X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২২:০৮

করোনার ভয়াবহ প্রকোপ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) চলাকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে। শুক্রবার (২৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) বিকাল ৫টায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার কর্তৃক ঘোষিত কঠোর লকডাউনের সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে।

এ সময় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট, দেওয়ানি, ফৌজদারি, কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি (সমুদ্র-সংক্রান্ত বিষয়) সংক্রান্তে একটি করে মোট তিনটি বেঞ্চে হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে অতীব জরুরি বিষয়ে শুনানি করবেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, ফুলকোর্ট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের টিকা গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়াও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ফুলকোর্ট সভায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

/বিআই/ইউএস/

সম্পর্কিত

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন আর নেই

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৫

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।  লিভার ও কিডনি সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। এক মাস ধরে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। 

ইসমাইল হোসেনের জামাতা অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান স্বপন জানান, শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা মেহেরপুর হোটেল বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ভাষার জন্য লড়াই করে অনেক পুলিশি নির্যাতন সহ্য করেছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে মোট ২৯ বছর মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৩ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মেহেরপুর শহরের টিঅ্যান্ডটিপাড়ায় বসবাস করতেন ইসমাইল হোসেন।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

রাজধানীতে ‘ভবন থেকে পড়ে’ ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু

রাজধানীতে ‘ভবন থেকে পড়ে’ ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু

রাজধানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

রাজধানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

রাজধানীতে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

রাজধানীতে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

রাজধানীতে ট্রাক চাপায় রিকশাচালকের মৃত্যু

রাজধানীতে ট্রাক চাপায় রিকশাচালকের মৃত্যু

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৯

মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৪২ হাজার ৭২৪ পিস ইয়াবা, ১৮৩ গ্রাম ১ হাজার ২০ পুরিয়া হেরোইন, দেশি মদ ১৭ বোতল, ৫০ কেজি ৩০৫ গ্রাম গাঁজা ও ৮ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারের পর জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪১টি মামলা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

সাক্ষাৎকারে ড. ফেরদৌসী কাদরী 

‘করোনা নিয়ে আরও কাজ হলে গবেষণার ক্ষেত্রটা বাড়বে’

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০০
করোনা নিয়ে যতটা গবেষণা হওয়া উচিৎ ততটা হচ্ছে না। এটা বাড়ানো উচিৎ। করোনা নিয়ে আরও কাজ হলে আমাদের নিজেদের গবেষণার ক্ষেত্রটা বাড়বে। এমনটা জানিয়েছেন এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী। তার সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউন-এর জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক জাকিয়া আহমেদ।

 

বাংলা ট্রিবিউন: দেশের করোনা পরিস্থিতি বলা যায় ভালোর দিকে, করণীয় কী?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: দেশের সব ‘পারফেক্ট’ নয়। কিন্তু করোনা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যার যার জায়গা থেকে যা করার ছিল সে সেটাই করেছে। সেইসঙ্গে সরকারের তরফ থেকেও অনেক সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

দেশে করোনায় প্রতিদিন যে মৃত্যুর সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো হয়, সেটা নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু এর বাইরে পোস্ট কোভিড, লং কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে। অনেকে আনডিটেকটেড থাকছেন। সবাই পরীক্ষার আওতায় আসছেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যত মৃত্যুর কথা আমরা জানি, তার তিন থেকে চারগুণ বেশি মৃত্যু হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় কথা- পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে, চিকিৎসাকেন্দ্র বাড়াতে হবে এবং মানুষকে সচেতন হতে হবে।

ড. ফেরদৌসী কাদরী 

বাংলা ট্রিবিউন: দেশের ৫০-৬০ শতাংশ মানুষের হার্ড ইমিউনিটি হয়েছে বলে যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: ৮ বিভাগে আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠা)-এর সঙ্গে এক যৌথ জরিপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ৬০ শতাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি রয়েছে। কিন্তু সেটা হার্ড ইমিউনিটি নয়। করোনা প্রতিরোধের জন্য যে ধরনের অ্যান্টিবডি দরকার সেটা এই অ্যান্টিবডি দিয়েই হবে, তা আমি বলতে পারবো না।

হার্ড ইমিনিউটির ব্যাপ্তি অনেক। এটি কেবল সংক্রমিত হবার মাধ্যমে হয় না। ভ্যাকসিনেশন এবং ইনফেকশন-দুটো দিয়েই করতে হয়।

আমি কখনোই হার্ড ইমিউনিটির কথা বলি না। একটা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০-৮০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হলে এবং তাদের যদি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়- তবে দুটো মিলিয়ে হার্ড ইমিউনিটি হয়।

নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট আসছে, সেগুলোর মধ্যে পরিবর্তন হচ্ছে। যে পরিবর্তনে শরীরের ভেতর অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও সেটা কাজ করছে না অনেক সময়। এই কারণেই একাধিক মানুষ একাধিকবার আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ একবার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে আক্রান্ত হলে তিনি যে অন্য ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হবেন না-তাও নয়।

ড. ফেরদৌসী কাদরী 

বাংলা ট্রিবিউন: টিকা নিলেই নিরাপদ?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: কোনও টিকাই শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এখন পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা নেওয়া থাকলে রোগীর অবস্থা জটিল হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে না। আইসিইউতেও যেতে হচ্ছে না। এজন্য টিকা অবশ্যই নিতে হবে।

আবার টিকাতেও তফাৎ রয়েছে। আমরা এখনও পুরোটা জানি না। টিকা আবিষ্কারের জন্য অনেক বছর গবেষণার দরকার। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে আমাদের সময় কম ছিল। অল্প সময়ে টিকা আবিষ্কার হচ্ছে। আবার সেটা বদলে যাচ্ছে বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের কারণে।

করোনায় অনেক দেশেই সংক্রমণের হার বেশি ছিল। ডেল্টার তাণ্ডবে ভারতে হাসপাতালে রোগীদের জায়গা হয়নি। মৃতদেহের সৎকার হয়নি ঠিকমতো। ডেল্টার প্রকোপ বাংলাদেশেও চলেছে সমানতালে। জুলাইতে সর্বোচ্চ রোগী ও আগস্টে একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও যতটা আশঙ্কা ছিল সে অনুযায়ী করোনার প্রকোপ দেখতে হয়নি বাংলাদেশকে।

 

বাংলা ট্রিবিউন: কী কারণেদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: আমরা দেরি করিনি কিছুতে। বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভালো ছিল। আমাদের দেশে সিদ্ধান্তগুলো খুব তাড়াতাড়ি নেওয়া হয়েছে অন্য দেশের তুলনায়।

স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে টিকার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে ১১টি টিকা রয়েছে টিকা কর্মসূচিতে। শিশু এবং মায়েদের টিকা দেওয়া হচ্ছে অনেক বছর ধরে।

ডেল্টার সময় আমরা টিকা পাইনি। তার আগে সংক্রমণের হারও কম ছিল। হঠাৎ করেই বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের স্ট্যাটাস অনেক ভালো ছিল। আমরা অনেক মৃত্যু দেখেছি-যা আগে দেখিনি। তারপরও মেক্সিকো, আমেরিকা, ব্রাজিল, ভারতের তুলনায় অনেক কম।

আমাদের অক্সিজেনের অভাবও হয়নি। ভারতে হয়েছে। যার কারণে ভারতে যেভাবে মৃত্যু দেখেছে বিশ্ববাসী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখতে হয়নি।

আবার, বাংলাদেশের মানুষ পেয়ারা, আমড়া, আমলকির মতো ফল খেতে পারছে। এগুলো দেশে খুব কম দামে সবসময় পাওয়া যায়। এগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর। ভিটামিন-বি, সি রয়েছে। আছে আয়রন। এগুলোর জন্যও আমরা হেলদি। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অনেক পুষ্টিকর খাবার পায় কম দামে। যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

 

বাংলা ট্রিবিউন: এখনও যত পথ বাকি...।

ড. ফেরদৌসী কাদরী: বাংলাদেশের রোগ নির্ণয় অর্থাৎ ডায়াগনোসিস নিয়ে একটু আক্ষেপ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে, কোন দেশে কোন নতুন রোগ দেখা দিচ্ছে, সেই বিষয়ে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন যেটা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) করছে। আইসিডিডিআরবিও তাদের সঙ্গে কাজ করে।

কোভিডের বেলায় শুরুতে একটি মাত্র পরীক্ষাগার থেকে আজ ৮১০টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এসব পরীক্ষাগার যেন কখনও বন্ধ না হয়। তাদেরকে সেই সাপোর্ট দিতে হবে। প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে।

সবকিছু একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মান বাড়ানোর জন্য, যন্ত্রপাতির জন্য, রি-এজেন্টের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে যে সাহায্য পেয়েছি, যে ফান্ডিং এসেছে-সেটাও কম নয়। সেইসঙ্গে সরকারও খরচ করে যাচ্ছে। আমার কথা হলো, এই গতি যেন না কমে।

আমি যেহেতু গবেষণা করি, তাই বলছি-করোনা পরিবর্তন হয়ে আরেকটি নতুন রোগ আসতে পারে। তখন যেন পিছিয়ে না পড়ি, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ড. ফেরদৌসী কাদরী 

বাংলা ট্রিবিউন: ডেল্টার মতো ভ্যারিয়েন্ট আরও আসতে পারে?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: দেশে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত দুদিন শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে। এটা আবার বাড়তে পারে। ডেল্টার মতো অতি সংক্রমণশীল ভ্যারিয়েন্টও আসতে পারে। এ নিয়ে কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে না।

 

বাংলা ট্রিবিউন: মানুষ তো আবার অবাধে চলতে শুরু করেছে, কোন বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: এখন মাস্ক না পরাটা সবচেয়ে খারাপ হবে। প্রতিটি মানুষের সচেতন হওয়া উচিত। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য এটা কর্তব্য। সবার ‘রেসপনসিবিলিটি’ রয়েছে এখানে। কেন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব হবে? আমাদের দায়িত্ববোধ কোথায়? মানুষতো অনেক ধরনের সমাজসেবা করে। দায়িত্বশীলরা মাস্ক ডোনেট করছে না কেন? পরতে পরতেই এটাকে অভ্যাস বানাতে হবে। মাস্ক কেবল করোনা থেকে নয়, ফুসফুসজনিত অনেক রোগ থেকেও আমাদের বাঁচায়।

যেসব অফিসে কর্মীরা মাস্ক পরছে না, সেখানে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে। মাস্ক ছাড়া কেউ অফিসে ঢুকতেই পারবে না, এ নিয়ম জারি করতে হবে। নয়তো শাস্তির বিধান করতে হবে। এ ছাড়া বাঁচা যাবে না। সরকার এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার অনুরোধ করবো আমি।

 

বাংলা ট্রিবিউন: গবেষণায় আগ্রহী হলেন কেন?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: পুরস্কার পাবো, এমনটা চিন্তা করিনি কখনও। সবসময় মানুষের জন্য কাজ করতে চাইতাম। দেশের কাজে লাগবে, এমন কিছু করতে চাইতাম।

বায়োকেমিস্ট্রি পড়লাম, পিএইচডি করলাম, দেশে ফিরে এলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালাম। পড়াতে গিয়েই বুঝলাম, গবেষণা বেশি পছন্দ করছি। কিন্তু ‍যে সুযোগ দরকার ছিল তার ঘাটতি দেখলাম। সবসময় অভাব বোধ করতাম সেখানে।

এরপর ১৯৮৮ সালে আইসিডিডিআরবিতে যোগ দিই। সেখানেই কাজ করছি ৩৩ বছর ধরে। অনেক আনন্দের সঙ্গে কাজ করছি সহকর্মীদের নিয়ে। দেশ-বিদেশের অনেকের সহযোগিতা পাচ্ছি। এখানে রোজ শিখছি।

১ সেপ্টেম্বর স্বামীকে (সালেহীন কাদরী) হারিয়েছি। পারিবারিক কারণে অনেক কষ্টে রয়েছি। সেটাও কাজের মাধ্যমে ভুলে থাকতে পারছি। কাজ করলে ভালো থাকি।

 

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বের টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনার পর্যালোচনা কী?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: অনেক ধনী দেশ করোনাভাইরাসের টিকা মজুত করে রেখেছে। অথচ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সংকট রয়ে গেছে। এটা খুবই দুঃখের বিষয়।

অনেক দেশে দরকারের চেয়ে চার-পাঁচগুণ বেশি টিকা রয়েছে। তারা রেখে দিয়েছে বুস্টার ডোজের জন্য। কিন্তু অনেক টিকা মেয়াদ হারাচ্ছে। এটা সহ্য করার মতো নয়। এ কারণে কোভ্যাক্স সুবিধা করা হয়েছে। বিশ্বের অনেক ধনী দেশ রয়েছে সেখানে, রয়েছে অনেক সংগঠন। কিন্তু তারাও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এ বৈষম্য স্পষ্ট ধরা পড়ছে।

 

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশে গবেষণার ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান কেমন?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: মেয়েরা এখন নয়টা-পাঁচটার ছক থেকে বের হয়ে চ্যালেঞ্জিং পেশায় আসছে। সত্যি খুব গর্ব করি তোমাদের নিয়ে (নারী সাংবাদিকদের উদ্দেশে)। তোমরা একটা ঝুঁকির্পূণ পেশা বেছে নিয়েছো। সবার বাসা থেকে এখানেও সাপোর্ট দেওয়া হয় না।

নারীর লড়াই কেবল বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নয়। সারা বিশ্বেই চলছে। এ লড়াই অনেক কঠিন। নারীরা গবেষণায় একটু পিছিয়ে রয়েছে। এখানে এগিয়ে আসতে হবে।

 

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশকে সামনে কোথায় দেখতে চান?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: বাংলাদেশকে সবার উপরে দেখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ দিয়েছে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন)। এটা দারুণ ব্যাপার। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সবার ওপরে। এখন কোথাও গেলে যখন শোনে আমি বাংলাদেশি, তখন বিস্ময় নিয়ে বলে, টিকা কর্মসূচিতে আমরা সফল। আমরা কীভাবে তা সম্ভব করলাম, সেটা জানতে চায়। আমাদের নেতৃত্বে যিনি আছেন, তার চিন্তা অনেক অগ্রগামী। তিনিই এগিয়ে নেবেন।

আমরা এখন অনেক কিছু রফতানি করি। তৈরি পোশাক থেকে শুরু করে মাছ, ফল-এমনকি আমাদের ওষুধও যাচ্ছে বাইরে। স্বপ্ন দেখি, একদিন আমাদের টিকাও রফতানি হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোয়ালিফিকেশনও পেয়ে যাবে শিগগিরই। যদি আমরা উন্নতমানের ওষুধ বানাতে পারি, তা হলে টিকাও পারবো।

একনজরে ড. ফেরদৌসী কাদরী

আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী। এ প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে গবেষণাধর্মী কাজ করছেন ৩৩ বছর ধরে। সম্প্রতি পেয়েছেন এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসাইসাই পুরস্কার। এ ছাড়া কলেরার টিকা নিয়ে গবেষণা এবং সাশ্রয়ী দামে সহজলভ্য করে লাখো প্রাণ রক্ষায় কাজ করেছেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাবিষয়ক বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যও ছিলেন।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এফএ/

সম্পর্কিত

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ 

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ 

৫ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি

৫ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি

অনূর্ধ ১০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীই প্রায় ২৫ শতাংশ

অনূর্ধ ১০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীই প্রায় ২৫ শতাংশ

করোনায় মৃত ২৪ জনের ১৪ জন নারী

করোনায় মৃত ২৪ জনের ১৪ জন নারী

শিগগিরই ২০ জেলায় উন্মুক্ত হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের বিউটি পার্লার

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৮

দেশের ২০টি জেলা শহরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিউটি পার্লার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। মহিলা অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় বিউটি পার্লার ছাড়াও দেশের ৬৪টি জেলা শহরেই ‘সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টারে’ পণ্য সমগ্রী বিক্রি ও প্রদর্শন চালু হবে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের গত মঙ্গলবারের (২১ সেপ্টেম্বর) অফিস আদেশে জানানো হয়, এর আগে বিউটি পার্লার এবং সেলস ও ডিসেপ্ল সেন্টারের ভেন্যু ভাড়া ও চুক্তি সম্পাদন করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ২০২১ সালের জুন মাসে দেওয়া হয়েছে। সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টারএবং বিউটিপার্লার স্থাপনের লেআউট ও থ্রিডি ডিজাইনও পাঠানো হয়েছে। ডিজাইন মোতাবেক সন্নিবেশ করার জন্য এবং উদ্যোক্তা নির্বাচনের জন্য ইতোপূর্বে প্রকল্প কার্যালয় থেকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা অনুরোধ জানিয়ে বলা অফিস আদেশে বলা হয়, আগামী ১০ কর্মদিবসের পর যে কোনও দিন যে কোনও সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক ও পরিচালক মহোদয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি, প্রকল্প কার্যালয় এবং অডিট ভবন সরেজমিন বা অনলাইনে পরিদর্শন ও অডিট করবেন।

/এসএমএ/ইউএস/

সম্পর্কিত

ঢামেকের সামনে থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

ঢামেকের সামনে থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

আজও নারীর মৃত্যু বেশি

আজও নারীর মৃত্যু বেশি

পোশাকশ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

পোশাকশ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা হাইকোর্টের

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা হাইকোর্টের

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজবে মহালয়ায়। আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়া। এর সঙ্গে সঙ্গেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, দেবী এবার আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায় নিবেন দোলায় চড়ে। মহালয়ার পাঁচদিন পর ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১১ অক্টোবর বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পালিত হবে। আর ১৫ অক্টোবর হবে দেবী বিসর্জন। উৎসবকে ঘিরে তাই এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা।   

সনাতন ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন– বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন— দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।

ধূপ, কাশা, ঘণ্টা আর ঢাকের তালে তালে শুরু হবে শারদীয় উৎসব। তাই শেষ সময়ে চলছে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ। সারা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুরান ঢাকার শাখারিবাজারে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন সম্প্রদায়ের পালেরা (প্রতিমা তৈরীর মূল কারিগর)। সেখানের কয়েকটি পালবাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বাবা-দাদার আমল থেকে। প্রতিবছর তারাই মূলত প্রতিমাগুলো তৈরি করেন। কারিগরদের সঙ্গে পরিবারের বাকি সদস্যরাও তখন যুক্ত হন। প্রথমে কাঠ-বাঁশ দিয়ে ফ্রেম তৈরি করে খড় দিয়ে মূর্তির আদল তৈরি করা হয়। তার ওপর দেওয়া হয় কাদা-মাটির প্রলেপ। এভাবে একের পর এক প্রলেপ লাগিয়ে শুকাতে হয়। সব শেষে রং লাগিয়ে পোশাক ও গহনা পরানো হয়। কারিগরেরা বলছেন, প্রতিমা তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এঁটেল মাটি, বাঁশ, কাঠ, খড়, পাটের আঁশ।

কারিগরার জানান, প্রতিমা তৈরির খরচ প্রতিবছরই বাড়ছে। বর্তমানে আকারভেদে একেকটি প্রতিমা তৈরি করতে ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কোনও কোনও মণ্ডপে লাখ টাকার বেশিও খরচ করেও প্রতিমা তৈরি করা হয়। কাজভেদে একেকজন কারিগর মৌসুমের প্রতি মাসে আয় করেন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।  তারা আরও জানান,  কোনও কোনও মণ্ডপে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করে মাটির কাজও শেষ হয়েছে। ১০-১২ দিন  পর থেকেই শুরু হবে প্রলেপ ও রং দেওয়ার কাজ। সব কাজ শেষ হবে পূজা শুরুর দুই একদিন আগে।

স্কুল জীবন থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন হরিপদ পাল। তার প্রতিষ্ঠান শিমুলিয়া ভাস্কর শিল্পালয়। বয়সের ভারে কাজ নেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন বর্তমানে। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণেও কাজ আসার পরিমাণ কম বলেও জানান তিন। বর্তমানে একটি দেবীর প্রতিমা তৈরি করছেন। সেটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পূজা মণ্ডপের জন্য বলে জানান তিনি। হরিপদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যদি হাতের কাজ তৈরি করার পর পারি সম্ভব হয় তাহলে আরও দুই একটা কাজ নেব। কিন্তু এখন আর নিচ্ছি না। করোনার আগেও অনেক প্রতিমা তৈরির কাজ করেছি। কিন্তু এখন বয়সের কারণে আর আগের মতো কাজ করতে পারি না।

হরিপদ জানান, ঢাকার বনানী পূজামণ্ডপসহ সারাদেশেই অনেক প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আর সেখানে কাজ করা হয় না। দেশের বাইরে থেকেও আগে প্রতিমা তৈরির করার জন্য বায়না করা হতো, তবে সেটি এখন হয়না বলে জানান তিনি। ওয়াশিংটনসহ ভারতেও বায়নার কাজ করেছেন হরিপদ পাল। তিনি জানান, প্রতিমার কাজ অনেক আছে। কিন্তু করতে পারছি না বলে ফিরিয়ে দিচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জের সুকৃতি শিল্পালয়ের প্রতিমাশিল্পী সুকুমার পাল এবার তৈরি করছেন বনানী পূজামণ্ডপের প্রতিমা। তিনি জানান, এবার চার-পাঁচটি কাজ পেয়েছি। অর্ডার কম কিন্তু যেসব আছে তাতে কাজ অনেক বেশি। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে চারটি প্রতিমা তৈরির কাজ আছে। আর বনানীতে একটি প্রতিমা তৈরির কাজ আছে।

প্রতিমা অঙ্গরাজ ভাস্কর শিল্পালয়ের প্রতিমাশিল্পী এস কে নন্দী জানান, আমাদের কাজ পুরদমে চলছে। আমার এখানে সাতটি প্রতিমার অর্ডার আছে। ঢাকার গোপীবাগে ভোলা নন্দগিরি আশ্রমের দুটি প্রতিমার কাজ চলছে আর সিলেটের পাঁচটি প্রতিমার কাজ করছি। গত বছরের চেয়ে এই বছর কাজ একটু বেশি। তারপরও অনেকে আমার কাছে আসছিল, কিন্তু আমার সক্ষমতা আর নেই। যার কারণে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। আগামিবার যদি পরিস্থিতি ভালো হয় তাহলে আরও আগে থেকে শুরু করবো কাজ।

এদিকে সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ১৮ দফা প্রস্তাবনা সরকারকে দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হবে। এর মধ্যে গতবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত করা কয়েকটি শর্ত শিথিলের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতবার ৩৬ দফা প্রস্তাবনা ছিল এবার কমিয়ে ১৮ দফা দিয়েছি আমরা। উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয় যেগুলো গতবার ছিল না, সেগুলো এবার থাকবে। পাশপাশি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হবে। মাস্ক ছাড়া এবারও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না মণ্ডপে। এবারও আলোকসজ্জা, ডিজে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় যে শোভাযাত্রা করা হয় সেগুলো করা যাবে না। যার যার প্রতিমা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিকটস্থ স্থানে বিসর্জন দিবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু যেহেতু মোটামুটি খোলা সেহেতু আশা করছি অনেক মানুষ এবার পূজায় অংশ নিবে। যদিও আমরা রেস্ট্রিকশন দিয়ে রেখেছি। ৩০ তারিখের বৈঠকে কিছু জিনিস শিথিলতার বিষয়ে আমরা বলবো। প্রশাসন যেন তাতে নজরদারি রাখে সেগুলো আমরা বলবো।

 

/এফএএন/

সম্পর্কিত

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সবুজের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সবুজের বিরুদ্ধে চার্জশিট

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য হচ্ছে দিবাযত্ন কেন্দ্র

সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য হচ্ছে দিবাযত্ন কেন্দ্র

সর্বশেষ

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন আর নেই

ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন আর নেই

২০ বছর পর মুখ খুললেন বিপাশা

২০ বছর পর মুখ খুললেন বিপাশা

ঢাবির হলের বারান্দায় ফাটল: পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠন

ঢাবির হলের বারান্দায় ফাটল: পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠন

জয় তো দূরে থাক, গোলই পাচ্ছে না বার্সেলোনা

জয় তো দূরে থাক, গোলই পাচ্ছে না বার্সেলোনা

© 2021 Bangla Tribune