X
মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

গত বছর দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১১ শতাংশ

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ১৯:০৪

২০২০ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে ১১ শতাংশ। সোমবার (২১ জুন) বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের সর্বশেষ বিশ্ব বিনিয়োগ রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতবছর সারা বিশ্বে এফডিআই কমেছে আগের বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ। গত বছর এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল এক ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে যা ছিল দেড় ট্রিলিয়ন ডলার। যা ২০০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকটে যে অবস্থা হয়েছিল, তার চেয়েও ২০ শতাংশ কম।

গত বছর দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ভারত ছাড়া সব দেশের এফডিআই কমেছে।

আঙ্কটাডের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ২০২০ সালে বিনিয়োগ এসেছে ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে এফডিআই এসেছিল ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে এফডিআই এসেছিল ৩৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশে ২০২০ সাল শেষে মোট বিদেশি বিনিয়োগের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ডলার, যা এর আগের বছর শেষে ছিল ১ হাজার ৭৭৮ কোটি ডলার।

আঙ্কটাড মনে করছে, এফডিআই প্রবাহ আগের অবস্থায় আসতে সময় লাগবে। কারণ, বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এখনো দুর্বল। তৈরি পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহ কম বলে মনে করছে আঙ্কটাড। উল্লেখ্য ২০২০ সালে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ বাতিল হয়েছে বাংলাদেশের।

অবশ্য চীন ও হংকংয়ের কারণে সার্বিকভাবে এশিয়াতে বিনিয়োগ আগের বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বেড়েছে ২০ শতাংশ। ভারতে এফডিআই বেড়েছে ২৭ শতাংশ।

/জিএম/এমআর/

সম্পর্কিত

লক্ষ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন দোকান মালিকরা!

লক্ষ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন দোকান মালিকরা!

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

লক্ষ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন দোকান মালিকরা!

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯:৫৩

রাজধানীসহ সারাদেশে ছোটবড় অন্তত ৬০ লাখ দোকান রয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেন করছেন তারা। এদের প্রায় ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সারাবছর ভালো বেচাকেনা করেও দিচ্ছে না কোনও ভ্যাট। এমন প্রতিষ্ঠানও আছে যাদের প্রতিদিন লাখ টাকার বেশি বেচাকেনা হচ্ছে, কিন্তু ভ্যাট নিবন্ধন নেই।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) কয়েক বছর আগের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ছোটবড় দোকান আছে ৫৬ লাখের বেশি। গত চার-পাঁচ বছরে কী পরিমাণ দোকান বেড়েছে তার প্রকৃত পরিসংখ্যান নেই। তবে দোকান মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, মহানগরগুলোতে অন্তত দুই কোটি পরিবার এখন দোকানের ওপর নির্ভরশীল। সেই হিসাবে দোকান মালিক আছেন ৭০ লাখেরও বেশি।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘শহরের সব দোকান মালিকদের যদি ভ্যাট নিবন্ধন নিশ্চিত করে ইলেকট্রনিক ফিসকেল ডিভাইস (ইএফডি) দেওয়া হতো, তবে সরকার অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব বেশি পাবে। ইউনিয়ন বা গ্রামপর্যায়ে মেশিন দেওয়া সম্ভব হলে বছরে এর দ্বিগুণ ভ্যাট আদায় করা সম্ভব হতো।’

তার মতে, ‘কোনও দোকান মালিক চুলচেরা ভ্যাট দিচ্ছে না। এমনকি রিটার্নও জমা দিচ্ছে না অনেকে। আগে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় সরকার তাদের কাছ থেকে কিছু রাজস্ব পেতো। এখন সেটাও পাচ্ছে না।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দাদের এক জরিপে দেখা গেছে, যারা দিনে লাখ টাকার বেশি লেনদেন করছে তাদের প্রতি পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটিরই বিআইএন বা ভ্যাট নিবন্ধন নেই। ২৪ থেকে ৩১ মে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর নামকরা ১৭টি বিপণিবিতানে এ জরিপ চালায় ভ্যাট গোয়েন্দাদের চারটি দল।

এনবিআর সূত্র জানায়, দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মাত্র আট লাখ। এদের মধ্যে অনলাইনে নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে ৯৬ হাজার প্রতিষ্ঠান। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করে ২০-২২ হাজার প্রতিষ্ঠান। সে্ই হিসাবে প্রায় ৫৯-৬০ লাখ দোকান মালিক বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, যাদের বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকার কম, তাদের ভ্যাট দিতে হবে না। অর্থাৎ গড়ে দিনে ১৪ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হলেই ভ্যাট দিতে হবে।

মূলত ভ্যাট যোগ করেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। ক্রেতা পণ্য কিনতে গিয়ে নিজের অজান্তে ভ্যাটও পরিশোধ করেন। কিন্তু সরকারি কোষাগারে তা জমা না দিয়ে ব্যবসায়ীরা ঢোকান নিজের পকেটে।

জানা গেছে, রাজধানী ছাড়াও অন্যান্য বিভাগীয় শহর, জেলা, ও উপজেলা শহরের প্রায় শতভাগ দোকানে দিনে গড়ে লেনদেন হয় ২০ হাজার টাকার বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রধান শহরগুলোর অধিকাংশ দোকানে দিনে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকার উপরেও লেনদেন হয়। অথচ সরকার এ খাত থেকে রাজস্ব পাচ্ছে না। জানা গেছে, দিনে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা লেনদেন হয় এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও আছে কয়েক হাজার। তারাও ভ্যাট দেয় না।

 

কত টাকার রাজস্ব পাওয়া সম্ভব?

প্রত্যেক ব্যবসায়ী (৭০ লাখ) যদি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টাকা ভ্যাট দেয় তা হলে দোকান মালিকদের কাছ থেকে মাসে দশ হাজার পাঁচ শ’ টাকা পাবে সরকার। বছরে পাবে এক লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। আর বড় বড় দোকানির বড় ভ্যাট মিলিয়ে নিলে সংখ্যাটা দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনও মনে করেন দোকান মালিকদের একটি বড় অংশ সরকারকে ভ্যাট দেয় না। তিনি বলেন, ‘দোকানিরা ভ্যাট নিবন্ধন নিতে চায়। হিসাব-নিকাশ রাখার জন্য ইএফডি দেওয়া হলে সবাই ভ্যাট দেবো। তখন ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।’

রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. আবদুল মান্নান শিকদার বলেন, ‘ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে ২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের নিজখরচে ইসিআর স্থাপন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তা মানেনি। তাই এনবিআর থেকেই ইএফডি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভ্যাট আইনের আওতায়ই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইএফডি দেওয়া হচ্ছে। আইনের কারণেই তারা মেশিন রাখতে বাধ্য।’

আইন অমান্য করে বা জোর করে কাউকে এই মেশিন দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

 

ফাঁকি দিচ্ছে প্রত্যেকেই

এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এক জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নামে ভ্যাট নিবন্ধন নেই।

গত মে’র শেষের দিকে ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে ১০২৪টি দোকানে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, মাত্র ১২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন আছে। সেসব ব্যবসায়ীর দেওয়া ভ্যাটও বাস্তবতার সঙ্গে ‘সঙ্গতিপূর্ণ নয়’। অর্থাৎ প্রায় শতভাগ দোকান মালিক কোনও না কোনোভাবে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েই যাচ্ছেন। জরিপসূত্রে জানা গেছে, প্রসিদ্ধ এলাকা বলেই ১২ শতাংশ নিবন্ধন পাওয়া গেছে, সারা দেশ বিবেচনায় আনলে এ শতাংশ অনেক নিচে নেমে আসবে।

প্রসঙ্গত, মে মাসে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতরের তিনটি দলের ৪২ জন গোয়েন্দা আটটি মার্কেটে আরেকটি জরিপ চালিয়েছিলেন। তাতে দেখা গেছে, বিপণিবিতানগুলোর ২ হাজার ১৩৩টি দোকানের মধ্যে ১ হাজার ৬৫১টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া ১০ বছরেরও বেশি সময় ব্যবসা করছেন। 

জরিপে মাত্র ৪৫টি দোকান পাওয়া গেছে যারা কিনা মাসে পাঁচ হাজার টাকার বেশি ভ্যাট দিচ্ছে। ৭৫টি দোকান পাওয়া গেছে যারা এর কম ভ্যাট দেয়। তথাপি ওই ভ্যাটের অঙ্ক তাদের দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ এবং মুনাফার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

এ প্রসঙ্গে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারকে ভ্যাট দেওয়ার ক্ষেত্রে দোকান মালিকদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের অনীহা বেশি।’

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে পরোক্ষ কর ভ্যাট ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়। রাজস্ব আদায়ের এই পদ্ধতি বাতিলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলেও তৎকালীন সরকার রাজস্ব আদায় বাড়াতে এই পদ্ধতি কঠোরভাবে প্রণয়ন করে।

মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকাতেই বড় বড় দোকান ব্যবসায়ী আছেন ৬ থেকে ৭ লাখ। যাদের অধিকাংশেরই দিনে লেনদেন লাখ টাকার বেশি।

খুলনায় আছে দুই লাখের মতো বড় দোকান মালিক। দিনে লাখ টাকার কাছাকাছি লেনদেন হয় তাদের। একইভাবে রাজশাহীতে এক লাখ, চট্টগ্রামে চার লাখ। এ ছাড়া জেলা শহরগুলোতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার দোকান ব্যবসায়ী আছেন। কোনও উপজেলায় দোকান ব্যবসায়ী রয়েছেন এক হাজার থেকে ১০ হাজার।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরের সারা দেশ থেকে ৯৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় হয়েছে। এই টাকার অর্ধেক দিয়েছে দেশের ১১০টি বড় কোম্পানি। আগেরবার সব মিলিয়ে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৮৪ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে আগেরবারের চেয়ে ৯ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে।

 

/এফএ/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:০০

কারখানা খোলার জন্য সরকারকে দেওয়া কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা। সরকারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেই কারখানা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সরকারের সব উদ্যোগকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে পানিতে। ২৩ জুলাই শুরু হওয়া ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন এখন সাধারণ মানুষের কাছে হাসি তামাশায় পরিণত হয়েছে। আর এর জন্য প্রতিনিয়তই সরকারকে নানামুখী সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সরকারের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা নিয়েও।

চলতি বছরের শুরুর দিকে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করার পর যখনই সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তখনই বাগড়া দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে গার্মেন্টস মালিকরা। বারবারই তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়ার কথা বলছেন। তাদের দাবি, অর্ডার অনুযায়ী পণ্য শিপমেন্ট করতে না পারলে অর্থনীতি হারিয়ে যাবে।

সেই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রবিবার (৩০ জুলাই) ১৪ দিনের লকডাউনের ৯ম দিনে এসে ১ আগস্ট থেকে গার্মেন্টসসহ শিল্প কারখানা খুলে দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কারখানা খুলে দেওয়ার আবেদন নিয়ে বারবার সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর আবেদন নিয়ে গেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে। দু-দফা আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট আরও চারটি সংগঠন ছিল। তারা বারবারই সরকারকে বোঝাতে চেয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালানো হবে।

শ্রমিকরা বলছে, কারখানার আশেপাশের শ্রমিকদের দিয়েই কারখানা চালানোর কথা বলে অনুমোদন নিয়ে নিলেও ১ আগস্ট সকালে কাজে যোগ দিতে ফোন করা হয় তাদের। রবিবার সকালে কাজে যোগ দিতে না পারলে তাদের আর কারখানায় আসতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে। দায়িত্বশীলরাই এ ফোনগুলো করেছেন বলে একাধিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গার্মেন্টস কর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক বেলায়েত হোসেন জানান, শ্রমিকরা চাকরি বাঁচাতে মাইলের পর মাইল হেঁটে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছেন অথচ কেউ এদের পরিশ্রান্ত মুখটা দেখছেন না। ঈদের একদিন আগ পর্যন্ত লেগেছিল ২৩ জুলাই শুরু হওয়া লকডাউনে কারখানা খোলা থাকবে কী থাকবে না— এই  সিদ্ধান্ত নিতে। সরকার সিদ্ধান্ত নিলো ৫ তারিখ পর্যন্ত কল-কারখানা বন্ধ থাকবে। আমরা শ্রমিকরা বাড়ি গেলাম। হঠাৎ করে আমাদের ফোন করে জানানো হলো ১ তারিখ থেকে কারখানা খুলবে। এর আগেই কারখানার গেটে পৌঁছাতে হবে, না পারলে আর কারখানায় আসা লাগবে না। আমরা বাধ্য হয়ে পেটের তাগিদে কর্মক্ষেত্রে এলাম। কিন্তু পরিবহন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা কিভাবে ফিরবে সেটা কেউই ভাবেননি।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, কারখানা মালিকরা কোনও শ্রমিককে কাজে যোগ দিতে ঢাকায় আসতে বলেনি।  শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কারখানার আশপাশের শ্রমিকদের নিয়েই প্রথমে কারখানা চালু করবেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়া শ্রমিকরা ৫ আগস্টের পর কাজে যোগ দেবেন। এতে কেউ চাকরিচ্যুত হবেন না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। মন্ত্রী বলেন, একদিনের মধ্যে শ্রমিকদের ফিরে আসার নির্দেশনায় ফেরিঘাটগুলোতে রীতিমতো ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

 

/ইউআই/এমআর/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

লক্ষ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন দোকান মালিকরা!

লক্ষ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন দোকান মালিকরা!

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০০:৩৬

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে এলপিজির দাম। এখন সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। সর্বশেষ জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম টন প্রতি ১০০ ডলার বেড়ে ৬২০ ডলারে ঠেকেছে৷ আন্তর্জাতিক বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি আগে কখনও দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, সৌদি সিপি (কনট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী দেশে এলপিজির দাম নির্ধারিত হয়। এলপিজি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম উপজাত প্রোপেন ও বিউটেনের সংমিশ্রণ। এটি ১০-১৫ বার চাপ দিয়ে তরল গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। সাধারণ তাপমাত্রায় এটি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের হিসাবে এভাবে দরের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় নি। তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে সৌদি সিপির প্রাইস লিস্টে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম সর্বোচ্চ ৬৫৫ ডলারে ঠেকে। তবে এই দাম পরের মাসগুলোতে সাড়ে ৪০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। এছাড়া এইভাবে এর আগে কখনো দাম ৬০০ ডলার অতিক্রম করেনি। এবারই পর পর মাস টন প্রতি ১০০ ডলার করে বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০১৮ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে ভিন্নতা রয়েছে বর্তমানের। তখন বিশ্ব স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও এখন করোনার কারণে অস্বাভাবিক অবস্থায় আছে। সঙ্গত কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকার কথা। তেলের দামের ওপর নির্ভর করে সব পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। তাই এলপিজির দাম কম থাকার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার মধ্যে বিশ্বের বহু দেশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করায় জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। এতে করে অন্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিতে দামও বেড়েছে।

গত জুন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম ছিল যথাক্রমে টন প্রতি ৫২৫ ডলার এবং ৫৩০ ডলার। কিন্তু জুলাই মাসে তা বেড়ে দুটোরই হয়েছে ৬২০ ডলার করে। অর্থাৎ ১০০ ডলার করে বেড়েছে টন প্রতি। এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই দাম ছিল ৫৫০ ও ৫৩০ ডলার।

সৌদি সিপির প্রাইস লিস্টে দেখা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম যথাক্রমে টন প্রতি ছিল ৫৬৫ ডলার ও ৫৯০ ডলার। একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৫০৫ ডলার ও ৫৪৫ ডলার, মার্চে ৪৩০ ও ৪৮০, এপ্রিলে এসে আরও কমে ২৩০ ও ২৪০ ডলার হয়৷  মে মাসে আবার দুটোই বেড়ে ৩৪০ করে হয়, এরপর জুন মাসে ৩৫০ ও ৩৩০, জুলাইয়ে ৩৬০ ও ৩৪০ ডলার, আগস্টে ৩৬৫ এবং ৩৪৫ ডলারে উঠে। সেপ্টেম্বরে ৩৬৫ ও ৩৫৫, অক্টোবরে ৩৭৫ ও ৩৮০, নভেম্বরে দাম উঠে ৪৩০ ও ৪৪০ এ, ডিসেম্বরে  প্রোপেন ও বিউটেনের দাম গিয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৫০ ডলার ও ৪৬০ ডলারে।

দাম বাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশেও জুলাই ও আগস্ট মাসে এলপিজির দাম বেড়েছে। তবে তার আগের মাসে অর্থাৎ মে মাসে দাম কিছুটা কমেছিল। আগে বেসরকারি কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছামত দামে এলপিজি বিক্রি করলেও গত এপ্রিল থেকে একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে বাংলা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ( বিইআরসি)।  তারা সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই চলতি মাসের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তাতে দেখা যায়, বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজির দাম প্রতিকেজি ৭৭ টাকা ৪০ পয়সা ধরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা জুলাই মাসে ছিল ৮৯১ টাকা এবং জুন মাসে ছিল ৮৪২ টাকা।

এলপিজি বিশেষজ্ঞ ও বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহী এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়ছে, একই কারণে বাড়ছে এলপিজির দামও। এছাড়া পানামা ক্যানেলে কিছু রেস্ট্রিকশনের কারণে এলপিজির সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। এটিও একটি কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ার।

 

/এমআর/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার কৌশল খুঁজছে সরকার

বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার কৌশল খুঁজছে সরকার

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। এই  অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে  তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ মালিককেই দায়ী করা হয়েছে। এজন্যই মঙ্গলবার(৩ আগস্ট) তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে মাহমুদ মালিকের  স্ত্রী ও বিআইএফসির সাবেক পরিচালক হাফসা আলমকেও ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি। সুকুজা ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তৎকালীন দায়িত্বে ছিলেন হাফসা আলম।

জানা গেছে, হাফসা আলম ইতোমধ্যে গোপনে বিদেশে চলে গিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মাহমুদ মালিকও যে কোনও সময়ে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন।

জানা গেছে, মাহমুদ মালিক বিআইএফসিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপরই তিনি ইডকল নামের রাষ্ট্রায়ত্ত আরেকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। গত ৩১ জুলাই তার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক তার মেয়াদ আর বৃদ্ধি করেনি।

জানা গেছে, তদন্তের জন্য ইতোপূর্বেও মাহমুদ মালিক ও তার স্ত্রী হাফসা আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) ডাকা হয়েছে। কিন্তু স্ত্রী হাফসা আলম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

সুকুজা ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হাফসা আলম। বিআইএফসির শেয়ার হোল্ডার হচ্ছে সুকুজা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল।

হাফসা আলমের স্বামী মাহমুদ মালিক বিআইএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতা করেন। এজন্য ইতোপূর্বেও এক দফায় হাফসা আলমকে ডেকেছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি।

জানা গেছে, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠা বিআইএফসি-তে সংঘটিত আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশনা দেন আদালত। এরপরই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় জড়িতদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’। আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সবার দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করার দায়িত্ব পায় কমিটি।

কমিটির প্রধান করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর-৩ এ কে এম সাজেদুর রহমান খানকে। অন্য সদস্যরা হলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম ফজলুর রহমান, দুই মহাব্যবস্থাপক কবির আহমেদ ও নুরুল আমিন। সদস্য-সচিব করা হয়েছে উপ-মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার হোসেনকে।

বর্তমানে দেশে ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১০টির আর্থিক অবস্থাই বেশ নাজুক। এরমধ্যে বিআইএফসি অন্যতম।

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

চট্টগ্রামে শনি ও বুধবারও ব্যাংক খোলা

চট্টগ্রামে শনি ও বুধবারও ব্যাংক খোলা

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন অবৈধ

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন অবৈধ

রবিবার ও বুধবার  আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে

রবিবার ও বুধবার  আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে

ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১৪:২৯

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ ধনুয়া, জয়দেবপুর, সাভার, আশুলিয়া, কোনাবাড়ি, টাংগাইল, এলেংগা, নরসিংদীতে বিবিয়ানা ও জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও একেবারে গ্যাস নেই, আবার কোথাও অল্প চাপে গ্যাস পাচ্ছেন গ্রাহকরা। হঠাৎ করেই এই সংকট সৃষ্টি হওয়ায় গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিকাল নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পুরো পরিস্থিতি কখন ঠিক হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের সাথে আলাপ করেই শেভরন তাদের দুইটি গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও জালালাবাদের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করেছে। এখন আমরা বিবিয়ানা থেকে কিছু গ্যাস পাচ্ছি। বিকেলের দিকে আরও কিচ্ছুটা বাড়তে পারে বলে শেভরন আমাদের জানিয়েছে। জালালাবাদ থেকে আপাতত বন্ধ আছে। বিকালে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ যদি শেষ হয় তাহলে গ্যাস পাওয়া যাবে।

তিতাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিবিয়ানা ও জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস অধিভুক্ত ধনুয়া, জয়দেবপুর, সাভার, আশুলিয়া, কোনাবাড়ি, টাংগাইল, এলেংগা, নরসিংদী ও ঢাকা শহরের উত্তরাংশে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। গ্রাহকের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

অন্য একটি সূত্র জানায়, সাধারণত বিবিয়ানা থেকে গড়ে ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায় আর জালালাবাদ থেকে ২০০-২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিবিয়ানা থেকে এখন পাওয়া যাচ্ছে  গড়ে ১১০০ মিলিয়ন এবং জালালাবাদ থেকে এখন একেবারেই বন্ধ আছে। জালালাবাদ ঈদের সময় থেকেই রক্ষণাবেক্ষণে কাজ চলছে।

এদিকে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) পরিচালক (অপারেশন) তাজুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এখন বিবিয়ানা থেকে ১১০০ মিলিয়নের মতো আসছে। জালালাবাদ বন্ধ থাকলেও বিকাল নাগাদ চালু হওয়ার কথা। সে হিসেবে বিকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

এদিকে তিতাসের মোট গড় চাহিদা ১৭০০ মিলিয়নের মতো। এরমধ্যে ১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস পাচ্ছে তিতাস। ঘাটতি প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

/এসএনএস/এমএস/

সম্পর্কিত

এলপিজি থেকেই মগবাজারের বিস্ফোরণ: তিতাস

এলপিজি থেকেই মগবাজারের বিস্ফোরণ: তিতাস

গ্যাস দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের সহায়তা দিতে তহবিল গঠনের পরামর্শ

গ্যাস দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের সহায়তা দিতে তহবিল গঠনের পরামর্শ

ক্রস চেকের মাধ্যমে ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দেবে তিতাস

ক্রস চেকের মাধ্যমে ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দেবে তিতাস

সর্বশেষ

৭ গোলের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর জয়

৭ গোলের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর জয়

করোনার টিকা ছাড়াই সুই পুশ, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক বরখাস্ত

করোনার টিকা ছাড়াই সুই পুশ, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক বরখাস্ত

অবশেষে অস্ট্রেলিয়া-বধ

অবশেষে অস্ট্রেলিয়া-বধ

দিল্লিতে দলিত শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা, পুরোহিত গ্রেফতার

দিল্লিতে দলিত শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা, পুরোহিত গ্রেফতার

কুমিল্লায় একদিনে সর্বোচ্চ ১১৯০ জনের করোনা শনাক্ত

কুমিল্লায় একদিনে সর্বোচ্চ ১১৯০ জনের করোনা শনাক্ত

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের খবর জানলো বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের খবর জানলো বিশ্বব্যাংক

শুধু নারী রোগীদের জন্য করোনা ইউনিট চালুর সিদ্ধান্ত

শুধু নারী রোগীদের জন্য করোনা ইউনিট চালুর সিদ্ধান্ত

টাইগ্রে-সুদান সীমান্তের নদীতে ভাসছে মরদেহ

টাইগ্রে-সুদান সীমান্তের নদীতে ভাসছে মরদেহ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

লক্ষ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন দোকান মালিকরা!

লক্ষ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন দোকান মালিকরা!

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

© 2021 Bangla Tribune