X
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

স্থিতিশীল বঙ্গোপসাগর-ভারত মহাসাগর দেখতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ১৭:৪৪

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে, বিশেষ করে গত এক দশকে দেশের অগ্রযাত্রা লক্ষণীয়। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে স্থিতিশীলতা চায় বাংলাদেশ। শুধু তা-ই নয়, এই অঞ্চলের বিবদমান কোনও পক্ষে জড়াতে চায় না বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলে যদি অস্থিতিশীলতা দেখা দেয় তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সমস্যা হবে। সুতরাং আমরাও চাই এই ভারত মহাসাগর ও বে অব বেঙ্গল এরিয়া যেন স্থিতিশীল থাকে। এর মাধ্যমে চলাচল থেকে শুরু করে সমুদ্রসম্পদ আহরণ সবকিছু আমরা সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে স্থিতিশীলতার দিকে কীভাবে যেতে পারি। এখন যদি আমরা কোনও বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যে জড়িয়ে যাই বা যাদের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যাহত হয়; তবে অবশ্যই লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধাপ্রাপ্ত হবো।’

অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আঞ্চলিক ও পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মাত্রা ভিন্ন রকমের হবে জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘হাতের পাঁচ আঙুল সমান হয় না এবং সে জন্য আমাদের কাছের দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যমূলক নীতি অবলম্বন করতে হবে। দূরের দেশগুলোর জন্য হয়তো বা সেটি আমরা নাও করতে পারি।’

বঙ্গবন্ধুর ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়’ নীতিকে মূলমন্ত্র হিসেবে ধরে নিলে ভারসাম্যমূলক নীতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই একটা বিশেষ মুহূর্তে বা বিচ্ছিন্ন ঘটনায় কোনও একটি পক্ষ অবলম্বন করতে হতে পারে, বা কোনও বিতর্কের জন্ম হতে পারে; কিন্তু আমাদের সব সময় চেষ্টা থাকবে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।’

ভারত

আমাদের এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী ভারত এবং শক্তিশালীও বটে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বর্তমানে আমাদের যে সম্পর্ক এবং গতি-প্রকৃতি, সেটি যাতে কোনও মতেই বাধাগ্রস্ত না হয়। এটিকে কীভাবে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা যায় সেদিকে লক্ষ থাকবে। আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে এটা খেয়াল রাখতে হবে।’

যেকোনও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সমস্যা থাকে এবং ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যেসব প্রতিবন্ধকতা থাকে সেগুলোকে আমাদের ম্যানেজ করতে হবে।’

আঞ্চলিক দেশ

এই অঞ্চলে ভারত ছাড়া আরও অন্যান্য ছোট ছোট দেশ আছে, যাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে উল্লেখ করে মাসুদ বিন মোমেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ কারণে আমাদের সম্পর্ক শুধু যে ভারতকেন্দ্রিক হবে সেটি নয়।’

আমাদের একটি প্রতিবেশী (মিয়ানমার) এখন কিছুটা ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এরপর আমরা আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে চাই।’

চীন

এরপর অবশ্যই আসে আরেক বড় প্রতিবেশী চীনের কথা। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকার কথা অবশ্যই চলে আসে; কিন্তু এখনকার বাস্তবতা হলো, চীনের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সম্পর্ক অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। সুতরাং এটা যাতে কোনও মতে ব্যাহত না হয়।’

‘আমাদের অনেক বৃহৎ প্রকল্পে চীন সহায়তা করছে এবং সেগুলো সুসম্পন্ন হওয়া দরকার। তাছাড়া চীনের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন জিনিসের জোগান সুলভ মূল্যে পেয়ে থাকি এবং এই বিকল্প উৎস প্রয়োজন রয়েছে’—বলেন পররাষ্ট্র সচিব।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘এসব বিষয় বিবেচনা করলে চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো রাখতে হবে এবং তাদের যেসব উদ্যোগ রয়েছে, যেমন- বিআরআই ইত্যাদি, এগুলোর সুযোগ নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই সংযুক্তির কোনও সুবিধা নিতে পারি কিনা সেটার জন্যই বিআরআইএ যোগ দিয়েছি।’

জাপান

জাপানকে অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে সবাই জানে এবং ওই দেশটির সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতার সময় থেকেই সম্পর্ক। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যদি কৌশলগত স্তরে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে লাভ ছাড়া কোনও ক্ষতি হবে না। তাদের যে বিগবিসহ অন্যান্য উদ্যোগ রয়েছে, সেখানে সংযুক্তির একটা সুযোগ রয়ে গেছে এবং সেখানে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো রয়েছে। রয়েছে নেপাল ও ভুটান। এর সুযোগ নিয়ে আমরা জাপানের সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক করতে চাই।’

যুক্তরাষ্ট্র

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রশাসন পক্ষে না থাকলেও মার্কিন জনগণ সব সময় বাংলাদেশের সমর্থন দিয়েছেন; সুতরাং এখানে সদিচ্ছার কোনও কমতি নেই।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক কৌশলগত, মিলিটারি সম্পর্ক বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের অবস্থান প্রায় একই।’

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান এবং অন্যান্য ইস্যুতে আমরা একসঙ্গে কাজ করি। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি অথবা আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য তাদের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা আছে। এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রয়েছে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘ইউএসএআইডি ভূমিকা রাখতো, কিন্তু এখন দেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় তেমন ভূমিকা রাখে না। কারণ, আমাদের নিজেদের সক্ষমতা অনেক বেড়ে গেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সঠিক পথেই রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অনেক বড় ট্রেডিং পার্টনার এবং তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় মার্কেট।’

জিও স্ট্র্যাটেজি

যেসব ভূ-কৌশলগত উদ্যোগ বৃহৎ শক্তিগুলো নিচ্ছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকার পক্ষপাতি পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ‘উদ্যোগগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে, কিন্তু এ ধরনের সংঘাতমূলক পরিস্থিতি থেকে সব সময় নিজেদের স্বার্থে দূরে থাকাটাই বাঞ্ছনীয়।’

আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বিশ্বের দেশ হওয়া এবং এর জন্য নিরবচ্ছিন্ন উচ্চ প্রবৃদ্ধি দরকার বলে জানান তিনি।

/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

মৃত্যু বেড়ে ২২৮, শনাক্ত ১১ হাজার ২৯১

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৭:৪৭

দেশে আবারও করোনায় একদিনে মৃত্যু ২০০ পার হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২৮ জন। আর তাতে করে এক ধাক্কায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু বেড়ে গেলো ৩৩ জন। গতকাল (২৪ জুলাই) ১৯৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। 

মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে ১১ হাজার ২৯১ জন শনাক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অধিদফতর। গতকাল (২৪ জুলাই) ছয় হাজার ৭৮০ জন আর তার আগের দিনে ছয় হাজার ৩৬৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল অধিদফতর।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২২৮ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেলেন ১৯ হাজার ২৭৪ জন। আর শনাক্ত হওয়া ১১ হাজার ২৯১ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৫৮৪ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা থেকে সুস্থ হলেন নয় লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার ৩০ দশমিক শূন্য চার শতাংশ আর এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৭২টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৭ হাজার ৬৮৭ টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ২৮১টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩ টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ২২৮টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২২৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১২৫ জন আর নারী ১০৩ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেলেন ১৩ হাজার ১৯৯ জন আর নারী মারা গেলেন ছয় হাজার ৭৫ জন।

তাদের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন দুজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে আটজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুইজন আর শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছে একজন।

মারা যাওয়া ২২৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৬৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪০ জন, রাজশাহী বিভাগের ২১ জন, খুলনা বিভাগের ৫০ জন, বরিশাল বিভাগের ছয়জন, সিলেট বিভাগের ১১ জন, রংপুর বিভাগের ১৬ জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন ১৫ জন।

আর স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছেন, ২২৮ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৭৪ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪০ জন আর বাড়িতে মারা গেছেন ১৪ জন।

/জেএ/এমআর/

সম্পর্কিত

দেশে পৌঁছালো জাপানের দেওয়া অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা 

দেশে পৌঁছালো জাপানের দেওয়া অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা 

করোনায় আরও ১৮৭ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৮৭ জনের মৃত্যু

নতুন রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু ২৩১

নতুন রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু ২৩১

একদিনে আরও ২২৫ মৃত্যু, শনাক্ত ছাড়ালো ১১ লাখ 

একদিনে আরও ২২৫ মৃত্যু, শনাক্ত ছাড়ালো ১১ লাখ 

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৬:২০

করোনার চিকিৎসা আর ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা এক হাসপাতালে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে নির্মাণাধীন ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রায় ১২শ’ রোগী ইতোমধ্যে ভর্তি হয়েছে। আমরা একদিকে নন কোভিড রোগীর চিকিৎসা, অপরদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা, অন্যদিকে টেস্ট ও ভ্যাকসিন— সব মিলিয়ে একসঙ্গে করতে হচ্ছে। তাই আমরা আজকে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল চিহ্নিদ করেছি, যেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবো। কারণ, যেখানে করোনা রোগীর চিকিৎসা হয়, সেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি আরও  বলেন, ‘যেসব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করা হবে সেগুলো হচ্ছে— স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল,  টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হবে। অন্যান্য হাসপাতালে জায়গা নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী আপনারা ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নেবেন।’  

 

/এসও/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৭:৩৩

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও সংক্রমণজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক হিসাবে ঢাকা এগিয়ে আছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

রবিবার (২৫ জুলাই) কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

জেলাভিত্তিক শনাক্তের হিসাবে ঢাকা শীর্ষে অবস্থান করছে, ইতোমধ্যে ঢাকায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপরে আছে যথাক্রমে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর এবং সবচেয়ে কম রোগী রাজশাহীতে।’

জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণ ছাড়াও বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হারেও ঢাকা বিভাগ সর্বোচ্চ। এরপরের অবস্থান খুলনা বিভাগের।

এদিকে, গত সাত দিনের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ কম হয়েছে এবং সে অনুযায়ী পরীক্ষাও কম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কারণে মোট রোগীর সংখ্যা কমেছে।’ কিন্তু তাতে সংক্রমণের হার কমেনি বলেন অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘শতকরা হিসাবে সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের নিচে নামেনি। বরং ২৪ জুলাই ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে।’

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম জানান, ২৯তম এপিডেমিক সপ্তাহে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দুই লাখ দুই হাজার ১১৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় পরীক্ষার হার ২৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে।

ঈদের বন্ধে এই সংখ্যা কমতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে সুস্থতার হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।’

 

 

/জেএ/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৬:২৮

গত বছরের ২৫ অক্টোবর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পান জুনায়েদ হোসেন। এক মাস পর আসে নেগেটিভ রিপোর্ট। এ সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। বাসায় থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধসহ খাওয়া-দাওয়া ও ব্যায়াম করে সুস্থ হয়েছেন।

করোনামুক্ত হওয়ার প্রায় আট মাস পরও ধকলমুক্ত হতে পারেননি জুনায়েদ। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগে উচ্চ রক্তচাপ ছিল না, এখন সেটাও ধরা পড়েছে। টানা দু’মাস ওষুধ খেতে হয়েছে। তবু মাঝে মাঝে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। সঙ্গে যোগ হয়েছে ভুলে যাওয়ার সমস্যা। করোনা কেটে যাওয়ার প্রথম দুই মাস এ সমস্যা ছিল। মাঝে ছিল না। সাত-আট মাস পর এখন আবার প্রকট হয়েছে।

জুনায়েদ বলেন, ‘কাউকে হয়তো কল করার জন্য ফোন হাতে নিয়েছি, কিন্তু ভুলে গেলাম কেন ফোন হাতে নিয়েছি।’ এ সময়ে তার ওজনও কমেছে প্রায় পাঁচ কেজি। ক্ষুধাও চলে গেছে। এ কারণে খাওয়া হয় না সময় মতো।

‘তবে বড় সমস্যা হচ্ছে প্যানিক অ্যাটাক। এটা এক দুর্বিষহ যন্ত্রণা’, বললেন জুনায়েদ।

আরও জানালেন, ‘কেমন একটা মৃত্যুভয় সব সময় তাড়িয়ে বেড়ায়। তখন ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।’

৩০ বছরের রুবেল করোনায় আক্রান্ত হন জুনের প্রথম সপ্তাহে। দুবলর্তা, ক্ষুধা না লাগা, ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন এখনও।

বেসরকারি চাকরিজীবী ফাহমিদা আক্তার গত ডিসেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হন বাড়ির পাঁচ সদস্যসহ। ফাহমিদা বলেন, তারা করোনা থেকে সেরে উঠেছেন, কিন্তু প্রভাবমুক্ত হতে পারেননি।

আগে সমস্যা না থাকলেও ফাহমিদার এখন মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্ট হয়। ওষুধ খেতে হয় প্রতিদিন চারটা করে। রাতে ওষুধ খেতে ভুলে গেলেই ভোররাতে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ‘এ কষ্ট কত তীব্র, বোঝানো যাবে না’, বলেন ফাহমিদা।

করোনা সারলেও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন জটিলতা থেকেই যায়। একে লং কোভিড বলে আসছেন চিকিৎসকরা।

তারা বলছেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন, তাদের মধ্যে শর্ট ও লং টার্ম জটিলতা রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় লং কোভিড বা লং হলার্স। এরমধ্যে আছে সিভিয়ার মেন্টাল হেলথ সমস্যা, অনিদ্রা, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, ক্রনিক ফ্যাটিগ বা ভীষণ অবসাদগ্রস্ত, দুর্বলতা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ক্রনিক হাইপোক্সিয়া (অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম), মাংসপেশীতে ব্যথা, চুল পড়ে যাওয়া, ইত্যাদি।

বিদেশের মেডিক্যাল জার্নালসহ আমাদের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, করোনায় যখন কেউ আক্রান্ত হন তখন শরীরের কিছু কিছু অঙ্গ, যেমন হৃৎপিণ্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক, লিভার, ফুসফুসে ড্যামেজ হচ্ছে। কিন্তু করোনা সেরে গেলেও ওই অঙ্গগুলো সেরে উঠছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্বাসতন্ত্র বিষয়ক চিকিৎসক ডা. ডিয়াজ বলেন, ‘লং কোভিডে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, কী কারণে এমন হচ্ছে তা নিয়ে আরও গবেষণা লাগবে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনে ১ জন আক্রান্তের মধ্যে এক মাস পরও দীর্ঘমেয়াদি উপসর্গ থাকে। তবে কতদিন সেটা স্থায়ী হবে তা জানা যায়নি। বিশেষ করে বয়স্ক ও আগে থেকে জটিলতায় ভোগা মানুষরা এতে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।

তবে আক্রান্তদের সবার পরিস্থিতিই যে একই রকম হয় না, তা জানিয়ে ডিয়াজ বললেন, রোগের তীব্রতার মাত্রা একেক জনের একেক রকম। শিশুদেরও এটা হতে পারে।

তিনি জানান, কোভিড-পরবর্তী জটিলতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অবসাদ। এ ছাড়া রয়েছে, উত্তেজিত হওয়ার জটিলতা, মনোযোগ না থাকা, স্মৃতিশক্তি কমা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা ও স্নায়ুবিক সমস্যা। এমনটা কি ভাইরাসের কারণে নাকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভিন্নতার কারণে হচ্ছে, তা জানতে আরও গবেষণা দরকার।

বাংলাদেশে লং কোভিড নিয়ে পরিপূর্ণ তথ্য নেই, কিন্তু অনেকেই চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন এই সমস্যা নিয়ে। কারও দীর্ঘ সময় জ্বর এবং কারও ফ্যাটিগ (ক্লান্তি বা অবসাদ বোধ করা) থেকে যাচ্ছে। বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটা বললেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

তিনি বলেন, অনেকে করোনা থেকে সেরে ওঠার ১২ সপ্তাহ পরও ফুসফুস ও হার্টের সমস্যায় ভুগছেন।

‘করোনামুক্ত হওয়ার পর হার্টের সমস্যা নিয়ে এসেছেন এমন কয়েকজন রোগীকে আমি নিজেই চিকিৎসা করছি’ জানিয়ে রোবেদ আমিন বলেন, ‘যারা কোভিড থেকে সেরে উঠছেন তাদের প্রথম ফলোআপটা যেন দুই সপ্তাহের ভেতরেই হয়। তাদের অন্তত দুই থেকে আড়াই বছর ফলোআপে রাখতেই হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা থেকে একবার সেরে উঠলেই যে সম্পূর্ণ প্রটেকশন পেয়ে গেছেন এটা ভাবারও সুযোগ নেই। সেরে উঠলেও সব স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। কারণ, এখন অনেক ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে।’

 

 

/জেএ/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ০৮:০০

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাঁচ দিনব্যাপী যুগোস্লাভিয়া সফরের উদ্দেশ্যে ২৬ জুলাই সকালে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে একটি বিশেষ বিমানে রওনা হবেন। এই বেলগ্রেড যাত্রার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হচ্ছে শান্তির সন্ধানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর নতুন অভিযাত্রা। বঙ্গবন্ধু শান্তির সন্ধানে তার এই নতুন অভিযাত্রায় বিশ্ববাসীর জন্য শান্তির বাণী নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানাতে যাচ্ছেন, বাংলাদেশে শান্তি চায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়।

বাসসের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুগস্লাভ প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো এবং প্রধানমন্ত্রী জামাল বিয়েদিসের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনব্যাপী এক সরকারি সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

যুগস্লাভ সফর শেষে বঙ্গবন্ধু ৩১ জুলাই থেকে কানাডার রাজধানী অটোয়ায় রওনা হবেন কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে। যুগোস্লাভিয়া সফরকালে মার্শাল টিটো ও বিয়েদিসের কার্যালয়ে তাদের সঙ্গে মিলিত হবেন বঙ্গবন্ধু। আশা করা যাচ্ছে যে, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সঙ্গে বাংলাদেশ-যুগোস্লাভিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং উপমহাদেশের পরিস্থিতি ও আলজিয়ার্সে আসন্ন জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি কমিশনার নুরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদসহ আরও অনেকে।

২৬ জুলাই, ১৯৭৩ সালের পত্রিকার একাংশ স্বীকৃতি প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ভুট্টো

লন্ডনে এইদিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টো আবারও বলেন, বাংলাদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নীতি পরিহার করলে তিনি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানে ইচ্ছুক রয়েছেন। লোক বিনিময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পাকিস্তান পাঁচ লক্ষ বাঙালিকে বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দানে প্রস্তুত আছে। তবে বিহারিদের পাকিস্তানে ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে আবারও প্রত্যাখ্যান করেন। প্রেসিডেন্ট দুই দিনব্যাপী তার সফর সম্পূর্ণ সফল হয়েছে বলে দাবি করেন। জানা গেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট উপমহাদেশের ঘটনাপ্রবাহ, আফগানিস্তানের অভ্যুত্থান, পারস্য উপসাগরীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। প্রেসিডেন্ট লন্ডন থেকে ফ্রান্সে যান। সেখানে তার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দিসহ উপমহাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করার কথা আছে।

পিন্ডির আলোচনা অব্যাহত থাকবে

ভারত-পাকিস্তান পর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। ২৭ জুলাই ভুট্টো পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তন করবেন। দুদিন আগে উভয়দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এদিন বিকালে আলোচনা অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু উভয়পক্ষই বিকালের আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

২৬ জুলাই, ১৯৭৩ সালের পত্রিকার একাংশ একদিন পরে পূর্ণাঙ্গ বৈঠক শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেন, আলোচনার সময়সীমা বলে কিছু নির্দিষ্ট নেই এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদল আলোচনায় যোগ দিতে প্রয়োজনে আরও বেশি সময় অবস্থান করতে প্রস্তুত আছে।

আবারও বন্যার কবলে দেশ

পাঁচদিনের প্রবল বর্ষণে আসাম থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় এদেশে প্রধান নদীসমূহ দ্রুতগতিতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর আগে জুনে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল দেশ। সেই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ বিভাগ থেকে জানানো তথ্য বলছে, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যে আবার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।

তিনদিনের হিসাবে ঢাকায় ১৭ ইঞ্চি এবং চট্টগ্রামে ১৬ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। চট্টগ্রামের মৌসুমের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় বলে জানানো হয়। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ছয় ইঞ্চি।

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বশেষ

ঢাকার পথে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

ঢাকার পথে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ায় ৩ যাত্রী ফেরি থেকে নদীতে

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ায় ৩ যাত্রী ফেরি থেকে নদীতে

স্টিক দিয়ে মাথায় মেরে বসলেন আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়!

অলিম্পিক হকিস্টিক দিয়ে মাথায় মেরে বসলেন আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়!

করোনায় মারা গেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন

করোনায় মারা গেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন

যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত

যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত

মৃত্যু বেড়ে ২২৮, শনাক্ত ১১ হাজার ২৯১

মৃত্যু বেড়ে ২২৮, শনাক্ত ১১ হাজার ২৯১

নাসুমকে তিন ছক্কা মারা চাকাভাকে ফেরালেন সৌম্য 

নাসুমকে তিন ছক্কা মারা চাকাভাকে ফেরালেন সৌম্য 

বিয়ের আসর থেকে বরের পলায়ন, কনের মায়ের জরিমানা

বিয়ের আসর থেকে বরের পলায়ন, কনের মায়ের জরিমানা

চিকিৎসকসহ ৮৮৯০ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত

চিকিৎসকসহ ৮৮৯০ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা টিকা পাবেন কবে?

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা টিকা পাবেন কবে?

শ্রেষ্ঠত্ব আর থাকছে না মারের

অলিম্পিক টেনিসশ্রেষ্ঠত্ব আর থাকছে না মারের

সাইফউদ্দিন উইকেট নিলেও জিম্বাবুয়ের আগ্রাসী ব্যাটিং

সাইফউদ্দিন উইকেট নিলেও জিম্বাবুয়ের আগ্রাসী ব্যাটিং

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাতেই দেশে আসছে ২০০ টন অক্সিজেন

রাতেই দেশে আসছে ২০০ টন অক্সিজেন

নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে কমেছে শনাক্তও

নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে কমেছে শনাক্তও

দেশে করোনায় মৃত্যু ১৯ হাজার ছাড়ালো

দেশে করোনায় মৃত্যু ১৯ হাজার ছাড়ালো

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

© 2021 Bangla Tribune