সেকশনস

বাজারে আসছে আমদানি করা চাল

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:১৯

চাল

বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে আমদানি করা ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও এক লাখ টন চাল একই পদ্ধতিতে ভারত থেকে দেশে এসে পৌঁছাবে। প্রয়োজনে ভারতের বাইরেও অন্য দেশ থেকে চাল আমদানি করে সরকারি মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। আর এসব আমদানিকৃত চাল সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবহার করে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো হবে। এতে চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে চালের দাম কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

সূত্র জানিয়েছে, গত বেশ কিছুদিন ধরেই চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। যে মৌসুমে মাঠের ধান কৃষকের গোলায় উঠছে, সে সময়ে বাজারে চালের এই মূল্য বৃদ্ধি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গতানুগতিক আদেশ-নির্দেশের পরেও চালের বাজারে কোনও পরিবর্তন আসেনি, কমেনি চালের দাম, উল্টো আরও বেড়েছে। চালের সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম কমানোর বিষয়ে মিলারদের প্রতি বিভিন্ন হুমকি-ধামকি, আদেশ-নির্দেশ, অনুরোধ করলেও তাতে তারা কর্ণপাত করেনি। 

নানা জটিলতা কাটিয়েও এ বছর আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করলেও এ তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, এ বছর বন্যায় পানিতে ভেসে আসা পলির কারণে ধানের গাছ উর্বর হয়েছে। মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহে ছেয়ে ছিল ঠিকই, কিন্তু উৎপাদন কম হয়েছে। প্রতি একরে ৪০ মণ ধান হওয়ার কথা থাকলেও এ বছর ২৫ থেকে ২৬ মণের বেশি কোথাও ধান উৎপাদন হয়নি। তাই আসলে ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। এ কারণেই চাহিদা অনুযায়ী বাজারে ধানের সরবরাহ হচ্ছে না। এতে ধানের দাম অতীতের অনেক বছরের তুলনায় বেশি। শনিবারও (১৯ ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হয়েছে ১২শ ২০ টাকা দরে। ধানের দাম বেশি হলে চালের দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। 

এদিকে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। দেশের সর্বত্র সরকারের (খোলা বাজারে বিক্রি) ওএমএস কার্যক্রম না চললেও যেসব জেলায় চলছে সেসব জেলায় তা চালানোসহ আরও কিছু কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেওয়া হবে চাল। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) আবারও পরিবর্তন করে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) করারও পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বাজারে সরকারের আমদানি করা চালের সরবরাহ ব্যাপকহারে বাড়বে। যা দাম কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সময়ে বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। গত যে কোনও সময়ের তুলনায় এই সময়ে মোটা চালের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এবার সমানতালে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। ফলে নিম্নআয়ের মানুষকে পড়তে হয়েছে কিছুটা বিপাকে। করোনাপরবর্তী সময়ে অনেকেরই আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে। অনেকেই হয়েছেন বেকার। কারও কারও আয় কমেছে অর্ধেকের বেশি। এমন পরিস্থিতিতে অপ্রত্যাশিতভাবে চালের এই মূল্য বৃদ্ধি জীবনযাত্রা পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে। এদের বেশির ভাগই নিম্নমধ্য আয়ের মানুষ। 

বাজার ঘুরে জানা গেছে, ৫০ কেজি ওজনের উন্নতমানের মিনিকেটের বস্তা এখন ৩১৫০ থেকে ৩২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে কমপক্ষে ১০০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। তবে চালের বাজার দেখভাল করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়াও সরকারি পর্যায়ে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানি হচ্ছে। এসব চাল বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বাজারে চালের সংকট কৃত্রিম। অধিক মুনাফার আশায় তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে ধানের দাম বেড়েছে। তবে এ দাম আর বাড়বে না বলেও জানিয়েছেন তারা। 

চালের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিল মালিকদের দায়ী করছেন। অপরদিকে মিল-মালিকরা বলছেন, ধানের দাম বেশি হলে চালের দাম কম হবে কীভাবে? ১২শ টাকা মণ দরে ধান কিনলে চালের বাজার তো চড়বেই। তারা বলছেন, আরও বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেকেই ধান বিক্রি করছেন না। এতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্যানুযায়ী, গত এক দশকে (২০১০-১১ অর্থবছর) প্রতি কেজি (মাঝারি মানের) চালের গড় দাম ছিল ৪১ টাকা, যা বর্তমান বাজারে ৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে । গত অর্থবছরও (২০১৯-২০) প্রতি কেজি চালের গড় দাম ছিল ৫৬ টাকা। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক দশকের মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের আগ পর্যন্ত চালের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৪৬ টাকা। এরপর হঠাৎ করেই পরের বছর চালের দাম ৫৩ টাকায় ওঠে। পরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দাম এক টাকা কমেছিল। কিন্তু এরপর আবার চালের দাম লাগাম ছাড়া হয়। তথ্য বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর পরবর্তী বছরগুলোতে চালের দাম ছিল যথাক্রমে ৫৩ টাকা, ৫৫ টাকা, ৫৭ টাকা ও ৫৬ টাকা। 

এদিকে কৃষি অধিদফতরের তথ্য মতে এক দশক আগেও দেশে চালের উৎপাদন ছিল তিন কোটি ৩৫ লাখ টন, যা এখন (২০১৯-২০ অর্থবছর) তিন কোটি ৮৭ লাখ টনে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পরে প্রতি বছর চালের উৎপাদন প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টন করে বেড়েছে। 

এ বিষয়ে চালকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী জানিয়েছেন, ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। তবে এর বেশি আর বাড়বে না। তিনি বলেন, বাজারে চালের সরবরাহ বাড়াতে পারলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। এ দায়িত্বটি সরকারকে পালন করতে হবে। লায়েক আলী জানান, আসলে এ বছর ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। একর প্রতি ৪০ মণের স্থলে এ বছর প্রতি একরে ২৬ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। এখানে ধানের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এটি বাস্তবতা। 

বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, এখনও কোনও কৃত্রিম সংকট নেই। ধানের দাম বেশি হওয়ার কারণেই চালের দাম বেড়েছে। বাজারে কেউ সংকট তৈরি করেনি। তবে কৃষকদের মধ্যে অনেকেই আরও বেশি দাম পাওয়ার আশায় উৎপাদিত ধান গোলায় ভরে রেখেছেন। তিনিও বলেছেন, তবে এ দাম আর বাড়বে না। এক সময় এসব ধান বাজারে চলে এলে বাজার স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও জানান, দেশের কোথাও ১২শ টাকার কমে ধান পাওয়া যাচ্ছে না। 

চালের বাজার আগামীতে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম উভয়েই বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। এরা কেউই কোনও মন্তব্য করেননি। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তাহমিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্প্রতি চালের বাজারদর বিষয়ে শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ কিছু দফতরের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চালের দাম সহনশীল পর্যায়ে রাখতে নানামুখী সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমদানি করা চাল ভারত থেকে চলে এলে চালের দাম কমে যাবে। ইতোমধ্যেই প্রথম পর্যায়ে ৫০ হাজার টন চাল এসেছে। আরও আসবে।

 

/এমআর/এমএমজে/

সম্পর্কিত

দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী সংবাদ পাঠক তাসনুভা

দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী সংবাদ পাঠক তাসনুভা

জুনের মধ্যে সরবে বিমানবন্দরের পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ

জুনের মধ্যে সরবে বিমানবন্দরের পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ

বেড়েই চলেছে চালের দাম

বেড়েই চলেছে চালের দাম

দেড় মাস পর শেয়ার বাজারে স্বস্তি

দেড় মাস পর শেয়ার বাজারে স্বস্তি

জীবনের বাকি সময়ও সৎভাবেই চলতে চান কাউছ মিয়া

জীবনের বাকি সময়ও সৎভাবেই চলতে চান কাউছ মিয়া

নতুন শনাক্ত বাড়ছেই

নতুন শনাক্ত বাড়ছেই

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: কাদের

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: কাদের

সাংবাদিকের বেশ ধরে হুজিবি'র সাংগঠনিক কাজ করতেন তিনি

সাংবাদিকের বেশ ধরে হুজিবি'র সাংগঠনিক কাজ করতেন তিনি

সর্বশেষ

জাতিসংঘের সব দাফতরিক ভাষায় ৭ মার্চের ভাষণ বিষয়ক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

জাতিসংঘের সব দাফতরিক ভাষায় ৭ মার্চের ভাষণ বিষয়ক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

সৌর ব্যতিচারের কারণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটতে পারে

সৌর ব্যতিচারের কারণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটতে পারে

মির্জাগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মির্জাগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নির্বাচিত হাংরি গল্প

নির্বাচিত হাংরি গল্প

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১১ কোটি ৬৪ লাখ ছাড়িয়েছে

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১১ কোটি ৬৪ লাখ ছাড়িয়েছে

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক

ডাকঘরের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে যাবে ই-কমার্স

ডাকঘরের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে যাবে ই-কমার্স

বার্নিকাটের গড়িবহরে হামলা: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

বার্নিকাটের গড়িবহরে হামলা: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বেড়েই চলেছে চালের দাম

বেড়েই চলেছে চালের দাম

দেড় মাস পর শেয়ার বাজারে স্বস্তি

দেড় মাস পর শেয়ার বাজারে স্বস্তি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা প্রত্যাহার চেয়ে  ‘সিটিও ফোরাম’ সভাপতির চিঠি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা প্রত্যাহার চেয়ে  ‘সিটিও ফোরাম’ সভাপতির চিঠি

ক্ষতিপূরণ চান সোলার মিনিগ্রিডের উদ্যোক্তারা

ক্ষতিপূরণ চান সোলার মিনিগ্রিডের উদ্যোক্তারা

আরও ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চান গার্মেন্টস মালিকরা

আরও ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চান গার্মেন্টস মালিকরা


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.