিগর যখন মুসলিম

স্টুয়ার্টের মতে, অবকাঠামো আর নকশার দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন আধুনিক আর মজবুত দেখায়, সেটা হয়তো সম্ভব হতো না যদি বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত মার্কিন মুসলিম ফজলুর রহমান খান না থাকতেন। তার অবদানের জন্য ফজলুরকে ‘আইনস্টাইন অব স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলে ডাকা হয়ে থাকে। ফ্রেম টিউবের নতুন কাঠামোগত সিস্টেম আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো আকাশছোঁয়া ভবনে ভরে তুলতে সহায়তা করেছেন এ মুসলিম। তার এই ফ্রেম টিউব পদ্ধতি ছাড়া হয়তো টুইন টাওয়ার, সিয়ার্স টাওয়ারসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত অনেক ভবনই নির্মাণ করতে পারত না যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৩ সাল থেকে প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বিশ্বের উচ্চতম ভবনের তালিকায় ছিল সিয়ার্স টাওয়ার। ১৯৮২ সালে ফজলুর রহমান প্রয়াত হলেও পরবর্তীতেও ট্রাম্প টাওয়ারসহ উৎচু সব ভবন তৈরি হয়েছে তার দেখানো পদ্ধতিতেই।

আইয়ুব ওমায়া

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় সরাসরি ব্রেনে কেমোথেরাপি পৌঁছে দেয়ার মত যুগান্তকারী আবিষ্কারটি যদি না হত তবে হয়তো মার্কিনিরাসহ অনেকেই মারা যেতেন কিংবা প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভুগতেন এই রোগের কারণে। আর ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ডিভাইসের আবিষ্কার হয়েছে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নিউরোসার্জন আইয়ুব ওমায়ার হাত ধরে।

খেলাধুলা

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট মুসলিমদের ক্রীড়া তারকা হিসেবে অভিহিত করায় টুইটারে সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে স্টুয়ার্টের প্রশ্ন,২০০৭ সালে ট্রাম্প মুহাম্মদ আলী অ্যাওয়ার্ড যার হাত থেকে নিয়েছিলেন এবং গত মে মাসে যার সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করে তাকে বন্ধু বলে দাবি করেছিলেন সেই মুসলমান তারকা মোহাম্মদ আলীকে কীভাবে ভুলে গেলেন ট্রাম্প? এছাড়া বাস্কেটবল আইকন শাকিল ও’ নিল, এনবিএ তারকা কারিম আবদুল-জাব্বারসহ অনেক মুসলিমই যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াঙ্গন আলোকিত করে রেখেছেন।

বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অবদান

কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পরিবর্তনজনিত অবস্থাগুলো নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতে নেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মুসলিম নাগরিক আহমেদ জিওয়াইল।  দ্রুত আণবিক পরিবর্তনজনিত গবেষণা কাজে অবদানের কারণে তাকে ‘ফাদার অব ফেমটোকেমিস্ট্রি’ বলে ডাকা হয়ে থাকে। বর্তমানে ৬৯ বয়সী এ রসায়নবিদ জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদে কাজ করেছিলেন আহমেদ। বিজ্ঞানে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তার নামে ডাকটিকিটও উন্মোচন করা হয়েছিল।

আজিজ আনসারি

হাস্যরস

মুসলিমরা আবার হাস্যরসও করতে জানে? পশ্চিমা বিশ্বে বিরাজ করা ইসলামভীতির কারণে অনেকের মনে এমন প্রশ্নটি জাগতেই পারে। কিন্তু সেটি তারা করতেই পারেন বলে উল্লেখ করেছেন স্টুয়ার্ট। এক্ষেত্রে চলতি বছরেরই একটি ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। এ বছরের জানুয়ারিতে, এক টুইটে রুপার্ট মারডক বলেন, ‘হতে পারে বেশিরভাগ মুসলিমই শান্তিপূর্ণ, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ক্রমবর্ধমান জিহাদি ক্যান্সারকে ধ্বংস না করতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের দায়ী করা হবে।’ রুপার্টের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা টুইট করেন আজিজ আনসারি। হাস্যরসের জন্য পরিচিত এ ব্যক্তি টুইটারে বলেন, ‘রুপার্ট, আমরা কি ধাপে ধাপে নির্দেশনা পেতে পারি? কিভাবে আমার ৬০ বছর বয়সী বাবা-মা সন্ত্রাসী সংগঠন ধ্বংসে সহায়তা করতে পারে? একটু পরামর্শ দেবেন কি?’

মডার্ন রোমান্স:অ্যান ইনভেস্টিগেশন নামের বইতে নিজেকে নাস্তিক বলে দাবি করলেও মূলত সাউথ ক্যারোলিনার একটি তামিল মুসলিম পরিবারে জন্ম হয় আনসারির। এছাড়া ডেভ চ্যাপেলের নামটিও বলা যায়। রবিন হুড:ম্যান ইন টাইটস চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে সাড়া জাগানো এ শিল্পী ১৯৯৮ সালে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি কোন কথা বলেননি। কেন? সে প্রশ্নের উত্তরে ২০০৫ সালে টাইম ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত জনসমক্ষে ধর্ম নিয়ে কথা বলতে চাই না। কারণ আমি চাই না, এমন একটি সুন্দর জিনিসের সঙ্গে তারাও আমার মত গা ভাসিয়ে দিক।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/

সর্বশেষ

জাতিসংঘে নিজের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে মিয়ানমার

জাতিসংঘে নিজের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে মিয়ানমার

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ে গাড়ির সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ে গাড়ির সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ১০

ফেসবুকে দুই মন্ত্রীর 'দ্বন্দ্ব' বিষয়ক স্ট্যাটাস

ফেসবুকে দুই মন্ত্রীর 'দ্বন্দ্ব' বিষয়ক স্ট্যাটাস

সিডনিতে ‘ধূমকেতু’ ব্যান্ডের সফল কনসার্ট

সিডনিতে ‘ধূমকেতু’ ব্যান্ডের সফল কনসার্ট

মায়ের কপালে চুমু খেয়ে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

মায়ের কপালে চুমু খেয়ে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

ওয়েলসকে হারিয়ে ইতালি গ্রুপ সেরা

ওয়েলসকে হারিয়ে ইতালি গ্রুপ সেরা

কনওয়ের হাফসেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে কিউইরা

কনওয়ের হাফসেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে কিউইরা

‘রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল অগ্রগামী নয়’

‘রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল অগ্রগামী নয়’

কুষ্টিয়ায় দুই দিনে ১৪ জনের প্রাণ নিলো করোনা

কুষ্টিয়ায় দুই দিনে ১৪ জনের প্রাণ নিলো করোনা

মেক্সিকো-মার্কিন সীমান্ত শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ১৮

মেক্সিকো-মার্কিন সীমান্ত শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ১৮

নবজাতককে বিক্রির সময় গ্রেফতার ৩

নবজাতককে বিক্রির সময় গ্রেফতার ৩

রাত পোহালেই ২০৪টি ইউপিতে ভোট

রাত পোহালেই ২০৪টি ইউপিতে ভোট

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ে গাড়ির সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ে গাড়ির সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ১০

মেক্সিকো-মার্কিন সীমান্ত শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ১৮

মেক্সিকো-মার্কিন সীমান্ত শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ১৮

আফগানিস্তানে ‘প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থা’ চায় তালেবান

আফগানিস্তানে ‘প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থা’ চায় তালেবান

কাবুল বিমানবন্দরে তুরস্কের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ: আফগান কর্মকর্তা

কাবুল বিমানবন্দরে তুরস্কের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ: আফগান কর্মকর্তা

ইরানের সঙ্গে ৬ পরাশক্তির পারমাণবিক আলোচনা স্থগিত

ইরানের সঙ্গে ৬ পরাশক্তির পারমাণবিক আলোচনা স্থগিত

রাশিয়া সফরে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান

রাশিয়া সফরে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার রায়িসি-র

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার রায়িসি-র

ফ্লোরিডায় প্রাইড প্যারেডে গাড়ি চাপায় নিহত ১

ফ্লোরিডায় প্রাইড প্যারেডে গাড়ি চাপায় নিহত ১

জাপানের পানিসীমায় চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজ

জাপানের পানিসীমায় চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজ

১২৩ দিন হাতকড়া পরেও টিকলো না সম্পর্ক

১২৩ দিন হাতকড়া পরেও টিকলো না সম্পর্ক

© 2021 Bangla Tribune