X
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

‘সুফল’ প্রকল্প কতটা সফল?

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ১৮:১৪

কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাচ্ছে না 'টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল)' প্রকল্প। বন অধিদফতরের পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্পটির তিন বছরে আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশনের শর্ত মেনে এখনও পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হয়নি এতে। পরিচালক নিয়োগে সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। প্রকল্পে বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল ৪০ হাজার জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা থাকলেও কোনও কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রকল্পভুক্ত এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সরকারি বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘সুফল’ প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইতে। বনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো, বনজ সম্পদ উজাড় রোধ ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকার সংস্থানও এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

প্রকল্পে যা আছে
২৮টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ বন অধিদফতর। এর আওতায় আছে ৫টি বনাঞ্চল। আট বিভাগের ২৮ জেলার ১৬৫টি উপজেলার ৬০০ গ্রাম এতে সম্পৃক্ত।

প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-নতুন করে ৭৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বনায়ন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও চলাচল পথের (করিডোর) উন্নয়ন, বিপন্ন বন্যপ্রাণী (হাতি, শকুন, চামচঠুঁটো বাটান, শার্ক রে, ঘড়িয়াল, ডলফিন ও বাঘ) সংরক্ষণ, বিপন্ন প্রজাতির গাছপালার লাল তালিকাকরণ, কিছু স্থাপনা নির্মাণ, বনাঞ্চলের আশাপাশের বননির্ভর ৬০০ গ্রামের ৪০ হাজার পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ইত্যাদি।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জাতীয় বনাঞ্চল ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলেও জানানো হয়েছে।

যা যা হওয়ার কথা ছিল
নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় অগ্রগতি থমকে আছে বলে আইএমইডি’র প্রতিবেদনে বলা হয়। কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করতে ১০ মাস দেরি হয়েছে বলে জানানো হয়।

প্রকল্প অনুযায়ী প্রথম তিন অর্থবছরে প্রায় এক হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ছাড়ের কথা ছিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৩৪ কোটি ৮২ লাখ আট হাজার টাকা।

পণ্য, কার্য, সেবা মিলে ক্রয় অগ্রগতি মাত্র ২৪ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় ১৬২টি প্যাকেজ ক্রয়ের সংস্থান থাকলেও ৮৮টি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ২৫টির দরপত্র প্রক্রিয়াধীন। বাকি ৪৯টির প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি। চুক্তি হয়েছে ৩৭টি প্যাকেজের।

প্রকল্পের কেনাকাটা শুরু করতে ১৬ মাস দেরি হয়েছে। ৯৩টি ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও মাত্র ৫টি ভবনের দরপত্র আহ্বানেই এ কাজ সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৩২ ধরনের বনায়ন কার্যক্রমের ৫০ শতাংশ এবং ৬৩ লাখ ৫০ হাজার চারা উত্তোলন বিতরণের লক্ষমাত্রার বিপরীতে অগ্রগতির হার ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। ৫১ লাখ বনজ/ফলজ চারা উত্তোলন ও বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অগ্রগতি ৪৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। ৫টি মডেল উপজেলায় পাঁচ লাখ চারা বিতরণ ও উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অগ্রগতি হয়েছে ৬২ শতাংশ।

সুফল প্রকল্পের আওতায় নার্সারি। সংগৃহীত ছবি

টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উন্নত চারা উত্তোলন ও বিতরণ কর্মসূচির কোনও কার্যক্রম এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্পের আওতায় বনবিভাগের চারা উত্তোলনের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ।

জানা গেছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনাঞ্চল তথা অ্যাসিস্টেড ন্যাচারাল রিজেনারেশন (এএনআর)-এর অংশ হিসেবে দেশি প্রজাতির গাছ লাগানোর কথা রয়েছে প্রকল্প পরিকল্পনায়। ৭১ শতাংশ গাছ লাগানো হলেও যেসব গাছ লাগানোর কথা ছিল তার শর্ত মানা হয়নি। তাছাড়া এসব গাছের চারার ৪০ শতাংশ প্রথম বছরেই মারা গেছে। দ্বিতীয় বছরে কম্পোস্ট সার প্রয়োগের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এক কিলোমিটার এলাকার চারাগাছ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার তথ্যও উঠে এসেছে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে।

প্রকল্পের শর্তানুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কিছু বনাঞ্চলে ৫৭৯০ হেক্টরে স্ট্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট বনায়ন করার কথা। আড়াই বছরে এর অগ্রগতি ১০ শতাংশেরও কম। যেসব চারা লাগানো হয়েছে সেগুলোর আগাছা পরিষ্কার করা হয়নি। পরিচর্যার অভাবে মারা গেছে ২০-৪০ শতাংশ চারা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম বছরে ধীর ও দ্রুত বর্ধনশীল মিশ্র বাগান তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সম্ভব হয়নি দ্বিতীয় বছরের ম্যানগ্রোভ বাগান তৈরিও।

প্রকল্পের আওতায় বিলুপ্তপ্রায় ১০০ প্রজাতি নির্বাচন এবং ৫টি সংরক্ষিত এলাকায় আগ্রাসী প্রজাতির উদ্ভিদ তথা-ইউক্যালিপটাস, আসামলতা, স্বর্ণলতা, ল্যান্টানা ও মটমটিয়ার জরিপ প্রথম পর্যায়ে শেষ হয়েছে। বিপন্ন প্রজাতির বন্য ও জলজ প্রাণী যেমন শকুন, ঘড়িয়াল, ডলফিন ইত্যাদি সংরক্ষণে পরামর্শক সংস্থা নিয়োগের কথা থাকলেও তাতে অগ্রগতি নেই।

প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি। এ কাজে বেজলাইন জরিপ প্রতিষ্ঠান নিয়োগও হচ্ছে না। সুবিধাভোগী নির্বাচনে সাতটি এনজিওর সঙ্গে চুক্তির কথা থাকলেও মাত্র একটির নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পে অনলাইন (ওপেন ডাটা কিট) পর্যবেক্ষণের সুবিধা চালু হলেও মাঠ পর্যায়ে দক্ষ জনবলের অভাবে তা কাজে আসছে না।

গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কমিউনিটি পেট্রোলিং, অফিস বিল্ডিং ও আবাসিক ভবন নির্মাণ, রেসকিউ বোট কেনা, বন্যপ্রাণী কেন্দ্রের জন্য সোলার লাইট স্থাপন, বন্যপ্রাণী জাদুঘর ও লাইব্রেরি স্থাপন, মাটি ভরাট ও উন্নয়ন, বন্যপ্রাণী অলিম্পিয়াড, ফরেনসিক ল্যাবের জন্য রিএজেন্ট কেনাসহ আরও অনেক কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।

প্রকল্পে হাতির বিচরণ বসতি এবং চলাচলের সময় জনগণের সঙ্গে সংঘাতের মাত্রা কমিয়ে আনার কার্যক্রম পৃথক সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। সেই প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না দেওয়ায় এ জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।

মাঠ পর্যায়ে প্রতিনিয়ত অংশগ্রহণমূলক পরিবীক্ষণ করার কথা থাকলেও তা হয় না। পরিবীক্ষণ চলাকালীন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির ১৯তম সভার আলোচ্যসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করে আইএমইডি যে সুপারিশ করেছিল তা এক মাসের মধ্যে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেটাও মানা হয়নি।

পরিকল্পনা বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পে নিয়মিত পরিচালক পদায়নের বিধান আছে। কিন্তু এ প্রকল্পে তা মানা হয়নি। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে একজন পূর্ণকালীন পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। দেড় বছরেও সেটার বাস্তবায়ন হয়নি। আড়াই বছরে প্রকল্প পরিচালক বদলেছে তিনবার।

প্রতি তিন মাস পর পর পিএসসি (প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি) ও পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট কমিটি) সভা হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছরে মাত্র দুটি করে সভা হয়েছে। অথচ এ সময় অন্তত ১১টি সভা হওয়ার কথা।

‘নাম ভালো, কাজ নয়’
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম বছরে কোনও অডিট আপত্তি না থাকলেও দ্বিতীয় অর্থবছরের ১৩টি আপত্তি এসেছে। আপত্তি সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ‘সুফল’ প্রকল্পের অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে। কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ওই সময় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের নাম ভালো, কাজ তত ভালো নয়। প্রত্যাশার ধারেকাছেও নেই তারা।’

কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এত বড় প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে গেলে ভিত শক্ত করতে হবে। কিন্তু পরিকল্পনার দিক থেকেও স্বস্তি খুঁজে পাইনি। বাস্তবায়ন তো পরের কথা।

তিনি বলেন, ‘প্রথম বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টাকা খরচ করতে পারেনি তারা।’ অথচ হুলস্থুল করে গাড়ি কেনা শুরু করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকল্পটির বিষয়ে তারা একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ পরিবীক্ষণ করিয়েছেন। সেখানে অনেকগুলো ফাইন্ডিংস এসেছে। উনাদের কাজের ধীরগতি লক্ষ্য করেছি। অবশ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তারা সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে। আমরা তাদের কাছে একটি রিভাইসড ওয়ার্কপ্ল্যান চেয়েছি।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

২৪ ঘন্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৩

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৭:১০

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ছয়জন। তাদের নিয়ে দেশে সরকারি হিসেবে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ২৭ হাজার ৭৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৯৩ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে সরকারি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৪২জন, তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৩ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার এক দশমিক ৮৮ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। 

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যহার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ

/জেএ/এমআর/

সম্পর্কিত

পাঁচ মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

পাঁচ মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

পিছিয়ে যাচ্ছে সরকারিভাবে করোনা টিকা উৎপাদন

পিছিয়ে যাচ্ছে সরকারিভাবে করোনা টিকা উৎপাদন

করোনায় বেড়েছে মৃত্যু

করোনায় বেড়েছে মৃত্যু

আবারও মৃত্যু বেড়েছে, শনাক্ত কমেছে

আবারও মৃত্যু বেড়েছে, শনাক্ত কমেছে

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৫৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব।’

শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দেইনি বলেই আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশি দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি।’

সেসময় ক্ষমতায় না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমার কথা ছিল- আগে আমার দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে, অন্তত ৫০ বছরের মজুত থাকবে। তারপর যেটা অতিরিক্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া এই দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এই কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।’

এ সময় খাদ্য উৎপাদন ও কৃষির আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহামারি শুরুর দিকেই আমি আহ্বান জানিয়েছি যে, আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। সারাবিশ্বের অনেক দেশে এখন খাদ্যের অভাব। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষ অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয়, বাংলাদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে, আমরা যেনো খাদ্যের অভাবে আর কখনও না ভুগি। উত্তরবঙ্গ আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই মঙ্গা মুক্ত হয়, মঙ্গা মুক্তই থাকবে। বাংলাদেশে কখনও যেন আর দুর্ভিক্ষ হতে না পারে।’

কৃষিজমি রক্ষার তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘কৃষিজমি কোনও মতেই যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়; আমরা উৎপাদন করবো, উন্নয়ন করে যাবো। তবে সে উন্নয়নটা আমাদের কৃষি জমি সংরক্ষণ করেই করতে হবে।’

সারাবিশ্বে প্রচুর খাদ্য অপচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের অপচয়টা কমাতে হবে, অপচয় যেন না হয়। সারা বিশ্বে কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অপর দিকে কিন্তু প্রচুর খাদ্যের অপচয় হয়। এই অপচয় যেন না হয়। বরং যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটাকে আবার পুনর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে; সেটার বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। উদ্বৃত্ত যে খাদ্যটা থাকবে বা আপনি খেতে বসেও যে খাবারটা বেশি থাকবে সেটাও কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, অন্য চাহিদা পূরণ করা যায় কি না- সেটাকেও গবেষণার মধ্যে রাখা দরকার।’

কৃষি সম্প্রসারণ ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য চাহিদা ইনশাল্লাহ আমরা পূরণ করে যাবো। হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য দিয়েও তাদের খাদ্য চাহিদা আমরা পূরণ করবো। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

উৎপাদিত খাদ্যের মান ঠিক রাখার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাদ্য শুধু উৎপাদন না খাদ্যের মানটা যেন ঠিক থাকে।’

বীজ উৎপাদনে বিভিন্ন গবেষণা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বীজ আমরা উৎপাদন করবো, আমরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না। ... সরকারিভাবে উৎপাদন করবে, বীজ মানসম্পন্ন বীজ সংগ্রহ এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষিতে সফলতার জন্য বাংলাদেশী কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমরা চাহিদার উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ধান উৎপাদনে তৃতীয়, শাকসবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ মাছ উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করেছি।’

কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি বাতায়ন, কৃষক বন্ধু ফোন সেবা (৩৩৩১), কৃষকের জানালা, কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩) মাধ্যমে কৃষকদের সাথে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা, প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান, ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুবিধা, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, কৃষি যান্তিকীকরণসহ কৃষি সম্প্রসারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ব খাদ্য দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, ভালো উৎপাদনই ভালো পুষ্টি, ভালো পরিবেশই উন্নত জীবন।’

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

/পিএইচসি/ইউএস/

সম্পর্কিত

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

১৯৭৩ সালের এই দিন

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৬ অক্টোবরের ঘটনা।)

১৯৭৩ সালের এই দিন জানানো হয়, দুই-একদিনের মধ্যে ২৮ সদস্যের একটি বাঙালি চিকিৎসক দল সিরিয়ায় যাচ্ছে। এই প্রথম আরবের বাইরের একটি এশীয় দেশ মধ্যপ্রাচ্যে সাহায্যকারী দল পাঠাচ্ছে। সিরিয়ার অনুরোধে দুই-একদিনের মধ্যে এই চিকিৎসক দল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধরত মিসর ও সিরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের একাত্মতা প্রকাশ করে চিকিৎসক দল পাঠানোর প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সিরিয়া বাংলাদেশের কাছে দ্রুত চিকিৎসক দল পাঠানোর অনুরোধ জানায় বলে জানা গেছে।

সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে বঙ্গবন্ধুর জাপান যাত্রা

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানের উদ্দেশে ১৭ অক্টোবর রওনা দেবেন। বঙ্গবন্ধুর এই সফরের ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুস্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে কূটনৈতিক মহল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, মুখ্য সচিব রুহুল কুদ্দুস, স্বরাষ্ট্র সচিব এনায়েত করিমসহ আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পূর্বদেশ সম্পাদক এতেশাম হায়দার চৌধুরী, ইত্তেফাক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্টাফসহ একটি সাংবাদিক প্রতিনিধি দল, প্রধানমন্ত্রীর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও ছোট ছেলে শেখ রাসেল জাপান সফরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ বিমানের ৭০৭ বোয়িং সন্ধ্যা সাতটায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করবে, পরদিন বেলা ১০টায় (টোকিও সময়) জাপানে পৌঁছাবে।

১৯৭৩ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা

তবে জ্বালানি নিতে উড়োজাহাজটির মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দুই ঘণ্টা অবস্থান করার কথা। বিমানবন্দরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে। জাপানে অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু ১৯ অক্টোবর সে দেশের সম্রাটের সঙ্গে শুভেচ্ছামূলক সাক্ষাতে মিলিত হবেন। এর আগে বঙ্গবন্ধু জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া ১৮ অক্টোবর রাতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-জাপান সমিতির সম্মেলনে যোগ দেবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৩ অক্টোবর দুপুরে জাপানের জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন।

কর্নেল মাসুদ খানকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো

দিল্লি চুক্তি মোতাবেক ত্রিমুখী লোকবিনিময় শুরু হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের এদিন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার বাঙালি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে নৌ, সেনা ও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতরা ছিলেন।

কর্নেল ইয়াসিনও যেকোনও দিন বাংলাদেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। দু’জন অফিসার এবং সেনাবাহিনীর একজন বাঙালি অফিসার কর্নেল মাসুদ খানের সঙ্গে একযোগে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে দখলদার বাহিনীর আনা কতগুলো বানোয়াট অভিযোগ এবং বিচারের নামে এক প্রহসন করে এদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।

ডেইলি অবজারভার, ১৭ অক্টোবর ১৯৭৩ ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় মাসুদ খানকে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে দেখা যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে আসার পর বিশেষ করে কর্নেল মাসুদ খানকে ক্ষমা করে দেন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো মধ্যপ্রাচ্য সফরে রওনা হচ্ছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই সফরকালে তিনি তিনটি দেশ সফর করবেন। এই দেশ তিনটি হলো—ইরান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। তবে তিনি কী মতলব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেটি বলেননি। পর্যবেক্ষক মহল এই লোকটির আচরণ লক্ষ করছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। আরব-ইসরাইলের সে সময়কার চলমান যুদ্ধের পটভূমিতে ইসরায়েলের বড় মুরুব্বি আমেরিকার ভূমিকা ও এই সফর নিয়ে নানা মুনির মনে নানা রকম প্রশ্ন সৃষ্টি করে।

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৫

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ (১৬ অক্টোবর)। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশেও পালিত হবে দিনটি। এবারের প্রতিপাদ্য হলো, ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ-ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’। 

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘জাতির পিতা গ্রামীণ ও কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে যে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কৃষি অন্তঃপ্রাণ। স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে তিনি কৃষি বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের মাঝে খাস জমি বিতরণ, ভর্তুকি মূল্যে সার, কীটনাশক, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করেন।’

রাষ্ট্রপতি মনে করেন, সরকারের যুগোপযোগী নীতি ও পদক্ষেপে দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে দেশ। ফল ও সবজির উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে উৎপাদিত মাছ ও মাংস উৎপাদনে দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। দেশের কৃষিপণ্য রফতানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তার আশা, সরকারের এসব উদ্যোগ দেশের কৃষি উৎপাদনকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, সরকার মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে।’

শেখ হাসিনার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে পাট ও কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন।

বঙ্গবন্ধুকন্যার কথায়, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গত সাড়ে ১২ বছরে কৃষি উন্নয়নে কৃষিবান্ধব ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে রূপকল্প-২০৪১-এর আলোকে জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮, নিরাপদ খাদ্য আইন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০সহ উল্লেখযোগ্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষির উন্নয়নে আমরা কৃষকদের জন্য সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ ও কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃষি প্রণোদনা/কৃষি পুনর্বাসন, কৃষিঋণ, কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ, ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ই-কৃষির প্রবর্তন, জলবায়ু ও ঝুঁকি সহনশীল ফসলের জাত/প্রযুক্তি উদ্ভাবন ইত্যাদির ব্যবস্থা করেছি। কৃষি শিক্ষা-গবেষণা খাতে আরও বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি, যার ধারাবাহিকতায় খোরপোশের কৃষি আজ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশব্যাপী ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে কৃষিনির্ভর শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো।’

গতকাল ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘করোনাকালে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে করোনাকালেও দেশে খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রয়েছে ও তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ বোরো উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি টনেরও বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত বছরের তুলনায় এ বছর সব ফসলের উৎপাদনই বেশি হয়েছে।’

বিশ্ব খাদ্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকালে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রতিপাদ্যের ওপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার রয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেমিনারে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ অবমুক্ত করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ দিয়ে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি উন্মোচন করবেন।

মুজিববর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে কৃষি মন্ত্রণালয় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আজ দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে আন্তর্জাতিক সেমিনারের পর বিকালে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে একটি কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষিমন্ত্রী। সেখানে দেশ-বিদেশের কৃষি ও খাদ্য বিষয়ে প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করবেন।

সূত্র: বাসস

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৯

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবনে কুমিল্লা পূজামণ্ডপে সৃষ্ট বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন তিনি।

মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনসহ জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জাতির দুঃসময়ে, দুর্দিনে, বিপদে-আপদে সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আমাদের দেশে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। এদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। সেই সম্প্রীতি নষ্ট করতে এবং দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। এটি মোকাবিলার জন্য সব জনপ্রতিনিধিকে সতর্ক থাকতে হবে।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র গ্রন্থকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন মন্ত্রী। তার হুঁশিয়ারি, ‘যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় বিভেদ গড়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

মো. তাজুল ইসলামের মন্তব্য- শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরভাবে দমন করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার কথায়, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শত্রুরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্র করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। তারা আন্দোলনে মানুষের সাড়া পায় না বলেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে ইন্ধন দেওয়ার চেষ্টা করছে। 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘আমরা হতদরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে উন্নত দেশের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। একটি স্বার্থন্বেষীমহল এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। তারা কখনোই দেশের উন্নয়ন চায় না।’

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সব ধর্মের মানুষদের সহাবস্থানে থাকার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছেন। মুসলিমপ্রধান দেশ হলেও বঙ্গবন্ধু সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। মানুষ যে ধর্মের হোক না কেন, সে যেন রাষ্ট্রীয় অভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে এমন নীতিমালা বাস্তবায়ন করে গেছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সেই নীতি বাস্তবায়ন করছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কুমিল্লার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও দুর্বলতা থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন।

/এসএস/জেএইচ/

সম্পর্কিত

২৪ ঘন্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৩

২৪ ঘন্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৩

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

১৯৭৩ সালের এই দিনবঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ৮৬০ বাংলাদেশিকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ৮৬০ বাংলাদেশিকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সম্প্রীতির বন্ধনে কোনও অপশক্তি আঘাত করতে পারবে না: খাদ্যমন্ত্রী

সম্প্রীতির বন্ধনে কোনও অপশক্তি আঘাত করতে পারবে না: খাদ্যমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে: তথ্যমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে: তথ্যমন্ত্রী

সর্বশেষ

২৪ ঘন্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৩

২৪ ঘন্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৩

আসিয়ানের সম্মেলন থেকে বাদ মিয়ানমারের জান্তা প্রধান

আসিয়ানের সম্মেলন থেকে বাদ মিয়ানমারের জান্তা প্রধান

‘ভবনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং থাকলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং কর রেয়াত’

‘ভবনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং থাকলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং কর রেয়াত’

ষড়যন্ত্রকারীরা মন্দিরে কোরআন শরীফ রেখেছিল: খন্দকার মোশারফ

ষড়যন্ত্রকারীরা মন্দিরে কোরআন শরীফ রেখেছিল: খন্দকার মোশারফ

সরকারের সঙ্গে আলেমদের কোনও বিরোধ নেই: মাওলানা হাসান

সরকারের সঙ্গে আলেমদের কোনও বিরোধ নেই: মাওলানা হাসান

© 2021 Bangla Tribune