X
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

সাধারণ মানুষের হাতে মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র, উদ্বিগ্ন পুলিশ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০১

 






অত্যাধুনিক পয়েন্ট টুটু বোর পিস্তল উজি অস্ত্রটির নাম উজি। পয়েন্ট টুটু বোর পিস্তল। ইসরায়েল-বেলজিয়ামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রটি ব্যবহার করে থাকে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেসব পিস্তল ব্যবহার করে থাকে তার চেয়ে এটি অনেক বেশি আধুনিক। আমদানিকারকরা কারসাজি করে সেই অস্ত্র আনছে বাংলাদেশে। পয়েন্ট টুটু বোরের লাইসেন্স নেওয়া আছে এমন অনেকেই আইনের ফাঁক গলে অত্যাধুনিক এই অস্ত্র নিজের কাছে রাখছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।




পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই অস্ত্র কোনওভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেলে তা ভীষণ দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিশেষজ্ঞ মতামতে এই অস্ত্রকে মিলিটারি গ্রেডের উল্লেখ করে এটিকে কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের হাতে তুলে না দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি বলেছে, এটি কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা ভিআইপিদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা আরও গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২০ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ মোহাম্মদপুর থানাধীন ইউডার সামনে থেকে একটি সিলভার রঙের প্রাইভেটকারসহ মিনাল শরীফ নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ উদ্ধারের পাশাপাশি গাড়ি থেকে একটি অস্ত্রের লাইসেন্স জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনাল তার বাসায় আরও মাদক রয়েছে জানালে গোয়েন্দা পুলিশ তার ধানমন্ডির ১৫ নম্বর সড়কের ১৯/২ নম্বর বাসার এ/১ নম্বর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি একটি উজি ব্র্যান্ডের পিস্তল ও ৪৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্রটি উদ্ধার করে এর লাইসেন্সের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে আশ্চর্য হয়ে যান তারা। অস্ত্রের ধরন এবং লাইসেন্স পর্যালোচনা করে অস্ত্র এবং লাইসেন্সের মধ্যে গড়মিল পান তারা। লাইসেন্সে পয়েন্ট টুটু বোর উল্লেখ থাকলেও বোর ঠিক রেখে তার কাছে উজি ব্র্যান্ডের অত্যাধুনিক পিস্তল পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে মিনাল শরীফ অস্ত্রটি বৈধভাবে পুরানা পল্টনের এমএইচ আর্মস কোম্পানি থেকে কিনেছেন বলে জানায়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টির গভীরতর অনুসন্ধানের জন্য তারা ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি নং ১০৮৩) করে তদন্তের জন্য আদালত থেকে অনুমতি নেন। পরে লাইসেন্সের সঙ্গে অস্ত্রের ধরনের গড়মিলের বিষয়ে জানতে এমএইচ আর্মস কোম্পানির মালিক মোকারম হোসেনকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির জবাবে এইচএম আর্মস কোম্পানির মালিক মোকারম হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড রমনা শাখার মাধ্যমে অস্ত্র আমদানি করেন। আমদানিকৃত পণ্য রাইফেল হিসেবে নিয়মিত শুল্ক পরিশোধ করে কাস্টমস হাউজ ঢাকা হতে খালাসের মাধ্যমে রাইফেল হিসেবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে গুদামজাত করেছেন। তাদের আমদানি করা একটি অস্ত্রই মিনাল শরীফ নিজের বৈধ লাইসেন্স দেখিয়ে ক্রয় করেছেন।

পুলিশ জানায়, অস্ত্রের লাইসেন্সে পয়েন্ট টুটু বোর উল্লেখ করা ছিল। এটির লাইসেন্স দিয়ে লাইসেন্সধারী একটি পয়েন্ট টুটু বোর রাইফেল ক্রয় করতে পারেন। কিন্তু উজি ব্র্যান্ডের পিস্তলটিও পয়েন্ট টুটু বোর হওয়ায় কৌশলে আমদানিকারকরা সেটি আমদানি ও বিক্রি করছে।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে আরও বেশি নিশ্চিত হতে অস্ত্র বিশেষজ্ঞের মতামত নিতে ঢাকা সেনানিবাসের পরিচালক, সদরদফতর লজিস্টিকস এরিয়ায় (ইএমই শাখা) একটি চিঠিসহ অস্ত্রটি পরীক্ষার জন্য পাঠান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেনা সদর থেকে অস্ত্রটিকে অত্যাধুনিক উল্লেখ করে এটি মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

বিশেষজ্ঞ মতামতে সেনাসদরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লাইসেন্সে পয়েন্ট টুটু বোর রাইফেল উল্লেখ করা থাকলেও উজি পিস্তল (সেমি অটোমেটিক) ক্রয় করতে পারবে না। উজি পিস্তল ও উজি রাইফেল দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র। অস্ত্র দুটির স্পেয়ার পার্টস, ওজন ও দৈর্ঘ্য ছাড়াও বিভিন্ন পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া এটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত পিস্তলের চেয়েও অত্যাধুনিক। কারণ এর ম্যাগাজিনের ধারণ ক্ষমতা ২০ রাউন্ড। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত পিস্তলসমূহের সর্বাধিক ম্যাগাজিন ধারণ ক্ষমতা ১৫ রাউন্ড। বিশেষজ্ঞ মতামতে অস্ত্রের লাইসেন্সে ক্যালিবারের পাশাপাশি অস্ত্রের ধরন সুনির্দিষ্ট থাকা প্রয়োজন এবং অস্ত্রটির ম্যাগাজিনের ধারণক্ষমতা উল্লেখ থাকা প্রয়োজন বলে মতামত দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক মনে করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অনুসন্ধানে জানতে পারে ছয়টি অস্ত্র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গত পাঁচ বছরে ৯১টি উজি পিস্তল আমদানি করেছিল। তারা হলো- এমএইচ আর্মস কোং, আহম্মদ হোসেন আর্মস কোং, মেসার্স তোফাজ্জল হোসেন, কে আহম্মেদ আর্মস অ্যান্ড কোং ও শফিকুল ইসলাম আর্মস অ্যান্ড কোং। এই ছয় প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা ৯১টি উজি পিস্তলের মধ্যে ৪৯টি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়া একই সময়ে মঈন আর্মস কোং নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ২০টি উজি রাইফেল আমদানি করেছিল। তারা এরমধ্যে ৪টি বিক্রি করেছে। বাকি ১৬টি তাদের মজুদ রয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে আইনে অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে আমদানি, বিক্রয় ও মজুদকৃত উজি পিস্তলসহ এই ধরনের সকল অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অস্ত্রগুলো বাজেয়াপ্ত করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া যেতে পারে বলেও সুপারিশে বলা হয়েছে।

সুপারিশে অস্ত্রের লাইসেন্সে ক্যালিবার উল্লেখ থাকলেও এর সঙ্গে অস্ত্রের ধরন সুস্পষ্ট থাকা, লাইসেন্সে ম্যাগাজিন ক্যাপাসিটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর যৌথ অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে বৈধ অস্ত্র সংক্রান্ত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন যুযোপযোগী করা, লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের অস্ত্র সংক্রান্ত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে সম্পৃক্ত করা, লাইসেন্সধারীদের সামাজিক মর্যাদা, পেশা ইত্যাদি বিষয়ে যাচাইয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়া ও কাস্টমস থেকে অস্ত্রের চালান খালাসের সময় অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত বলে পরামর্শ দেওয়া হয়।

/আরআইজে/

সম্পর্কিত

শিল্পাঞ্চলে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কা

শিল্পাঞ্চলে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কা

জঙ্গিদের সুপথে ফেরানোর কার্যক্রম কেমন চলছে?

জঙ্গিদের সুপথে ফেরানোর কার্যক্রম কেমন চলছে?

আটকে গেলো বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী জামিন

আটকে গেলো বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী জামিন

‘এয়ারপোর্ট থেকে’ ফোন: পার্সেলের কথা শুনে টাকা খোয়াবেন না

‘এয়ারপোর্ট থেকে’ ফোন: পার্সেলের কথা শুনে টাকা খোয়াবেন না

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৪ সেপ্টেম্বর

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৩:০০

আদালতের রায়ে স্থগিত সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ওই মাসের ৪ তারিখে ভোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শোকের মাস আগস্টে কোনও ভোট না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন থেকে আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে। যার কারণে ইসি ১৮০ দিনের সময়সীমার একেবারেই শেষ প্রান্তে গিয়ে এ ভোট করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসে তো ভোট হবেই না এমনকি ওই মাসে ভোটের তারিখটাও ঘোষণা করা হবে না। জানা গেছে, ভোটের আগে ২/৩ দিন সময় রেখে সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে ওই মাসের ৪ তারিখ ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হবে। অবশ্য ওইদিন সম্ভব না হলে ৫ সেপ্টেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় ভোটগ্রহণের  ১৮০ দিনের মেয়াদ আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সোমবার শেষ হবে। কমিশনকে এসময়ের মধ্যে ভোট করে আনুষ্ঠানিক ফলাফল (গেজেট প্রকাশ) করতে হবে।

প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতিতে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সোমবার এক আদেশে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করে। আদালতের আদেশ পেয়ে ইসি ওইদিনই উপনির্বাচনটি স্থগিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পূর্বঘোষিত শিডিউল অনুযায়ী ২৮ জুলাইয়ে আসনের উপ-নির্বাচনের কথা ছিল।

তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ৫ আগস্টের পরে যে কোনদিন ভোট করার সুযোগ থাকলেও শোকের মাসের বিষয়টি বিবেচনা করে তারা সেপ্টেম্বরেই ভোট করতে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, শোকের মাসে কোনও ধরনের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ এবং সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ২৮ জুলাই অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইসি তফসিল ঘোষণা করেছিল।  ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে ১৮০ দিনের মেয়াদ পূর্ণ হতে ইসির হাতে বেশ কিছুদিন সময় থাকলেও সিলেট-৩ আসনের জন্য ইসির হাতে সময় ছিল সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পর্যন্ত। কিন্তু সেপ্টেম্বরে ভোট করতে গেলে যদি এক বা একাধিক কোনও কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয় এবং এতে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়ে—তখন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কায় জুলাইয়ের ২৮ তারিখ ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ইসিকে সেই সেপ্টেম্বরেই যেতে হলো।

তিনটি আসনের উপ-নির্বাচনের মধ্যে ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে একক প্রার্থী হওয়ায় এ দুটি আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি। এ দুটি আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ইতোমধ্যে শপথও গ্রহণ করেছেন। তবে সিলেট-৩ আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রয়োজন পড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কমিশন আগে থেকেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী শোকের মাসে কোনও নির্বাচন করবে না। ফলে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগস্ট মাসে সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে নির্বাচনের তারিখটিও এ সময় ঘোষণা করা হবে না। হাতে দুই/তিনদিন সময় রেখে সেপ্টেম্বরেই ভোটের তারিখ জানানো হবে। এক্ষেত্রে ৪ সেপ্টেম্বর শনিবার বা তার পরের দিন ভোট হতে পারে। কারণ আমাদের সম্ভবত সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখের মধ্যে ভোটের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিলেট-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী গত ১১ মার্চ মারা যান। সংবিধান অনুযায়ী গত ৮ জুন এ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে এ আসনের উপনির্বাচন পরবর্তী ৯০ দিনে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানান। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে এ আসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

/এমআর/

সম্পর্কিত

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৩:১৫

ইমরান হুসেইন, মুন্সি তারা মিয়া, হাবীব হাসান, মোল্লা সোহাগ আশায় বুক বেঁধেছিলেন- সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছাবেন স্বপ্নের ইউরোপে। উন্নত জীবনমান আর বেশি আয়ের স্বপ্নে প্রলুব্ধ হয়ে মানবপাচারকারীর হাত ধরে শুরু হয় তাদের ভূমধ্যসাগরের মরণযাত্রা। পরে মাঝ সমুদ্রে তাদের উদ্ধার করে আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজ। আশ্রয় হয় ইউরোপীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপ মাল্টায়। কথা বার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা পরিচয় নিশ্চিত করে রেখে দিয়েছে ডিটেনশন সেন্টার নামক এক প্রকার জেলে। আর তাদের সেখান থেকে মুক্ত করে সেদেশে বৈধ উপায়ে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন-আয়েবা।   

মাল্টা থেকে কিছুদিন পরপরই বন্দি কিংবা আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মাল্টা সরকারের এমন পদক্ষেপ। সেখান থেকে গত জুন মাসেও ১৫৮ এবং তারও আগে ৪৪ বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়। তাদের দেশে ফেরার জন্য আউটপাস ইস্যু করে গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। কারণ মাল্টায় বাংলাদেশের কোনও দূতাবাস নেই। মাল্টা সরকারের চলমান ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমে রীতিমতো আতংকিত সেখানে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কয়েক লাখ টাকা খরচ করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে গিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর আতংকে পার করতে হচ্ছে দিনরাত।

এই চার বাংলাদেশি যুবক এখন মাল্টার কারগারে বন্দি

তবে বন্দি এসব বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে সেখানে কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন-আয়েবার নেতারা। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মাল্টায় প্রবেশ করায় ১৬৫ বাংলাদেশি দীর্ঘ ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে বন্দি আছে ডিটেনশন সেন্টারে। তাদের মুক্ত করতে মাল্টা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন আয়েবার নেতারা।

সংগঠনের মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাল্টা যান। দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। মাল্টা সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব কেভিন মাহোনে, নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তা রায়ান এসপানিয়ল, ডিটেনশন সেন্টারের মহাপরিচালক রবার্ট ব্রিংকাউ। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ।

সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশিরভাগই দালালের মাধ্যমে লিবিয়া কিংবা তিউনিশিয়ায় যান। সেখান থেকে বোটে রওনা হয়ে গ্রিস অথবা ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কোনও কারণে যদি তাদের বোট ডুবে যায় কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হয়, তখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্ধার করে ইতালির দক্ষিণে অবস্থিত মাল্টা দ্বীপে এনে রেখে দেয়। সেখানে তারা রাজনৈতিক বা মানবিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন।

কাজী এনায়েত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখানে কয়েকটি বিষয় আছে। যারা এখানে এসে পৌঁছায়, তারা একধরনের ট্রমার মধ্যে থাকেন। আধামৃত অবস্থায়, দিনের পর দিন অভুক্ত অবস্থায় থাকেন। তাদের সেখানে নিরাপত্তাবাহিনী জেরা করে, পরিচয় যাচাই করে। সেগুলো করার পরে যখন আবেদনে স্বাক্ষর করতে বলে তখন তারা করে দেয়। কিসের মধ্যে স্বাক্ষর করছে তা তারা বুঝতে পারে না। কারণ এভাবে যারা এখানে আসেন, তাদের বেশিরভাগই মূলত কম শিক্ষিত এবং ভাষা জানেন না। যার ফলে নিরাপত্তাবাহিনী যেভাবে যা করতে বলে তাই করেন। এমনকি তারা যেভাবে বলেন সেভাবেই স্বাক্ষর করিয়ে নেন কাগজে। সমস্যা হচ্ছে– এখানে বাংলা অনুবাদকও কেউ নেই, আফ্রিকান অনুবাদক তাদের পড়ে শোনান। এসব নানা সমস্যায় পড়ে তারা এখনও জেলে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে আয়েবা নেতারা

সম্প্রতি মাল্টার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমরা তাদের বিষয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলাপ করেছি। এখানের নিয়মানুযায়ী ১৮ মাস ডিটেনশন সেন্টারে তারা রাখতে পারে, এরপর ছেড়ে দিতে হয়। মাল্টা সরকার তাদের বিষয়ে গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানায়, কর্মকর্তারা তারপর আসেন এখানে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা এসে বাংলাদেশিদের আউটপাস দেন। মাল্টা সরকার তাদের দেশে ফেরত পাঠায় দেয়। ১৮ মাস থাকলে এমনিতেই মুক্তি দিয়ে দেয় মাল্টা সরকার। আরেকটা উপায় হচ্ছে কোর্টে মামলা করলে, সেক্ষেত্রে মামলা দায়েরের জন্য ২৫০ ইউরো এবং জামিনের জন্য ২ হাজার ইউরো দিতে হয়। তারপর বের হতে পারবেন। কিন্তু সেদেশে কাজ করতে পারবেন না। আমাদের বৈঠকে আলাপ হয়েছে এদের বিষয়ে এবং বৈধ পদ্ধতিতে কীভাবে সেদেশে কর্মী নেওয়া যায় সেটা নিয়ে।

এনায়েত উল্লাহ জানান, বাংলাদেশ থেকে মানুষ যেতে পারে মাল্টায়, কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সি আছে তারা নিয়ে আসে। বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজে তাদের নিয়োজিত করা হয়। অনেকেই ভিসা নিয়ে আসেন, কিন্তু পরে মাল্টায় থাকেন না। তারা ইউরোপের অন্য দেশে চলে যান। যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ওপর চাপ দিয়েছে। এ কারণে মাল্টায় কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিক এখানে আছেই ৭০০-৮০০ জন। তার মধ্যে জেলে আছে ১৬৫ জন।

তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ মানবিক উদ্দেশ্যে তাদের পরিবারের আকুতির ভিত্তিতে এই কাজটা করছি। আমরা মাল্টা সরকারকে সমস্যার কথা জানিয়েছি এবং বলেছি যেভাবে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে তা যৌক্তিক নয়। আমি জানি এখানে প্রসেকিউশন কোর্টে আপিল করলে তারা মুক্তি পাবে। এজন্য প্রক্রিয়া অনুসরন করছি। আমরা সেদেশের সরকারকে বলেছি- সহজ উপায়ে তাদের মুক্তি না হলে আমরা কোর্টের মাধ্যমে তাদের মুক্তি করাবো। আমরা যার সঙ্গে মিটিং করেছি উনি আমাদের অনুরোধ করেছেন মাল্টায় একটা শাখা করতে আমাদের সংগঠনের এবং তারা বৈধভাবে কর্মী আনার বিষয়ে বলেছে আমাদের। এই লোকগুলোকে মুক্ত করায়ে আমাদের পরের প্ল্যান হচ্ছে এই লোকগুলোকে কাজের কথা বলে মানবপাচারের মতো কাজ করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থায় যাবো।

মাল্টায় টেকসই বাংলাদেশি কমিউনিটি তৈরি করে দিতে প্রতিনিধি দলের প্রতি দেশটির সরকার আহ্বান জানিয়েছে বলেও জানান এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা অবৈধভাবে অভিবাসনকে নিরুৎসাহিত করি। কিন্তু যেই লোকগুলো এসে এখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে তাদের এখানেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমাদের সংগঠন ইউরোপে গেল ১০ বছর ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

/ইউএস/

সম্পর্কিত

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৪ সেপ্টেম্বর

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৪ সেপ্টেম্বর

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

ঢাকা-আঙ্কারা পর্যটন বাড়ানো আহ্বান

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:০৬

পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ ও বোঝা-পড়াকে শক্তিশালী করা গেলে তা ধাপে ধাপে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষাসহ অন্যান্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে তুর্কি ট্রাভেলার্স ক্লাবের সাথে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ: কোভিড-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় এক উদীয়মান পর্যটন গন্তব্য’ শীর্ষক একটি গোল-টেবিল বৈঠকে বক্তারা একথা বলেন।

ইস্তাম্বুলস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

কনস্যুলেট থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কোভিড-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় যে খাতগুলো দ্রুততার সাথে ঘুরে দাঁড়াবে এবং অর্থনীতিতে কার্যকরী অবদান রাখবে এর মধ্যে পর্যটন খাত অন্যতম।

তুর্কি ট্রাভেলার্স ক্লাবের সদস্যরা বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর পাশাপাশি এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন ।

তারা বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করার জন্য কনস্যুলেটকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উপস্থিত অতিথিদের তুর্কি ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ বাংলাদেশের পর্যটন সম্পর্কিত তথ্যসহায়িকা ও লিফলেট প্রদান করা হয়।

/এসএসজেড/এমএস/

সম্পর্কিত

ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ক: ‘রিব্যালান্সিং করতে গিয়ে অফ-ব্যালান্সিং যেন না হয়’

ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ক: ‘রিব্যালান্সিং করতে গিয়ে অফ-ব্যালান্সিং যেন না হয়’

নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিনতে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিনতে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

সাগরপথে ইউরোপ যাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১২:৩৫

মহামারির মাঝেও উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে গত ২২ জুলাই প্রাণ গেলো ১৭ অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশির। নৌকায় করে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে মারা যান তারা। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন দেশের আরও ৩৮০ অভিবাসন প্রত্যাশীকে।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার এমন ঘটনা চলতি মাসেই বেশ কয়েকটি। আর যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই বেশি। এর আগে গত ২৪ জুন ২৬৭ জনকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। যাদের ২৬৪ জনই ছিল বাংলাদেশি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের তালিকায় শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। ২১ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রপাড়ি দিয়েছে বিভিন্ন দেশের ৪১ হাজার ৭৭৭ জন। তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার আছে বাংলাদেশি। গত ১০ জুনও ১৬৪ বাংলাদেশিকে তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় ১৮ মে ৩৬ জন, ২৭ ও ২৮ মে ২৪৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। এ বছর এভাবে মোট তিন হাজার ৩৩২ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার বা আটক করা হয়।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত নানা দেশের ২২ লাখ ২৪ হাজার ২৪৫ জন মানুষ সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসে। একই সময়ে এ পথে আসতে গিয়ে মারা গেছে ২১ হাজার ৭০৭ জন।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের তথ্য অনুযায়ী, যত জন এভাবে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেছেন তার সাড়ে ১৪ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি।

ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে এভাবে ৬০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছে।

দেশে ফিরতেই হলো
ময়মনসিংহের গফুরগাঁও উপজেলার ভরপুর গ্রামের মনজুরুল ইসলামকে কাজের কথা বলে প্রথমে আবুধাবি নেওয়া হয়। সেখান থেকে শারজাহ হয়ে  ওমানে যান তিনি। ওমানে একটি ঘরে তিনদিন থাকেন। আগে থেকেই সেখানে ৭-৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। সেখান থেকে সাগরপাড়ের আরেকটি ঘরে থাকতে হয় পাঁচদিন। সেখানে আরও ৩৫ জন বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা হয় তার। সবার গন্তব্য গ্রিস।

একদিন রাতে তাদের ২০-২২ জনকে একটি নৌকায় উঠিয়ে ইরানের বন্দর আব্বাসে নেওয়া হয়। সেখানে মুক্তিপণ হিসাবে মনজুরুলের পরিবার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর ইরান থেকে তুর্কি যান তারা। সেখান থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে। এরপর মেসেডোনিয়া, সার্বিয়া,  ক্রোয়োশিয়া, অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানি যান। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। জার্মানিতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ফিরে আসতে হয় দেশে।

তরুণরাই বেশি আগ্রহী
মূলত মহামারির কারণে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বন্ধ থাকার সুযোগ নিচ্ছে মানবপাচারকারী চক্র। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভিজিট ভিসায় দুবাই, এরপর ইরান হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়।

আটক হওয়ার পর ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুবাই ও ওমানে নতুন আসা বাংলাদেশি তরুণরাই মূলত পাচারকারীদের প্রধান টার্গেট।

সমুদ্র পাড়ি দেওয়া এসব ঘটনা পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা ইউরোপে ঢুকতে বেশি মরিয়া থাকে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, গত কয়েকবছরে ইউরোপ ও লিবিয়া থেকে ফেরত আসা ২ হাজার ২৮৪ জনের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ঢাকা, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা- এসব জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি লোক এভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। একেকজন খরচ করেছেন তিন থেকে ১৫ লাখ টাকা।

ইউরোপ যাওয়ার ১৮ রুট
বাংলাদেশ থেকে ১৮টি রুট ব্যবহার করে মানবপাচারের চেষ্টা চলে ইউরোপে। বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছে ভূমধ্যসাগর। যা সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুট হিসেবে পরিচিত। সেখানে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু হয় মূলত লিবিয়া থেকে।

এ বছরে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইতালিতে অনুপ্রবেশকারীদের ৬১ শতাংশই লিবিয়া থেকে এসেছে। সেখান থেকে ইতালি ও মাল্টায় অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল বাংলাদেশিরাই। গত কয়েকবছরে বলকান রুট দিয়েও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বাংলাদেশি প্রবেশ করেছে। এভাবে প্রবেশ করতে গিয়ে বসনিয়ার জঙ্গলে এখনও শতাধিক বাংলাদেশি আটক আছেন।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত আছে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, আফগান ও ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকারী দালালচক্র। তারা শুরুতে কাউকে টাকা ছাড়াই, কাউকে ৪০-৫০ হাজার আবার কাউকে ২-৩ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়। যারা কম টাকা দিতে চায় তাদের শর্ত দেওয়া হয় পৌঁছানোর পর বাকি ২-৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এই দালালদের কাছে থাকে অত্যাধুনিক অস্ত্র। জঙ্গল, শহর ও গ্রামে তাদের বাসাও আছে। যেখানে তারা বিভিন্ন গ্রুপে অভিবাসী প্রত্যাশীদের আটকে রাখে। সেখানে থেকে ছাড়া পেতে আটক ব্যক্তির স্বজনদের কাছে চাওয়া হয় মুক্তিপণ। টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ মরুভূমিতে পুঁতে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

পাচারের প্রচার হয় টিকটক-ফেসবুকে
মানবপাচারের অন্যতম প্রচার মাধ্যম এখন টিকটক, লাইকি, হোয়াটস অ্যাপ। এমনকি ফেসবুক ব্যবহার করেও পাচারের ঘটনা ঘটছে। লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকে পাচারকারীদের ভাষায় বলা হয় ‘গেম’। এই ‘গেম’ এর খবর ফেসবুকে আসে বিভিন্ন গ্রুপে। ‘গেম’ হোক আর না হোক, ছবি পোস্ট করে প্রলুব্ধ করা হয়। লোভে পড়ে পা বাড়ায় আগ্রহীরা। বড় জাহাজের কথা বলা হলেও ওঠানো হয় নৌকা কিংবা রাবারের তৈরি উদ্ধারকারী বোটে। শুরু হয় অনিশ্চিত এক যাত্রা।

সম্প্রতি টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কিশোরীদের ভারতে পাচারের ঘটনা উঠে এসেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নারী ও শিশু পাচার নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ একটি গবেষণা করেছে। তাতে দেখা গেছে, পাচারকারীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা পরিবারের শিশু-কিশোরীদের পাচারের জন্য টার্গেট করে।

এ গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারতে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে নারী ভিকটিমদের পাচারচক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর তাদের বেশিরভাগকেই জোর করে যৌন পেশায় বাধ্য করা হয়।

ভারতে পাচার হওয়া প্রায় ২ হাজার নারীকে গত ১০ বছরে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম পাচারের শিকার ৬৭৫ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ১৬ থেকে ২০ বছরের কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার। এরপরই আছে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা। তারা বেশিরভাগই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, ২০১২ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মানবপাচারের যেসব মামলা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, প্রায় ‍দুই হাজার নারী মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২০ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে উদ্ধারকৃত নারীর সংখ্যা ৩০৩ জন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার দিক থেকে প্রথম। এটি আমাদের জন্য লজ্জার। বাংলাদেশের সঙ্গে এই তালিকায় আছে সিরিয়া, আফগানিস্তান, সুদান ও ইরিত্রিয়া। দেশগুলোতে যুদ্ধ ও দারিদ্র্যপীড়িত। বাংলাদেশের অবস্থা কিন্তু এমন নয়। তারপরও শুধু অলীক স্বপ্নে আমাদের লোকজন এভাবে ইউরোপে যাচ্ছে। শ্রম অভিবাসনের নামে ভিজিট ভিসায় দুবাই যাচ্ছে লোকজন। ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে নারী ও কিশোরিরা। পাচার প্রতিরোধে আমাদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

মামলায় অনীহা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) জি এস এম জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মানবপাচার মামলার বিচার দ্রুত করা গেলে কাজ হবে। অপরাধীর বিচার নিশ্চিত হলে সাপ্লাই চেইনও বন্ধ হবে। আমরা ইমিগ্রেশনকে বলতে পারি যে ট্যুরিস্ট ভিসায় যারা যাচ্ছে তাদেরকে যেন আরও কঠোর মনিটরিংয়ে রাখা হয়।’

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানবপাচার বিষয়ক সেলের বিশেষ পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান বলেন, ভূমধ্যসাগর থেকে যারা ফেরত আসে তাদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অভিযোগ নেওয়া যায় না। অনেকসময় তাদের এলাকায় আমাদের টিম পাঠিয়ে মোটিভেশন করে মামলা নিতে হয়। তারা যে মানবপাচারের শিকার হয়েছে সেটা জানাতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় যারা ফেরত এসেছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, পাচারকারীরা ভিকটিমকে তথ্য গোপন রাখতে বলে। এগুলো নাকি প্রচার হলে তাদের ক্ষতি হবে, বিদেশ যাত্রা বন্ধ হয়ে যাবে।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

করোনাকালেও ভূমধ্যসাগর রুটে ইউরোপে প্রবেশ সাড়ে ৫ হাজার বাংলাদেশির

করোনাকালেও ভূমধ্যসাগর রুটে ইউরোপে প্রবেশ সাড়ে ৫ হাজার বাংলাদেশির

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০৯:০৭

মার্কিন বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান বব মেনেন্দেজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। এসময় সিনেটর মেনেন্দেজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি শ্রম অধিকার ও শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসির সিনেট হার্ট অফিস ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১২ বছরে বাংলাদেশে যে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা সিনেটরকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সিনেটরের সমর্থন কামনা করেন।

সিনেটর মেনেন্দেজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

উপদেষ্টা দেশে শ্রমিকের অধিকার এবং সুরক্ষা অধিকতর উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গৃহীত বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে সিনেটরকে অবহিত করেন।

রূপগঞ্জের একটি কারখানায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান ভবন সুরক্ষা এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা পরিদর্শন করার জন্য তার নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের বিষয়ে সিনেটরকে অবহিত করেন।

বৈঠকে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় শহরে চলমান বাংলাদেশ বিনিয়োগ রোডশো সম্পর্কিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।

/এসএসজেড/ইউএস/

সম্পর্কিত

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৪ সেপ্টেম্বর

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৪ সেপ্টেম্বর

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

সর্বশেষ

করোনার প্রতি লাশে ৩০০ টাকা করে নিয়েছেন হাসপাতাল কর্মকর্তা! 

ময়মনসিংহ মেডিক্যালকরোনার প্রতি লাশে ৩০০ টাকা করে নিয়েছেন হাসপাতাল কর্মকর্তা! 

প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় ১০ মিনিট সময় চাই: আতিকুল ইসলাম

প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় ১০ মিনিট সময় চাই: আতিকুল ইসলাম

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢিলেঢালা চেকপোস্ট

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢিলেঢালা চেকপোস্ট

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ব্যাপক ক্ষতি, বাঁধ ভাঙার শঙ্কা

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ব্যাপক ক্ষতি, বাঁধ ভাঙার শঙ্কা

দেশে পৌঁছেছে সিনোফার্মের ৩০ লাখ ডোজ টিকা

দেশে পৌঁছেছে সিনোফার্মের ৩০ লাখ ডোজ টিকা

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৪ সেপ্টেম্বর

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৪ সেপ্টেম্বর

লকডাউনে বন্ধ মার্কেট ও দোকানে চলছে ‘বিকল্প’ লেনদেন

লকডাউনে বন্ধ মার্কেট ও দোকানে চলছে ‘বিকল্প’ লেনদেন

গৃহবধূর সঙ্গে পুলিশ সদস্যের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, বাড়ি ঘেরাও 

গৃহবধূর সঙ্গে পুলিশ সদস্যের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, বাড়ি ঘেরাও 

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সোনা

টোকিও অলিম্পিকসাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সোনা

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

করোনায় অসহায় মানুষের পাশে মৌসুমী ও সুমি  (ভিডিও)

করোনায় অসহায় মানুষের পাশে মৌসুমী ও সুমি  (ভিডিও)

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শিল্পাঞ্চলে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কা

শিল্পাঞ্চলে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কা

জঙ্গিদের সুপথে ফেরানোর কার্যক্রম কেমন চলছে?

জঙ্গিদের সুপথে ফেরানোর কার্যক্রম কেমন চলছে?

আটকে গেলো বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী জামিন

আটকে গেলো বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী জামিন

‘এয়ারপোর্ট থেকে’ ফোন: পার্সেলের কথা শুনে টাকা খোয়াবেন না

‘এয়ারপোর্ট থেকে’ ফোন: পার্সেলের কথা শুনে টাকা খোয়াবেন না

সাংবাদিক রোজিনা আজই মুক্তি পেতে পারেন

সাংবাদিক রোজিনা আজই মুক্তি পেতে পারেন

রোজিনাকে নিয়ে ফায়দা লুটতে চায় দেশবিরোধীরা: তথ্যমন্ত্রী

রোজিনাকে নিয়ে ফায়দা লুটতে চায় দেশবিরোধীরা: তথ্যমন্ত্রী

রোজিনার গ্রেফতারে জাতিসংঘের উদ্বেগ

রোজিনার গ্রেফতারে জাতিসংঘের উদ্বেগ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করেছেন সাংবাদিকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করেছেন সাংবাদিকরা

সাবেক ডিসি সুলতানাসহ তিন ম্যাজিস্ট্রেটকে বরখাস্তের জন্য আইনি নোটিশ

সাবেক ডিসি সুলতানাসহ তিন ম্যাজিস্ট্রেটকে বরখাস্তের জন্য আইনি নোটিশ

খালেদা জিয়ার বিষয়ে যা মতামত দিলো আইন মন্ত্রণালয়

খালেদা জিয়ার বিষয়ে যা মতামত দিলো আইন মন্ত্রণালয়

© 2021 Bangla Tribune