X
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

‘জেলে আব্বার সঙ্গে এক ঘণ্টা দেখা করতে পারতাম, ওইটুকুই ছিল ঈদের আনন্দ’

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২১, ১৯:২৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঈদে আমরা জেলে গিয়ে আব্বার সঙ্গে এক ঘণ্টা দেখা করতে পারতাম। ওইটুকুই ছিল ঈদের আনন্দ। আমাদের আসলে জীবনের অধিকাংশ সময়ই তো আব্বা জেলখানায়, ১৬টি ঈদ জেলখানায় কাটিয়েছেন আব্বা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাভাবিক জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রের ঈদের স্মৃতিচারণায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

ওই প্রামাণ্যচিত্রে কথা বলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানাও। এটি ঈদের দিন বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার হবে।

ঈদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের নির্মাতা প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুরো পরিবারের ত্যাগের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। 

ভিডিও বার্তায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আব্বা যখন বাইরে থাকতেন, তখন আমার মনে হয় মণকে মণ সেমাই রান্না করেও কুলাতে পারতেন না। 

শেখ রেহানা বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম আব্বা প্রায়ই থাকতেন জেলখানায়। আমাদের কাছে ঈদ ছিল তখন, যখন আব্বা জেলখানার বাইরে থাকতেন। মুক্ত থাকতেন। আব্বাও জেলখানার বাইরে, ঈদে এলো- এমন হলে তো কথাই নেই। আমাদের হতো ডাবল ঈদ। 

বাংলা ও বাঙালির আবেগ-আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তি-সংগ্রামকে এক সুতোয় গাঁথতে জীবনের প্রায় ১৪ বছর জেল জীবন কাটানো শেখ মুজিবের ১৬টি ঈদ কেটেছে কারাগারে। ওই সময় কেমন কাটতো সন্তানদের ঈদ।

মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও বঙ্গবন্ধুর জেল জীবন নিয়ে ৩ হাজার ৫৩ দিনের অবলম্বনে তৈরি করা প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরার প্রয়াসে নির্মাণ করা হয়েছে এটি।

 

/পিএইচসি/এনএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০৮:০০

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে এই দিন। প্রেসিডেন্ট ভবনের কেবিনেট কক্ষে সকাল ৯টায় আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা তিন দিন স্থায়ী হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ দূত পিএন হাকসার আলোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও দেশরক্ষা দফতরের মন্ত্রী আজিজ আহমদ পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলের মনোভাব হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতেই আলোচনা হতে হবে। যৌথ ঘোষণার ত্রিমুখী আদান প্রদানের বিষয়ে উল্লেখ আছে। সকালে উদ্বোধনী অধিবেশনে উভয় প্রতিনিধিদল সিমলা চুক্তি সম্পাদনের পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। উপমহাদেশের অচলাবস্থা নিরসনের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক মহল এ আলোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন। সকালের বৈঠকের পর কোনও পক্ষই মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিল। ভারতীয় পক্ষ ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে ইচ্ছুক। কেননা, উক্ত তারিখে বঙ্গবন্ধু বিদেশ সফরে যাবেন। তারা আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করতে ইচ্ছুক। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনায় জনাব আজিজ আহমেদ ছাড়াও অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সেক্রেটারি এ এ শেখ ও পররাষ্ট্র দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

২৬ জুলাই বঙ্গবন্ধুর বিদেশযাত্রা

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ জুলাই থেকে শান্তির সন্ধানে ছয় দিনব্যাপী যুগোস্লাভিয়া সফর শুরু করবেন। যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো ও তাদের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু এই সফরে যাচ্ছেন। অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি কমিশনার নুরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী। মার্শাল টিটো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হবেন। সেই সময় তিনি অবসর বিনোদনে ছিলেন। একাধিক কারণে এ নেতৃদ্বয়ের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলোচনার তাৎপর্য রয়েছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যুগোস্লাভিয়া সরকার ও জনগণ নিঃস্বার্থ সমর্থন দান করেছিল।

২৫ জুলাই, ১৯৭৩ সালের পত্রিকা কারফিউ দিয়ে তল্লাশির দ্বিতীয় দিন

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কারফিউ দিয়ে তল্লাশি অভিযানের দ্বিতীয় দিন ঢাকায় সুষ্ঠুভাবে অতিবাহিত হয়। দ্বিতীয় দিনে মোহাম্মদপুর এলাকায় অপর একটি অংশে কারফিউ ছিল। উল্লেখ্য যে, ভুয়া রেশন কার্ড উদ্ধারকল্পে নতুন রেশন কার্ড বিলি, অননুমোদিত ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ চিহ্নিতকরণ এবং বকেয়া আদায়কৃত বাড়ি উদ্ধারের জন্য একদিন আগে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে নতুন রেশন কার্ড কতগুলো দেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে মোহাম্মদপুর থেকে শ্যামলীর কিছু অংশে পর্যন্ত বিলি করা হয়েছে।

আটক বাঙালি উদ্ধারে জনমত গড়ে তুলুন

যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করতে হয় সবাইকে করুন, কিন্তু কেবল ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা চলবে না। এই দিন পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের মুক্তি প্রসঙ্গে বাঙালি উদ্ধার সমিতি কর্তৃক আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সিরাজুল হুদা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিষয়টি জটিল করে তোলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে অবহেলা না করে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্য সরকারের সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এবং বহির্বিশ্বে প্রতিনিধি পাঠিয়ে যুদ্ধকালীন সময়ের মতো ব্যাপক প্রচার চালানো দরকার।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকা একটি বৃহৎ শক্তি। এই শক্তির সঙ্গে সরকারের এ ব্যাপারে আলোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বিশ্বজনমত সৃষ্টির ব্যাপারে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বহির্বিশ্বে প্রতিনিধি পাঠানোর আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

২৫ জুলাই, ১৯৭৩ সালের পত্রিকা জনসংখ্যার বৃদ্ধি রোধ না করলে উন্নয়ন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে কৃষিভিত্তিক উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্থান প্রথম। সে সময় আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা ৩ দশমিক ৩। অর্থাৎ প্রতিবছর ৩০ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করছে। এই বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগামী ২৩ বছরের মধ্যে এ দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। বলাবাহুল্য, এই বর্ধিত লোকসংখ্যার বাসস্থান, অন্ন-বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের সংস্থান করা শুধু কষ্টকরই হবে না, সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া বিচিত্র না। হোটেল পূর্বাণীতে আয়োজিত জনসংখ্যা পরিকল্পনা বিষয়ক জাতীয় ব্যবস্থাপনার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণদানকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দফতরের মন্ত্রী আব্দুল মান্নান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনসংখ্যা কেবল বাংলাদেশের না, এটা সমগ্র বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এর সমাধান আঞ্চলিক ভিত্তিতে নয়, আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে অগ্রাধিকার মানদণ্ডে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করতে হবে।

 

/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০৭:০০

করোনা সংক্রমণ কমাতে দেশব্যাপী নতুন করে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার। শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হলে তাকে শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে। বিধিনিষেধ চলাকালে জনগণকে সতর্ক থাকা, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, বিধিনিষেধ আগের চেয়ে কঠোর হবে। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে আছে।

১৩ জুলাই বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই আদেশে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল ঈদের কারণে। ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল ওই ঘোষণায়।

কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন শুক্রবারে ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছে ৪০৩ জন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, লকডাউন অমান্য করে অহেতুক ঘোরাফেরা করায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৩ জনকে এক লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আরোপিত ‌বিধিনিষেধের আদেশে যা রয়েছে

১) সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২) সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

৩) শপিং মল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৪) সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

৫) সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

৬) জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক বিবাহত্তোর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৭) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৮) ব্যাংক-বিমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৯) সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাফতরিক কাজগুলো ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন।

১০) আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন: কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন/বিক্রি, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

১১) বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

১২) জরুরি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি/কাভার্ডভ্যান/নৌ-যান/পণ্যবাহী রেল/ফেরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

১৩) বন্দরগুলো (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

১৪) কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

১৫) অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৬) টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা নেওয়ার জন্য যাতায়াত করা যাবে।

১৭) খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

১৮) আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।

১৯) স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

২০) ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠপর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

২১) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি/কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি সময় নির্ধারণ করবেন। সেইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোনও কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

২২) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

২৩) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন।

/এসও/এফএ/

সম্পর্কিত

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০০:৫৩

একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে দেশের সঙ্গীত অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তার গান তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের নবজাগরণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাষ্ট্রপতি ফকির আলমগীরের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসের কাছে পরাজয় বরণ করেন নন্দিত এই গণসংগীতশিল্পী। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

আরও পড়ুন:
করোনার কাছে পরাজিত হলেন ফকির আলমগীর

/ইএইচএস/ ইউএস/

সম্পর্কিত

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

দুই বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

দুই বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধের দর্শন গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি

শান্তি প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধের দর্শন গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০০:৫২

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক ও দেশবরেণ্য গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পীর মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে, বিশেষ করে গণসংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসের কাছে পরাজয় বরণ করেন নন্দিত এই গণসংগীতশিল্পী। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। 

১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

/ইএইচএস/ইউএস/

সম্পর্কিত

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২৩:২৩

করোনায় বাবা-মাকে হারিয়েছেন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক জাকি উদ্দিন। ছয় মাসের ব্যবধানে করোনায় বাবা-মাকে হারিয়ে ডা. জাকির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান। 

কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা না থাকায় কুমিল্লার রেসকোর্সের বাসা থেকে হাসপাতালে আসা-যাওয়া করতেন ডা. জাকি উদ্দিন। ছয় মাস আগে মা-বাবা ও ছোট বোনসহ তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার মা জাহানারা নাসরিন।

করোনা থেকে সুস্থ হলেও তার বাবা মারা যান চলতি মাসে। বাবাকে হারিয়ে ডা. জাকি উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘একদম এতিম হয়ে গেছি ছয় মাসের ভেতর। কোভিড দিয়ে মেরে ফেলছি।’ এরপর ইংরেজিতে যা লেখেন, তার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘কোনও বাবা-মায়ের যেন আমার মতো সন্তান না থাকে, যে তার বাবা-মাকে ছয় মাসের মধ্যে মেরে ফেলেছে। আমার আর এই পেশায় থাকা উচিত না বলে মনে করি।’

ডা. জাকি উদ্দিনের এ স্ট্যাটাস চিকিৎসক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। নতুন করে আবার উঠে আসে করোনা ইউনিটে দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন (সঙ্গ নিরোধ) বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি।

ছয় মাসের ব্যবধানে একজন মানুষ এতিম হয়ে গেলো মন্তব্য করে চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন-বিএমএ’র কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসিম বলেন, ‘তার (ডা. জাকি উদ্দিন) বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে দায়িত্বরতদের জন্য কোয়ারেন্টিন বা আবাসিক ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করছেন। এ ব্যাপারে (কোয়ারেন্টিন) তাদের জন্য কী উন্নত ব্যবস্থা করা যায় না?’

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের চিকিৎসক ডা. আতিক বলেন, ‘প্রণোদনা নেই, কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই। আবার সরকারি চাকরি করি বলে কিছু বলতেও পারবো না। এ কেমন কথা? আমরা কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর গত ১২ এপ্রিল রাজধানীর ছয় হাসপাতালের করোনায় আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য ১৯টি হোটেল নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আবাসিক হোটেলের বিল পরিশোধ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। সঙ্গে চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ হোটেলের সুবিধাও বাতিল করে পরিপত্র জারি করে।  

কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার মধ্যে দায়িত্ব পালনকারী একজন চিকিৎসক দৈনিক দুই হাজার টাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ৮০০ টাকা, একজন নার্স ঢাকার মধ্যে এক হাজার ২০০ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার টাকা এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী ঢাকার মধ্যে ৮০০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৬৫০ টাকা ভাতা পাবেন।

অথচ চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসকরা সুপার স্প্রেডার। ১৫ দিন টানা হাসপাতালে ডিউটি করার পর নিজ দায়িত্বে কোয়ারেন্টিন সব দিক থেকেই অবৈজ্ঞানিক। তারা বলছেন, চিকিৎসকরা কোনও পাঁচ তারকা হোটেল চাননি, তারা কেবল ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড’ অনুযায়ী থাকার জায়গা চেয়েছিলেন; তাদের এবং তাদের পরিবারের সবার সুরক্ষার জন্য।

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা না করলে ফল ভালো হবে না

কোয়ারেন্টিন বাতিলের সিদ্ধান্ত খুবই অমানবিক, অপমানজনক ও অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেছেন কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে কাজ করা চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো আমলাতান্ত্রিক না হয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত। কোভিড রোগীদের চিকিৎসা কি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা করছেন নাকি চিকিৎসকরা করছেন, এমন প্রশ্নও তুলছেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে চিকিৎসকরা এও বলছেন, কোয়ারেন্টিন আমাদের ছুটি নয়, এটা হাসপাতালে কাজের একটি অংশ। কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষ এ সময়ে আমাদের বাড়িতে পাঠাতে পারে না।

কোয়ারেন্টিন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিসহ চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন এই কোয়ারেন্টিন সুবিধার দাবি জানিয়ে এসেছে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির ২০তম সভায় হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা বলছেন, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে তাদের পরিবার পরিজনরাও কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েন। তাই ডিউটি শেষে তাদের কোয়ারেন্টিনের জন্য নিরাপদ আবাসনের প্রয়োজন।

গত ৮ জুলাই বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহি উদ্দিন ও মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতেও চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। চিঠিতে তারা বলছেন, চিকিৎসক ও সহযোগী স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিন সুবিধা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের করোনায় আক্রান্তের হার অনেক বেড়েছে।

আবার কোনও কোনও চিকিৎসক দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জানিয়ে বিএমএ’র চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন বিরতীহীনভাবে সেবা ও তাদের কারণে পরিবারের সদস্যদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় দেশের সব চিকিৎসক চূড়ান্তভাবে মানসিক যন্ত্রণার মাধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। 

বিএমএ’র তথ্য অনুযায়ী দেশে মহামারিকালে এখন পর্যন্ত ১৬৯ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর গত ৮ জুলাই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ২৮৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন দুই হাজার ৯৫৪ জন, নার্স দুই হাজার ২৩ জন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন তিন হাজার ৩০৬ জন।

চিকিৎসকরা মানষিকভাবে খুবই বিধ্বস্ত হয়ে গেছেন জানিয়ে বিএমএ’র মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী কোয়ারেন্টিন বাতিলের সিদ্ধান্ত কতোটা অযৌক্তিক সেই প্রশ্ন তুলেছেন।

কোয়ারেন্টিন বন্ধ করে দেওয়াতে চিকিৎসকরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন, আর বাড়ি গিয়ে তারা অন্যদের সংক্রমিত করছেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না জানিয়ে ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে চিকিৎসকরা বিরামহীনভাবে এই মহামারি সামাল দিয়ে যাচ্ছেন, যেটা আমার চিকিৎসক জীবনে পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘বহুসংখ্যক চিকিৎসকের পরিবারের অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তাই কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা জরুরিভিত্তিতে চালু করা উচিত; এটা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে কেবল মানসিকভাবে বিধ্বস্ত নয়, নানাভাবে তাতে প্রভাবিত করবে, কাজে প্রভাব ফেলবে।’

‘সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে, চিকিৎসকসহ অন্যদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালু করার’-বলেন ইহতেশামুল হক চৌধুরী।

‘যখন কোয়ারেন্টিন বাতিল করা হয় তখনই আমরা আপত্তি করেছিলাম।’ পরার্মশক কমিটি, বিএমএ, স্বাচিপসহ প্রতিটি সংগঠন, প্রত্যেক চিকিৎসক এর বিরোধিতা করেছেন জানিয়ে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বারবার এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করার জন্য জোরালোভাবে বারবার বলেছি। কিন্তু সরকার সেটা করেনি।’

তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতি এখন দাঁড়াচ্ছে, চিকিৎসকরা কিন্তু এক সময় ক্লান্ত হয়ে যাবে। এটা কেউ গ্রাহ্য করছে না। এখনও সময় আছে, চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হোক।’

‘প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, একজন চিকিৎসকের জন্য পরিবার হুমকিতে পড়ছে, যেটা কেউ চায় না। নিজের জীবনের চেয়েও পরিবারের মানুষগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কোনও চিকিৎসক কিন্তু করোনা রোগীদের চিকিৎসা করতে আপত্তি করে না, কেবল চায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে যেন তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরতে না হয়। এটা দায়িত্ববোধের জায়গা, আর এ জন্যই চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা সরকারিভাবে করা উচিত, চিকিৎসকদের মনোবল ধরে রাখতে হলে এটা এখনি না করা হলে ফল ভালো হবে না’—বলেন অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান।

 

 

/জেএ/আইএ/

সম্পর্কিত

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

সর্বশেষ

তাজা মাছ চেনার পাঁচ টিপস

তাজা মাছ চেনার পাঁচ টিপস

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১৪০ ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১৪০ ফিলিস্তিনি

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

হাইতির নিহত প্রেসিডেন্টের শেষকৃত্যেও গুলির শব্দ

হাইতির নিহত প্রেসিডেন্টের শেষকৃত্যেও গুলির শব্দ

ক্ষমা চাইলেন সেই জার্মান সাংবাদিক

ক্ষমা চাইলেন সেই জার্মান সাংবাদিক

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

প্রবল বর্ষণে মহারাষ্ট্রে মৃত বেড়ে ১১০

প্রবল বর্ষণে মহারাষ্ট্রে মৃত বেড়ে ১১০

লকডাউনে বগুড়া থেকে হিলিতে চকলেট কিনতে যাওয়ায় জরিমানা

লকডাউনে বগুড়া থেকে হিলিতে চকলেট কিনতে যাওয়ায় জরিমানা

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

স্মরণে ফকির আলমগীরশেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গরু বিক্রির ১৫ লাখ টাকা লুট

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গরু বিক্রির ১৫ লাখ টাকা লুট

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

‘কঠোরতম’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছে

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

ফকির আলমগীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: রাষ্ট্রপতি

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

গণসংগীতের জন্য ফকির আলমগীর স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

করোনায় মারা গেলো আরও ১৬৬ জন

করোনায় মারা গেলো আরও ১৬৬ জন

রাশিয়া গেলেন নৌবাহিনী প্রধান

রাশিয়া গেলেন নৌবাহিনী প্রধান

‘ফলাফল দেখা যাবে পরের সপ্তাহে, পরিস্থিতি সামলানো যাবে না’

‘ফলাফল দেখা যাবে পরের সপ্তাহে, পরিস্থিতি সামলানো যাবে না’

© 2021 Bangla Tribune